রাঙামাটিতে বৃষ্টি আর উজানের ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে চার উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এতে ৮১ গ্রামের ২৩ হাজার ১২০ জন পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তাদের জন্য জেলায় ২৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলায় ১২ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন ৮৯৪ জন। জেলা ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যাদুর্গতদের জন্য ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই সপ্তাহ ধরে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিপাত আর উজানের ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বাড়ায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে রাঙামাটি সদর, লংগদু, বাঘাইছড়ি ও নানিয়ারচর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অনেক এলাকার যাতায়াত ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। এ ছাড়া জেলার বরকল, জুরাছড়ি ও কাপ্তাই উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
এরই মধ্যে জেলার দুই পৌরসভা ও চার উপজেলার ২০ ইউনিয়নে ৮১টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ৬ হাজার পরিবারের ২৩ হাজার ১২০ জন মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছেন। এ ছাড়া ৮৩৭ ঘরবাড়ি, ৬১টি সড়ক, ২৩৯ হেক্টর জমির ফসল, ৫৯টি মৎস্য খামার ও পুকুর, ৯টি হাটবাজার বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। তবে উজানের কিছু এলাকা থেকে পানি সরে যেতে শুরু করেছে।
রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানিয়েছেন, জেলায় ২৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এরই মধ্যে লংগদু ও বাঘাইছড়িতে ১২টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৮৯৪ জন উঠেছেন। এদের ত্রাণ হিসেবে শুকনো খাবার ও চাল দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ত্রাণের ৪০০ টন চাল মজুত রয়েছে। সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি নজর রাখা হচ্ছে।
এদিকে উজানের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত শুক্রবার কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১৬টি জলকপাট ৪২ ইঞ্চি (৩.৫ ফুট) খোলা ছিল। এমন পরিস্থিতিতেও কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল বিপৎসীমার ওপর। তবে দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানির উচ্চতা কিছুটা কমতে থাকে।
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানিয়েছেন, ১০৯ ফুট ধারণক্ষম হ্রদে গত শুক্রবার রাত দশটায় পানি ছিল ১০৮ দশমিক ৫৪ ফুট। ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে পানির উচ্চতা কমেছে শূন্য দশমিক ১২ পয়েন্ট। বেলা ১১টায় পানির উচ্চতা ছিল ১০৮ দশমিক ৪৩। বৃষ্টিপাত কমে এলে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানিয়েছেন, ১৬টি জলকপাট দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ৫৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন হচ্ছে। এতে কর্ণফুলী নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে চন্দ্রঘোনা ফেরি চলাচল দুই দিন ধরে বন্ধ। তবে বিকল্প সড়কে চলছে যানবাহন।