রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বুধবার (১৮ জুন) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে করোনাভাইরাস শনাক্তে পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপপরিচালক মো. ওয়াজেদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্বাস্থ্য উপ-পরিচালক জানিয়েছেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিকভাবে ৪০০টি করোনা শনাক্তকরণ কিট সরবরাহ করা হয়েছে। ধাপে ধাপে বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালেও পরীক্ষার ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
ওয়াজেদ আলী আরও বলেন, ‘আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সক্ষমতা রয়েছে। এখন পর্যন্ত রংপুর বিভাগে কোনো করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনা পরীক্ষার আওতা বাড়ানো গেলে দ্রুত সংক্রমণ শনাক্ত ও প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। এ জন্য স্থানীয় হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
রংপুর সিভিল সার্জন ডা. শাহিন সুলতানা বলেন, ‘করোনার সংক্রমণ বাড়লেও জনগণকে আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। আক্রান্ত রোগীর জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসোলেশন বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। আমরা আগেও করোনা মোকাবিলা করেছি। এবারও পারব। শুধু সচেতন থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, অপ্রয়োজনে ভিড় এড়িয়ে চলা ও সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন মাধ্যমে এ নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণাও চলছে।’
রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. শরিফুল ইসলাম বলেছেন, প্রাথমিকভাবে হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১০টি বেড প্রস্তুতের কাজ চলছে। ‘আইসিইউ বেড’ প্রয়োজন হলে হাসপাতালেই বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি হলে আগের মতো সদর হাসপাতাল-সংলগ্ন আলাদা করোনা হাসপাতাল ও পর্যাপ্ত আইসিইউ বেড প্রস্তুতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হবে।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় জানিয়েছে, ২০২২ সালের ৮ অক্টোবর থেকে রংপুর বিভাগে করোনা সংক্রমণের হার শূন্যের কোটায় নেমে আসতে থাকে। প্রায় তিন বছর ধরে এই অঞ্চলে করোনা শনাক্তের হার শূন্যের কোটায় রয়েছে। সূত্র: বাসস