নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভুলতা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সুরাইয়া পারভীনের বিরুদ্ধে গোপনে সরকারি বই বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বই চুরি করে বিক্রির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ভাইরাল হয়। এরপর এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গতকাল মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার ভুলতা স্কুল এন্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে। বই বিক্রির সময় স্থানীয়দের হাতে অধ্যক্ষ, পিকআপ চালক ও চোরাই বই ক্রেতা আটক হলেও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সিদ্দিক নূরে আলম মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। এতে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে একটি নীল রংয়ের পিকআপ ট্রাক ভুলতা স্কুল এন্ড কলেজে প্রবেশ করেন। অধ্যক্ষ সুরাইয়া পারভীন স্টোর রুম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণির নতুন সব বই কেজি দরে বিক্রি করেন। পিকআপ চালক হেদায়েত উল্লাহ ও বই ক্রেতা মিলে সকল বই পিকআপে তুলে ফেলেন। বিকেলের দিকে স্থানীয়রা বই বিক্রির বিষয়টি টের পেয়ে অধ্যক্ষ সুরাইয়া পারভীন ও বই ক্রেতাকে হাতেনাতে আটক করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সিদ্দিক নূরে আলমকে খবর দেন।
পরে সন্ধ্যার দিকে শিক্ষা অফিসার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়ে বই পুনরায় পিকআপ থেকে নামিয়ে স্টোর রুমে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বই স্টোর রুমে নামানোর নির্দেশ প্রদান করলেও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে শিক্ষা অফিসার সিদ্দিক নূরে আলম অধ্যক্ষ, বই ক্রেতা ও পিকআপ চালকের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা আরও জানান, গত বছরের ৫ আগস্ট ভুলতা স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। আউয়ালের বিরুদ্ধে স্কুলের ১৬ কোটি টাকা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ভিত্তিতে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে সুরাইরা পারভীন ভুলতা স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন।
গত কয়েকদিন আগে সুরাইয়া বেগমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় সিনিয়র শিক্ষক বিমল দাসকে কোনো নোটিশ ছাড়াই বরখাস্ত করা হয়েছে। সুরাইয়া বেগমের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
ভুলতা স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা বলেন, পর্যাপ্ত বই নেই বলে আমাদেরকে বই দেওয়া হয়নি। অথচ এখন দেখতে পাচ্ছি বই কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যদি অধ্যক্ষ সুরাইয়া বেগমের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেওয়া হয় তাদের আমরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করব।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুরাইয়া পারভিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমাকে ফাঁসানোর জন্য একটি পক্ষ সবসময় ষড়যন্ত্র করে থাকে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সিদ্দিক নূরে আলম বলেন, নতুন পুরাতন মিলিয়ে প্রায় লাখ টাকার বই বিক্রিকালে জব্দ করা হয়। অধ্যক্ষ সুরাইয়া পারভীনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। টাকার বিনিময়ে ম্যানেজের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনাটি আমি শোনা মাত্রই মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশনা দিয়েছি ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের ব্যাপারে প্রতিবেদন দিতে। আগামী তিন দিনের মধ্যে একটি কমিটির মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় রিপোর্ট পাঠিয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনার সঙ্গে শিক্ষা অফিসের যদি কেউ জড়িত থাকে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
মো. রুবেল শিকদার/মাহফুজ