ময়মনসিংহের ফুলপুরে মালিঝি নদীর ওপর নির্মিত একটি বক্স কালভার্টের পাটাতনের মাটি সরে গেছে। এতে কালভার্টটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। যেকোনো সময় এটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবুও বাধ্য হয়ে কালভার্টটি দিয়ে ১০ গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করছেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলছেন, ২০২১-২২ অর্থবছরে অপরিকল্পিতভাবে নদী খননের কারণে মাটি সরে গিয়ে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ভাষ্য, কালভার্ট নির্মাণের আগে তাদের অনুমতি নেওয়া হয়নি। এটি বানানো হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে। সীমিত বাজেটের মধ্যে দায়সারাভাবে কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছে। এ কারণে মাটি সরে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে কালভার্টটির স্থায়ী মেরামত করা হবে।
সরেজমিনে উপজেলার ছনধরা ইউনিয়নের বাইসকাহনিয়া রামসোনা গ্রামে নদীর ওপর নির্মিত কালভার্টটিতে গিয়ে দেখা যায়, এটির ওপর দিয়ে তিন চাকার বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে। কেউ হেঁটে, আবার কেউ বাইসাইকেল চালিয়ে পারাপার হচ্ছে। তাদের মধ্যে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো মুহূর্তে কালভার্টটি ধসে পড়ার আতঙ্ক সবার চলাফেরার শারীরিক ভাষায় দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, কালভার্টটির আশপাশের গ্রামগুলোর মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। তারা এটি ব্যবহার করে উৎপাদিত ফসল পৌর বাজারসহ স্থানীয় বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন। গত মে মাসের আগাম বন্যার পানির স্রোতে কালভার্টটির তলার মাটি সরে গিয়ে অনেকটা ফাঁকা হয়ে যায়। এতে পাটাতন ও মাটির দূরত্ব বেড়েছে অন্তত এক ফুট। কালভার্টটির দুপাশেও ভাঙন সৃষ্টি হয়ে মাটি সরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এরই মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেওয়ায় উৎপাদিত ফসল নিতে কোনো ট্রাকচালক কালভার্টটি পার হয়ে আসতে চাইছেন না। তিন চাকার যানবাহনগুলো চলাচলের সময় এটি কেঁপে উঠছে। বৃষ্টি হলে কালভার্টের পাশসহ পাটাতনের তলার মাটি আরও সরে যাবে। এতে এটি ধসে পড়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
মালিঝি গ্রামের বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেছেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কালভার্টটি দিয়ে চলাচল করে। সবাই আতঙ্ক নিয়ে যাতায়াত করছে। দ্রুত মেরামতের মাধ্যমে এটি স্বাভাবিক চলাচলের উপযোগী করা হোক। বাইসকাহনিয়া গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ছোট যানবাহন চলাচল করলেই কালভার্টটি কাঁপতে শুরু করে। তাই ধসে পড়ার আশঙ্কায় বড় যানবাহন এর ওপর উঠতে চায় না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু-কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বক্স কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়। এর দৈর্ঘ্য ৩৬ ফুট ও প্রস্থ ১৪ ফুট। নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছে শুভ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২১-২২ অর্থবছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড মালিঝি নদী খনন করলে কালভার্টটির তলার মাটি সরে যায়। তাদের অপরিকল্পিত খননের কারণেই এমনটি হয়েছে। তবে ঝুঁকি বিবেচনায় চলতি বছরের শুরুতে মেরামতের জন্য ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। মেরামত করা হলেও মে মাসের আগাম বন্যার পানির স্রোতে আবারও পাটাতন থেকে মাটি সরে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশীষ কর্মকার বলেন, ‘কালভার্টটি স্থায়ীভাবে মেরামত করতে হবে। এতে অনেক টাকার প্রয়োজন। তাই মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদন করা হয়েছে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড ময়মনসিংহের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এসএম আবিদ হোসেন বলেছেন, ‘নদীর ওপর কালভার্ট ও সেতু নির্মাণের আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমোদন নিতে হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। নদী খনন করার সময় কালভার্টটির উভয় পাশে ২০ ফুট করে দূরত্ব বজায় রেখেছি। তবুও পানির স্রোতে পাটাতনের তলার মাটি সরে যায়। এর দায়ভার আমরা নেব না। কারণ, যে স্থানে কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছে, সেই স্থানে নদীর প্রস্থ ৮০ ফুট। সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে ৩৬ ফুট কালভার্ট। সীমিত বাজেটের মধ্যে দায়সারাভাবে কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া ইসলাম সীমা বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এনেছি। দ্রুতই এটি স্থায়ীভাবে মেরামত হবে।