ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
১৯ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল সিয়াটলে স্বাগতিকদের সামনে অস্ট্রেলিয়া চ্যালেঞ্জ ট্রাম্পের ধন্যবাদ পুতিন-শিকে তবু হাইতিকে নিয়ে সতর্ক ব্রাজিল কেমন গেল বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড ১৯ জুন ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি স্কটিশদের হিসাব মেলানোর রাত পুলিসিচকে ঘিরে উদ্বেগ লাল কার্ডের পর বসনিয়ার জালে সুইজারল্যান্ডের গোল উৎসব অসুস্থ মেসির বাবা, গুজব ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ পরিবার গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে সুইজারল্যান্ড-বসনিয়া অবশেষে কাটল ভিসা জটিলতা, কানাডায় খেলতে পারবেন ওয়াহি বিশ্বকাপে সহজ ম্যাচ বলে কিছু নেই: ডগলাস সান্তোস বিশ্বকাপে সৌদি আরবের জন্য ভিন্ন নিয়ম পেনাল্টি গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে রুখে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা অপ্সরার আন্তর্জাতিক অভিষেক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি সদস্য, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি মেনে নাও, মেসি সেরা: রোনালদো নাজারিও কেইনের প্রেরণা এমবাপ্পে-হালান্ড কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী টুকুর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে চেক প্রজাতন্ত্র টাকার অভাবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত, সহায়তার আবেদন রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নেইমার ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ সাবেক মন্ত্রী হারুণ অর রশীদ অর নেই কুমিল্লায় মাদক মামলায় কারাবন্দি যুবদলকর্মীর মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাইতির বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিলকে সুখবর দিল ফিফা

খবরের কাগজে সংবাদ প্রকাশ শিশু গোপালের পাশে দাঁড়াল প্রশাসন

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৫, ০২:৪৪ পিএম
শিশু গোপালের পাশে দাঁড়াল প্রশাসন
মা সনচড়ি সাঁওতালের কোনো গোপাল সাঁওতাল

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সাড়ে তিন বছরের প্রতিবন্ধী সেই শিশু গোপাল সাঁওতালের পাশে দাঁড়াল জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। গোপালের বাড়িতে প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য সুবর্ণ নাগরিক কার্ড নিয়ে গেলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন। 

গত সোমবার (১৬ জুন) বিকেলে কর্মধা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী মুরইছড়া চা-বাগানের বাসিন্দা অনিল সাঁওতাল ও সনচড়ি সাঁওতালের একমাত্র শিশুসন্তান গোপাল সাঁওতালকে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে এক দিনের মধ্যে সুবর্ণ নাগরিক কার্ডের ব্যবস্থা করে সেটি তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার প্রাণেশ চন্দ্র বর্মা, কর্মধা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ, ইউপি সদস্য সিলভেস্টার পাটাং, ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

কুলাউড়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এখন থেকে নিয়মিত ভিত্তিতে সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতাপ্রাপ্ত হবে শিশুটি। এ ছাড়া শিশুটির চিকিৎসার বিষয়ে পরিবারটিকে সার্বিক ব্যবস্থা জানানো হয়। শিগগিরই জেলা প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র থেকে চিকিৎসা উপকরণ দেওয়া এবং বিনামূল্যে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হবে।

এদিকে শিশু গোপালের বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর পরপরই মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেন এবং কুলাউড়ার ইউএনও মো. মহিউদ্দিন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আমলে নেন। পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা প্রাণেশ চন্দ্র বর্মা শিশুটির পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাদের উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে নিয়ে আসেন এবং সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন।

বিষয়টি নিয়ে গত সোমবার (১৬ জুন) দৈনিক খবরের কাগজে ‘গর্তে বন্দি শিশুর জীবন’ শিরোনামে একটি সংবাদ ও মানবিক ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এত দিন কেউ পাশে দাঁড়ায়নি, এখন মনে হচ্ছে আমাদের সন্তান বাঁচার একটি সুযোগ পাবে জানিয়ে গোপালের বাবা অনিল সাঁওতাল ও মা সনচড়ি সাঁওতাল বলেন, ‘আমাদের সন্তানের বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রশাসনসহ অনেকেই সহায়তার জন্য এগিয়ে এসেছেন। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘শিশুটির জন্মনিবন্ধন এবং মায়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় প্রথমে কিছু জটিলতা থাকলেও দ্রুততার সঙ্গে তা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সমাধান করা হয়। এখন থেকে নিয়মিত ভিত্তিতে সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা প্রাপ্ত হবে শিশুটি। এ ছাড়া শিশুটির চিকিৎসার বিষয়ে পরিবারটিকে সার্বিক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়। শিগগিরই জেলা প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ দেওয়া এবং বিনামূল্যে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হবে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘রোগী কল্যাণ সমিতি থেকে আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে। শিশু গোপালের চিকিৎসা শেষ না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজখবর রাখা হবে।’

কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী মুরইছড়া চা-বাগানের শ্রমিক অনিল সাঁওতাল ও গৃহিণী সনচড়ি সাঁওতালের একমাত্র সন্তান গোপাল জন্ম থেকেই শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী। শিশুটি স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াতে বা বসতে পারে না। দীর্ঘদিন ধরে কোনো চিকিৎসা না পেয়ে, ঘরের মেঝেতে গর্ত করে সেখানে গোপালকে দাঁড় করিয়ে রাখেন মা। তার কান্না থামাতে ও খাবার খাওয়াতে এভাবে সন্তানকে রাখতে বাধ্য হন তিনি।

অভাব-অনটনের সংসারে জন্ম নিলেও গোপালকে নিয়ে মা-বাবার অনেক স্বপ্ন। খেয়ে না খেয়ে শিশু গোপালকে নিয়ে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন স্বজনরা। স্বপ্ন থাকা সত্ত্বেও দারিদ্র্যের কাছে সেই স্বপ্ন থমকে যাচ্ছে তাদের। সবার সহযোগিতায় তাদের সন্তান সুস্থ হয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করবে, এটাই তাদের স্বপ্ন।

গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি সদস্য, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম
গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি সদস্য, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও সোনারগাঁও উপজেলার সীমান্তবর্তী শান্তিরবাজার এলাকায় গণপিটুনির শিকার হয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দক্ষিণ বিভাগের তিন সদস্য। পরে আড়াইহাজার থানা-পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন, ওই তিনজন নিজেদের পুলিশ পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করতেন। তবে পুলিশের দাবি, তাঁরা একটি মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিবি দক্ষিণ বিভাগের চার সদস্যের একটি দল রূপগঞ্জের গাউছিয়া এলাকায় একটি মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে যায়। এ সময় আসামিপক্ষের লোকজন তাঁদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তিন সদস্যকে মারধর করে একটি পিকআপে তুলে আড়াইহাজার উপজেলার উচিতপুরা ইউনিয়নের শান্তিরবাজার এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের আবারও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আহত ব্যক্তিরা হলেন উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন, এএসআই আমান ও কনস্টেবল কবির। তারা কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় কর্মরত বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ডিবির আরেক সদস্য কনস্টেবল আকাশ আহমেদ হামলার সময় পাশের একটি ওয়াশরুমে থাকায় রক্ষা পান। পরে তিনি তাদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাস নিয়ে আড়াইহাজার থানায় গিয়ে বিষয়টি জানান।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে ওই ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় নানা অভিযোগ ছিল। ঘটনার দিন তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় লোকজন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। একপর্যায়ে অনেকে তাদের ভুয়া ডিবি সদস্য সন্দেহে আটক করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের মারধর করে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইল বা অর্থ আদায়ের অভিযোগ থাকলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কাউকে আটক করে চোখ বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা কেন ঘটেছে এবং এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

নারায়ণগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) মেহেদী ইসলাম বলেন, ডিবি সদস্যরা কী উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন এবং পুরো ঘটনার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

মো: ইমরান হোসেন/এসএন

কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:১২ পিএম
কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় আলোচিত ধর্ষণকাণ্ডে গ্রেপ্তার জিসান মিয়ার মামলা নিয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী ও অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (জিপি-পিপি) মো. ফারুক হোসাইন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে ওই চিঠিতে নিয়োগ বাতিলের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

চিঠির অনুলিপি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা ও দায়রা জজ, পাবলিক প্রসিকিউটরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে আইন ও বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশের জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর জারি করা নিয়োগ সংক্রান্ত স্মারকের মাধ্যমে তাদের যে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছিল, নির্দেশিত হয়ে তাদের নিয়োগ সংক্রান্ত আদেশ বাতিল করা হলো।

একাধিক সূত্র জানায়, সম্প্রতি দেশব্যাপী আলোচিত ও ধর্ষণকাণ্ডে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়া ছাত্রশিবির নেতা জিসান মিয়ার পক্ষে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে ছিলেন ওই দুই আইনজীবি। ওই বক্তব্যের কারণেই তাদেরকে এপিপির নিয়োগ বাতিল করা হয়।  

এ বিষয়ে এপিপি অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারি বিকালে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অধিকাংশ এপিপি নিজ আদালতের বাইরে আসামি পক্ষে সব ধরনের মামলা পরিচালনা করছেন, এর প্রমানও আছে। আমরা দুই এপিপি আসামির পক্ষে ওকালতনামায় স্বাক্ষর দিতে হয়নি। জিসানের পক্ষে তার ভাই অ্যাডভোকেট রাসেল আহমেদ ওকালত নামায় স্বাক্ষর করেছেন। আমরা শুধু আসামির পক্ষে আদালতের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেছিলাম। তবে এ কারণে আমাদের নিয়োগ বাতিল করা করা হয়েছে কিনা চিঠিতে  তেমন কিছু উল্লেখ নেই।

এদিকে আদালত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে ‘সরকার নিযুক্ত একজন এপিপি কোন মামলার বিষয়ে সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে (মিডিয়া) এভাবে বক্তব্য রাখতে পারেন না। তাই কেউ হয়তো আইন মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি অবহিত করার পরই দুই জনের নিয়োগ বাতিলের  সিদ্ধান্ত আসে।

কুমিল্লা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুলহ হক রিংকু বলেন, আমরা পিপি এবং এপিপিরা কি করতে পারবো আর কি পারবো না, তা বিধিতে বলা আছে। সরকারের নিযুক্ত হয়ে এপিপিরা সরকারের বিরুদ্ধে কোন মামলায় বক্তব্য দেয়ার সুযোগ নেই। আমাদের এপিপি দুই সহকর্মীকে পদ থেকে প্রত্যাহারের চিঠি পেয়ে দুপুরে তাদের নিকট পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, এর আগে গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকালে জিসানকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩নং আমলী আদালতের বিচারক তৈয়ব উদ্দিনের আদালতে হাজির করা হয়। পরে তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন বিচারক। এ সময় আদালত প্রাঙ্গনে আসামি পক্ষে এপিপি মনির হোসেন পাটোয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুরু থেকেই পুলিশ মামলা নিয়ে লুকোচুরি খেলছে। মামলার শুনানী করতে আইনজীবীদের ওকালত নামায় স্বাক্ষর নেয়ার সুযোগ না দিয়ে পুলিশ জিসানকে কারাগারে নিয়ে গেছে। ধর্ষণ মামলার অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা আদালতে জিসানের সুচিকিৎসার আবেদন করেছি। অপর এপিপি সাইদুল ইসলামও অনুরুপ বক্তব্য দেন।

প্রসঙ্গত, গত ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) রাতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা পশ্চিম অঞ্চলের সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধান নিখোঁজ হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। পরদিন এ বিষয়ে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয় দাউদকান্দি মডেল থানায়। ডায়েরি করার দিন রাত ৮টা-৯টার দিকে জেলার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারী বাদি হয়ে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই নারী উল্লেখ করেন, গত ৫-৬ মাস আগে শিবির নেতা জিসানের সঙ্গে ওই নারীর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে দুইজন প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। গত ২০ মে শিবির নেতা জিসান তার দাউদকান্দির ভাড়া বাসায় নিয়ে ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করেন। পরে ওই নারী গর্ভবতী হয়ে পড়লে জিসান বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ দেন। জিসান তার চাচাতো ভাই সজীবকে দিয়ে বাচ্চা নষ্ট করার ওষুধ পাঠান। ওই নারীর রক্তক্ষরণ শুরু হলে তা পুনরায় সজীবকে জানান তিনি। জিসান সজীবকে দিয়ে পুনরায় ওষুধ পাঠান। পরে ওই নারী সুস্থ হয়ে উঠে জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

শুক্রবার (১২ জুন) উভয়ের বিয়ের কথা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে সেই বিয়ে থেকে বিরত থাকতেই নিখোঁজের নাটক সাজান শিবির নেতা জিসান। শনিবার (১৩ জুন) সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে জিসানকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।

জহির শান্ত/এসএন

টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী টুকুর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:০৮ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:১৩ পিএম
টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী টুকুর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১
ছবি: খবরের কাগজ।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপির নাম ব্যবহার করে বাংলাদেশ পুলিশে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মো. এরশাদ আকন্দ (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা বাজার এলাকায় শাহবাগ থানা ও ভূঞাপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।

তিনি উপজেলার অর্জুনা বাজার এলাকার বাসিন্দা।

বুধবার (১৭ জুন) রাতে রাজধানীর শাহবাগ থানায় প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার খাষ ঘুনিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. রাজা মন্ডল।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) আব্দুল গাফফার হিমেল জানান, এরশাদ আকন্দ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে আরও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রাজা মন্ডলের ছেলেকে পুলিশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পরিচয় ব্যবহার করে অভিযুক্তরা।

চাকরি দেওয়ার বিনিময়ে তিনি ১২ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে গত ৪ মে রাজধানীর শাহবাগ এলাকার একটি হোটেলের রেস্টুরেন্টে রাজা মন্ডলের কাছ থেকে নগদ ৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা গ্রহণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি অর্থ চাকরি হওয়ার পরে দেওয়ার কথা ছিল।

তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও চাকরির ব্যবস্থা করতে না পারায় ভুক্তভোগী টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ হয়ে যায়। তাই ভুক্তভোগী বুধবার (১৭ জুন) রাতে থানায় মামলা করেন।

শাহবাগ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গ্রেপ্তারকৃত এরশাদ আকন্দ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে শুক্রবার সকালে আদালতে প্রেরণ করা হবে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জুয়েল/আমান

টাকার অভাবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত, সহায়তার আবেদন

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
টাকার অভাবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত, সহায়তার আবেদন
ছবি: সংগৃহীত

দারিদ্র্য কখনো কখনো মানুষের স্বপ্নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তেমনই এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন বান্দরবানের দুর্গম এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থী উখ্যাইংওয়ং মারমা। দীর্ঘ সংগ্রাম, কঠোর পরিশ্রম ও মেধার স্বাক্ষর রেখে তিনি দেশের অন্যতম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়-এর বিবিএ (মার্কেটিং) বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম চান্দা হেডম্যান পাড়া গ্রামের বাসিন্দা উখ্যাইংওয়ং মারমা। সীমিত আয়ের পরিবারে জন্ম নেওয়া এই শিক্ষার্থী ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছেন। জীবনের অনেকটা সময় তিনি সরকারি শিশু সদনে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। প্রতিকূল পরিবেশ সত্ত্বেও তিনি কখনো শিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন থেকে সরে যাননি।

উখ্যাইংওয়ং জানান, ২০২৩ সালে ফরহাদাবাদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি জিপিএ ৪.৬১ অর্জন করেন। পরে ২০২৫ সালে হাটহাজারী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.২৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। ধারাবাহিক এই সাফল্যের ফল হিসেবে তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধাতালিকায় ৩৫৩৯তম স্থান অর্জন করেন এবং বিবিএ (মার্কেটিং) বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ভর্তি ফি, আবাসন, যাতায়াতসহ প্রাথমিক খরচ মিলিয়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকার প্রয়োজন। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব না হওয়ায় এখনো ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেননি তিনি।

কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে উখ্যাইংওয়ং বলেন, "পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন নিয়ে নিজের মেধা আর পরিশ্রমের ওপর ভর করে এতদূর এসেছি। কিন্তু এখন অর্থের অভাবে যদি ভর্তি হতে না পারি, তাহলে শুধু আমার নয়, আমার বাবা-মায়েরও বহুদিনের স্বপ্ন ভেঙে যাবে। আমি চাই পড়াশোনা করে সমাজ ও দেশের জন্য কিছু করতে।"

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, উখ্যাইংওয়ং মারমার মতো মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও মানবিক মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। সামান্য আর্থিক সহায়তা একটি মেধাবী তরুণের জীবন বদলে দিতে পারে এবং তাকে দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।

বর্তমানে উখ্যাইংওয়ং মারমা তার ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তি, দাতা সংস্থা ও বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। সময়মতো প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা না হলে তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থমকে যেতে পারে।

মেধা ও ইচ্ছাশক্তি থাকা সত্ত্বেও যেন অর্থের অভাবে একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ হারিয়ে না যায়— এমনটাই প্রত্যাশা তার পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।

রিজভী রাহাত/নাঈম

রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
অভিযুক্ত মাসুদ খান/ ছবি: খবরের কাগজ

রাজবাড়ীতে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আপন ফুফাকে গ্রেপ্তার করেছে রাজবাড়ী সদর থানার পুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে রাজধানী ঢাকার হাতিরঝিল এলাকা থেকে অভিযুক্ত মাসুদ মন্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযুক্ত বালিয়াকান্দি উপজেলার রামদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্র জানায়, কোরবানীর ঈদের আগে মাসুদ খান শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যায়। ২৭ মে শিশুটিকে ঘরে রেখে তার মা বাইরে কাজ করতে যাওয়ার সুযোগে এ ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় শিশুর মা বাদী হয়ে ২ জুন তারিখে রাজবাড়ী সদর থানায় মামলা করেন।

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানান, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার একমাত্র আসামি মাসুদ মন্ডলের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর রাজধানী ঢাকার ডিএমপির হাতিঝিল থানা এলাকা হতে তাকে গ্রেপ্তার করে রাজবাড়ী আনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে তাকে রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়।

সুমন/আমান