ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান বিশ্বকাপে বড় ধাক্কা খেল আইভরি কোস্ট, কানাডার ভিসা পেলেন না ওয়াহি মাগুরায় নবজাতককে বিক্রি করলেন বাবা পরীমনিকাণ্ডে এডিসি সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসর এসএসসি ফল ঘোষণা ২০ জুলাই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী কুড়িগ্রামে ১২ ঘণ্টা পর রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জাবির কর্মচারীদের অবস্থান মানিকগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষ, নিহত ২ সিলেটে ৩৬ ঘণ্টায় ১২২.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড সংসদে মামুনুল হক প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার টঙ্গীতে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার নেপালের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি চায় বাংলাদেশ চুয়াডাঙ্গায় ট্রেন-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২ সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান সেনাপ্রধানের উখিয়ায় আইওএমের গাড়ির চাপায় অজ্ঞাত শিশুর মৃত্যু ভার্চুয়াল জুয়ার ফাঁদে সমাজ এসএসএফকে জনগণের সঙ্গে সংযোগ অটুট রাখার নির্দেশ তারেক রহমানের গানেই লিজার ব্যস্ততা প্রয়াত বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের নামে আমন্ত্রণপত্র আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ আবার জ্বলে ওঠো জার্মানি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২০০ জাতের আম নিয়ে মেলা শুরু পাহাড়, বন আর নীল জলের অপূর্ব মিলন ৪টি চলচ্চিত্র নিয়ে ‘সামার বাংলা হিট ফেস্ট’ তিন নাটকে প্রশংসিত হিমি পুশ-ইন সমস্যা সমাধানের দাবিতে সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের প্রবাসী নিহত তপ্ত গরমে পশুপাখির প্রতি সদয় হোন

স্বামীকে খেয়েছে বাঘ, সমাজ কেড়েছে মর্যাদা

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৫, ০৩:৪৩ পিএম
আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২৫, ০৩:৫৮ পিএম
স্বামীকে খেয়েছে বাঘ, সমাজ কেড়েছে মর্যাদা
ছবি: খবরের কাগজ

সুন্দরবন তাদের কাছে কেবল একটি বন ছিল না, ছিল সংসার টিকিয়ে রাখার উৎস। কিন্তু সেই বনের গহিনে ঢুকে তাদের প্রিয় মানুষগুলো আর ফিরে আসেনি। এমন এক হাজারের বেশি নারী আছেন, যাদের নাম নেই সরকারি হিসাবের পাতায়। তবে তাদের পরিচয় আজ কেবল একটি শব্দের মধ্যে সিমাবদ্ধ। তারা ‘বাঘ-বিধবা’।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের গাবুরা, মুন্সীগঞ্জ, বুড়িগোয়ালিনীসহ উপকূলঘেঁষা গ্রামগুলোতে এমন শত শত নারী আছেন, যারা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের হামলায় প্রাণপ্রিয় স্বামীকে হারিয়েছেন। কারও স্বামী মারা গেছেন মাছ ধরতে গিয়ে, কেউ আবার মধু আনতে বনে পাঠানো স্বামীর লাশটিও ফিরে পাননি। কিন্তু প্রিয়জন হারানো এ নারীদের কপালে জুটেছে অপয়া, অলক্ষ্মী, স্বামীখেকো আর ডাইনির মতো অপবাদ। তাদের জন্য নেই কোনো সহানুভূতি, সান্ত্বনা, কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি। যারা বেঁচে আছেন তাদের কাটে নিঃসঙ্গ জীবন।

শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জ জেলেপাড়ার আলোচিত নাম সোনামণি দাশী (৬৮)। তার জীবনের গল্পের প্রতিটি পাতা যেন বিষাদে ভরা। ১৯৯৯ সালে সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে বাঘের কবলে পড়েন তার প্রথম স্বামী রাধাকান্ত সরদার। সঙ্গীরা তার লাশও খুঁজে পাননি। স্বামী হারানোর শোকে যখন তিনি মুহ্যমান, তখন তার কোলে ছিল এক মাস বয়সী সন্তান। অথচ শাশুড়ি তাকে অপয়া অপবাদ দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। বাবার বাড়িতেও ঠাঁই হয়নি তার। অপমান আর চোখের অশ্রুকে সঙ্গী করে থাকতে হয়েছে দেবরের ঘরে। এরপর দেবর ভূবেন সরদারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কিছুটা আশার আলো দেখেছিলেন। কিন্তু ২০০৯ সালে আইলার পরপরই ভূবেনও সুন্দরবনে গিয়ে বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারান। তার লাশও পাওয়া যায়নি।

দ্বিতীয়বার বিধবা হয়ে সোনামণি অকুল পাথারে পড়েন। পেট চালাতে তিনি নিজেই কাজে নামেন। মাছ ধরেন, মানুষের বাড়িতে কাজ করেন, মাটি কাটেন। মেয়েদের বিয়ে দেন। এখন বয়সের ভারে এসব কাজ আর করতে পারেন না। বলেন, ‘এ জীবন তো মৃত্যুর মতোই। স্বামী বাঘের পেটে গেল, আমাকেও রেখে গেল মরার মতো।’

এখন তিনি স্থানীয় মুন্সীগঞ্জ বাজারে দোকানিদের ছোটখাটো কাজে সাহায্য করেন। বিনিময়ে মেলে সামান্য চাল-ডাল-পেঁয়াজ। বর্তমানে সংসার কীভাবে চলে জানতে চাইলে বলেন, ‘আমার আর সংসার! একলা জীবন! আগে গাঙে (নদীতে) জাল টেনে মাছ-কাঁকড়া ধরে, ঘেরে মাটি কাটার কাজ করে খেতাম। এখন আর শরীরে পেরে ওঠে না। তাই মুন্সীগঞ্জ বাজারে দোকানদারদের একটু কাজ করে দিই। তাতে তারা একটু ঝাল-পেঁয়াজ দেয়।’

সোনামণির অভিযোগ, সরকার থেকে তাকেসহ তার প্রতিবেশী আরও তিনজনকে কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। তাদের বলা হয়েছিল ২০০২ সালে যাদের স্বামী মারা গেছে তারা অনুদান পাবেন। তাদের ফরেস্টার অফিসে আবেদন করতে বলা হয়। আবেদনও করেছিলেন, কিন্তু কোনো সহযোগিতা পাননি। এখন তাদের থাকার জায়গা নেই। সরকার থেকে একটি করে ঘরের প্রত্যাশা তাদের।

মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের জেলেপাড়ায় বাসিন্দা বলি দাশী। তার অবস্থাও সোনামণির মতো। ২০০২ সালে তার স্বামী অরুণ মণ্ডল বাঘের আক্রমনে মারা যান। তাকেও স্বামীর মৃত্যুর পর ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘আমাকে শাশুড়ি ঘর থেকে তাড়িয়ে দিল। ভাইয়ের বাড়িতে জায়গা পেলাম ঠিকই, কিন্তু সে জীবন বড় যন্ত্রণার। পরে নদীতে রেণুপোনা ধরে সন্তানদের বড় করেছি। আজও একই কাজ করে জীবন চালাই।’ তার দেবরও একইভাবে বাঘের শিকার হন। তার স্ত্রী দীপালীরও বাবার বাড়িতে ঠাঁই হয়নি।

শুধু এ দুজনই নয়- শ্যামনগরের প্রতিটি গ্রামে ঘুরলে এমন অনেক সোনামণিদের দেখা মেলে। একেকটি মুখ যেন একেকটি গল্প। তাদের সবার জীবন কাটছে অপবাদ আর দরিদ্রকে সঙ্গী করে।

জানা গেছে, সাতক্ষীরা উপকূলের দেড় লক্ষাধিক মানুষ সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। এই বনে বাঘের আক্রমণে নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবে কম। শুধু ২০০৯ সালে ১২০ জন বনজীবী মারা গেছেন বলে সরকারি হিসাব বললেও স্থানীয়রা বলছেন, এ সংখ্যা অনেক বেশি। অনেকে পাস ছাড়াই বা অন্যের নামে বনে যান, ফলে তাদের মৃত্যু সরকারি খাতায় ওঠে না।

বেসরকারি সংস্থা লিডার্স জানিয়েছে, উপকূল অঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ১৬৩ জন ‘বাঘ-বিধবা’ নারী আছেন। এর মধ্যে গাবুরায় ১০৯ জন, বুড়িগোয়ালিনীতে ৩৯ জন, মুন্সীগঞ্জে ১০৭ জন, রমজাননগরে ৪১ জনসহ সুন্দরবনসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় বাঘ-বিধবারা থাকেন। অন্যদিকে সরকারি হিসাবে স্বীকৃত ‘বাঘ-বিধবা’ সংখ্যা মাত্র সাতজন।

পীযূষ বাওয়ালিয়া পিন্টু। তিনি বাঘ-বিধবাদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তার মতে, ‘আগে আহতদের ৫০ হাজার আর নিহতদের ক্ষতিপূরণ ১ লাখ টাকা ছিল। এখন সেটা ৩ লাখ হয়েছে। আহত হলে ১ লাখ। কিন্তু যারা অন্যের পাসে বা অবৈধভাবে বনে যান, তারা কোনো ক্ষতিপূরণ পান না।’

উপকূলীয় এলাকার উন্নয়ন সংস্থা ‘সিডিও ইয়ুথ টিম’র উপজেলা সিনিয়র ভলান্টিয়ার হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাঘ-বিধবাদের সহায়তায় সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে আমাদের ৬০০ ভলান্টিয়ার রয়েছেন। ১৭টি ইউনিট নিয়ে আমরা বাঘ-বিধবাদের প্রতি সমাজের নেতিবাচক মনোভাব রোধে কাজ করি। এ ছাড়া তাদের কয়েকজনকে সেলাই মেশিন ও নৌকাসহ পানির প্লান্ট তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষ অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকি।’

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রনী খাতুন জানান, সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় যেসব বাঘ-বিধবা নারী আছেন তাদের ভাতার ব্যাপারে আগে অগ্রধিকার দেওয়ার কথা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। সরকারের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসন তাদের পুনর্বাসনে উদ্যোগ নেবে। তা ছাড়া কিছু এনজিও তাদের নিয়ে কাজ করছে।

কুড়িগ্রামে ১২ ঘণ্টা পর রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:২১ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:২২ পিএম
কুড়িগ্রামে ১২ ঘণ্টা পর রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক
ছবি: খবরের কাগজ

কুড়িগ্রামের রাজারহাটের রেললাইনের ওপর বালুভর্তি ট্রাক উল্টে পড়ার কারণে রেলযোগাযোগ বন্ধ ছিল। পরে প্রায় ১২ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মি‌নি‌টের দিকে রেললাইন থেকে বালু সরিয়ে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু করে কর্তৃপক্ষ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, কুড়িগ্রাম রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার মোশারফ হোসেন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ১০ মিনিটে রাজারহাট উপজেলার পেট্রল পাম্প সংলগ্ন এলাকায় একটি বালুভর্তি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেললাইনের ওপর উল্টে পড়ে। এতে কুড়িগ্রামের সঙ্গে রেলযোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ঢাকাগামী কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ে কুড়িগ্রাম স্টেশনে পৌঁছাতে পারেনি। সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মি‌নি‌টে রমনা লোকাল ট্রেন‌টি তিস্তার অ‌ভিমু‌খে রওয়ানা ক‌রে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ট্রাকটি রেললাইনের ওপর উল্টে পড়ার পর পুরো রেলপথ ব্লক হয়ে যায়। ফলে কুড়িগ্রাম থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে এবং শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।

রেল চলাচল বন্ধ থাকায় অনেক যাত্রীকে বাস, অটোরিকশা ও সিএনজিযোগে তিস্তা রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে ট্রেনে উঠতে দেখা যায়। আকস্মিক এ পরিস্থিতিতে অনেককে অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হয়েছে।

কুড়িগ্রাম রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার মোশারফ হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর ট্রাক ও বালু অপসারণ করা হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মি‌নি‌টের দিকে রেললাইন সম্পূর্ণ সচল করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে কুড়িগ্রামের সঙ্গে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। 

সিরাজ/নাঈম

মানিকগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষ, নিহত ২

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম
মানিকগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষ, নিহত ২
ছবি: খবরের কাগজ

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মূলজান এলাকায় ট্রাক ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে পিকআপ চালক ও তার সহযোগী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- ঢাকার সাভার উপজেলার ব্রাহ্মণবাড়িয়া গ্রামের মো. আলমের ছেলে রাসেল মিয়া, তিনি পিকআপের চালক ছিলেন এবং একই গ্রামের মো. কাউসারের ছেলে মো. আরাফাত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় আরিচাগামী একটি পিকআপের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পিকআপ চালক ও তার সহযোগী নিহত হন।

দুর্ঘটনায় পিকআপে থাকা আরও দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

গোলড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম মাতবর জানান, ‘দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও পিকআপ জব্দ করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও তার সহযোগী পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।’

আসাদ/আমান

সিলেটে ৩৬ ঘণ্টায় ১২২.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
সিলেটে ৩৬ ঘণ্টায় ১২২.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট অঞ্চলে গত ৩৬ ঘন্টায় ১২২.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করে সিলেট আবহাওয়া অফিস।

গত ৩৬ ঘন্টায় সিলেটের অনেক স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হয়েছে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টা সিলেট আবহাওয়া অফিসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয় বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টা পর্যন্ত ৪০.৮ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৮২ মিলি মিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সিলেট বিভাগে আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে সাময়িক মেঘাচ্ছন্ন। সিলেটে অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, সাথে সাময়িক দমকা হাওয়া এবং বজ্রপাত হতে পারে।

কিছু কিছু জায়গায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতও হতে পারে। এলাকায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, এখন বৃষ্টিপাত হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে সিলেটে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে তাই সবাইকে সর্তক থাকতে হবে।

আমান/

চুয়াডাঙ্গায় ট্রেন-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
চুয়াডাঙ্গায় ট্রেন-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২
ছবি: খবরের কাগজ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দুধপাতিলা রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) শেষ বিকেলে দুধপাতিলা গ্রামের রেলক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি মোটরসাইকেল রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় চলন্ত ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলে থাকা দুজন মারা যান। এ সময় কাদের (২২) নামে আরও একজন গুরুতর আহত হন। আহত কাদের ডুগডুগি কলোনি পাড়ার রহিদুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয়রা আহত কাদেরকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যায়নি। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম শুরু করেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন, চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জগদীশ চন্দ্র বসু।

মিজানুর রহমান/নাঈম

উখিয়ায় আইওএমের গাড়ির চাপায় অজ্ঞাত শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
উখিয়ায় আইওএমের গাড়ির চাপায় অজ্ঞাত শিশুর মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ায় রাস্তা পারাপারের সময় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) একটি গাড়ির চাপায় অজ্ঞাত এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটিকে জব্দ করেছে পুলিশ এবং চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা ৩টার দিকে শহিদ এটিএম জাফর আলম আরাকান সড়কের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের উখিয়ারঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

শাহপরীর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, নিহত শিশুটির বয়স আনুমানিক ১২ বছর। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

আটক চালক মো. ইসহাক মিন্টু (৪০) কক্সবাজার শহরের বাসিন্দা। তিনি আইওএমের কর্মীদের বহনকারী গাড়িটি চালাচ্ছিলেন।

স্থানীয়দের বরাতে ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বিকেলে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা থেকে আইওএমের কর্মীদের নিয়ে একটি গাড়ি কক্সবাজার শহরের দিকে ফিরছিল। উখিয়ারঘাট এলাকায় পৌঁছালে রাস্তা পার হওয়ার সময় গাড়িটি শিশুটিকে ধাক্কা দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি জব্দ করা হয় এবং চালককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

ওসি সাইফুল আরও বলেন, নিহত শিশুর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তারেকুর রহমান/নাঈম