ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সংকট নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নিন কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেল্যার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা রোগী সেজে ইয়াবা পাচার, স্বামী-স্ত্রী আটক ফিলিপাইনে স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৩, আহত ৫ দুই দফা কমে ৪৪৩২ টাকা বাড়ল স্বর্ণের দাম প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন আনোয়ার ইব্রাহিম আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজধানীতে থাকবে ১৮০০০ পুলিশ মাদরাসা ছাত্রকে অমানুষিক নির্যাতন সাবেক এমপি সেলিমা আহমাদ মেরী মারা গেছেন টিভিতে আজকের খেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় ট্রাকের যন্ত্রাংশের চালান জব্দ, আটক ১ জুন মাসে ডিএমপির বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৫৩৭ লেবাননে যেকোনো হুমকি নির্মূলে স্বাধীন ইসরায়েলি সৈন্যরা: কাটজ পদত্যাগের মুখে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপিপুত্র সজীবকে যুবদল থেকে বহিষ্কার ভাঙ্গুড়ায় বিএনপি নেতার মারধর, ৪ ঘণ্টা পর কৃষকের মৃত্যু সেনেগালের কঠিন পরীক্ষা, নরওয়ের চোখ নক আউটে যমুনা ফিউচার পার্কে ২ দিনের ‘কে-গুডস ফেস্টা’ মালয়েশিয়ায় ‘হালাল’ পণ্য রপ্তানির অপার সম্ভাবনা কাতারের ভয়াবহ বিস্ফোরণ: আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮ হাজারীবাগ থেকে হেমায়েতপুর পূর্ণতা পায়নি চামড়া শিল্পনগরী শরীফাতুন্নিছা মহিলা মাদরাসার অভিভাবক সম্মেলন ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান কমিউনিটি ব্যাংকের ৭ম বার্ষিক সাধারণ সভা, নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারাল মিশর বর্ষা এলেই জলজট স্মার্টফোনের নতুন সেনসেশন ‘হেলিও ৪৬’ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করবে: জেডি ভ্যান্স দুপুরের মধ্যে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা মালেশিয়ায় শ্রমবাজার খোলার আশা আছে জটিলতাও

‘আগামী ১০ বছরের মধ্যে নিরাপদ পানির জন্য হাহাকার করবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ’

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৫, ০৬:৩৭ পিএম
‘আগামী ১০ বছরের মধ্যে নিরাপদ পানির জন্য হাহাকার করবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ’
বিশ্ব পানি সপ্তা উপলক্ষে বরিশালে পথ সখা ও র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবি: খবরের কাগজ

বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতিবছর গড়ে ১ দশমিক ৫ থেকে ২ মিটার কমছে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে নিরাপদ পানির জন্য মানুষের হাহাকার করতে হবে। উপকূলের প্রায় ৪৫ শতাংশ গ্রাম লবণাক্ত পানির ঝুঁকিতে। এটি কৃষি, মৎস্যচাষ, এমনকি নারীর স্বাস্থ্যকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। বরিশালে পানিসংকট শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং মানবসৃষ্ট ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতাও বড় কারণ। তাই জলাধার, খাল খনন ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে সরকারি প্রকল্প হাতে নেওয়ার মত দিয়েছেন বক্তারা। ‘উপকূল বাঁচাতে পানি বাঁচান’ এ স্লোগানে বিশ্ব পানি সপ্তাহ-২০২৫ উপলক্ষ্যে বরিশালে অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তারা এ মত দেন।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১১টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে প্রান্তজন ও পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (প্রাণ) এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত পথসভায় অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন স্কুলকলেজের শিক্ষার্থী, উন্নয়নকর্মী, নারী সংগঠনের সদস্য, কৃষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেয় । পথ সভার পূর্বে অনুষ্ঠিত র‌্যালিতে ‘পানি নেই, জীবন নেই’ ‘ উপকূল বাঁচাতে পানি বাঁচান’ ‘ভূগর্ভস্থ পানি রক্ষা করুন’ বিভিন্ন স্লোগান দেয় সম্মিলিত প্লাকার্ড শোভা পায়।

বরিশাল পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের আহ্বায়ক শুভংকর চক্রবর্তী বলেন, ‘বরিশালে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর গড়ে ১ দশমিক ৫ থেকে ২ মিটার কমছে। এভাবে চলতে থাকলে ১০ বছরের মধ্যে মানুষকে নিরাপদ পানির জন্য হাহাকার করতে হবে।’

গবেষণায় দেখা গেছে, উপকূলের প্রায় ৪৫ শতাংশ গ্রাম লবণাক্ত পানির ঝুঁকিতে। এটি কৃষি, মৎস্যচাষ, এমনকি নারীর স্বাস্থ্যকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।

পরিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম বরিশালের আহ্বায়ক সুভাষ দাস বলেন, ‘জলাধার, খাল খনন ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে সরকারি প্রকল্প হাতে নিতে হবে। একইসঙ্গে জনগণকেও পরিবার ও মহল্লা পর্যায়ে পানি সাশ্রয়ে উদ্যোগী হতে হবে।’

উন্নয়ন সংগঠন আরোহির নির্বাহী পরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, ‘বরিশালে পানিসংকট শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং মানবসৃষ্ট ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতাও বড় কারণ। খাল-জলাশয় দখল ও ভরাট হওয়ায় পানি জমে না, আবার বর্ষায় হঠাৎ বন্যা আঘাত হানে। ফলে একদিকে খরায় পানি সংকট, অন্যদিকে বর্ষায় জলাবদ্ধতার দ্বৈত সংকটে ভুগছে মানুষ। পানি রক্ষা ছাড়া জলবায়ু অভিযোজন সম্ভব নয়। পানি বাঁচানো মানে জীবন বাঁচানো, আর জীবন বাঁচানো মানেই উপকূল রক্ষা।’

স্থানীয় কৃষক মো. মান্না নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘আগে ফসল ফলত প্রচুর, এখন লবণাক্ততায় জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পানির অভাবে সেচ দেওয়া যায় না। সরকার ও এনজিওরা যদি সাহায্য করে, তাহলে আমরা আবার চাষাবাদে টিকে থাকতে পারব।’

শিক্ষার্থী প্রতিনিধি বলেন, ‘আমাদের প্রজন্মকে পানি সংকটের ভেতর বড় হতে হবে না। বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পানি সাশ্রয় আন্দোলন শুরু করা জরুরি।’

সেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রান্তজনের নির্বাহী পরিচালক মো. তৌহিদুল ইসলাম শাহাজাদা বলেন, ‘সরকার ও জনগণ একসঙ্গে কাজ না করলে পানির নিরাপত্তা আসবে না।’

সবুজ/রিফাত/

রোগী সেজে ইয়াবা পাচার, স্বামী-স্ত্রী আটক

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১১:০৫ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১১:০৮ এএম
রোগী সেজে ইয়াবা পাচার, স্বামী-স্ত্রী আটক
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে রোগীর স্বজনবেশে মাদকের চালান লেনদেনের সময় ১৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক দম্পতিকে আটক করেছে পুলিশ।

রবিবার (২১ জুন) রাত ৯টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন- টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাগির হোসেন ও তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী খবরের কাগজকে জানান, টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকা থেকে একটি ইয়াবার চালান কক্সবাজার শহরের উদ্দেশে অটোরিকশায় করে নেওয়া হচ্ছে বলে তথ্য পায় পুলিশ। এরপর নজরদারি জোরদার করা হয়। রাত ৯টার দিকে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে সন্দেহজনক একটি অটোরিকশা শনাক্ত করে দুইজনকে আটক করে ১৭ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তারেকুর রহমান/থিওটোনিয়াস

মাদরাসা ছাত্রকে অমানুষিক নির্যাতন

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৪২ এএম
মাদরাসা ছাত্রকে অমানুষিক নির্যাতন
ছবি: ইসমাইল

খুলনার সোনাডাঙ্গায় ইসমাইল নামে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর ওপর হেফজখানার শিক্ষকের অমানসিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মারধরের কারণে তার দুই চোখের নিচে রক্ত জমাট বেঁধে গেছে। এ ছাড়া নির্যাতনের সময় তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকে নুরুল কুরআন তাহজিদ একাডেমি নামে মাদরাসাটি বন্ধ করে শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যান। 

ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের পর শিশুটিকে তিন দিন পর্যন্ত মাদ্রাসায় আটকে রাখা হয়। এ সময় তাকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার ইসমাইলের বাবা মো. ফারুক স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে গত ২০ জুন রাতে তাকে উদ্ধার করেন। স্থানীয়রা জানান, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে বয়রা ডাক্তারপাড়া এলাকায় নুরুল কুরআন তাহজিদ একাডেমিতে এ ঘটনা ঘটে। পড়াশোনার জন্য ইসমাইল রাতে ওই মাদরাসায় অবস্থান করত।

শিশুটির বাবা মো. ফারুক জানান, গত দুই দিন মাদরাসায় রাতে খাবার দিতে গেলেও ছেলের সঙ্গে তাকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। এ সময় ইসমাইলের গায়ে জ্বর ও চিকিৎসা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়। পরে ২০ জুন রাতে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে মাদরাসায় ঢুকে তার সন্তানকে উদ্ধার করেন। এ সময় তার সারা শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখতে পান। তবে ভয়ে তিনি এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। স্থানীয় কিছু মানুষ ও প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টি মিটমাট করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে ঘটনার খবর শুনে রবিবার (২১ জুন) নুরুল কুরআন তাহজিদ একাডেমিতে গেলে সেটি তালাবদ্ধ দেখা যায়। মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি আব্দুর রহমানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় ট্রাকের যন্ত্রাংশের চালান জব্দ, আটক ১

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:২৪ এএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় ট্রাকের যন্ত্রাংশের চালান জব্দ, আটক ১
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে পাথর বোঝাই একটি ট্রাকে থেকে ৩২০ পিস ভারতীয় ট্রাকের যন্ত্রাংশ (পার্টস)সহ মাহফুজুর রহমান (২৩) নামে একজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৫৯ বিজিবি)।

শনিবার (২০ জুন) রাতে উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের পাকা রাস্তায় এই অভিযান চালানো হয়। 

আটককৃত মাহফুজুর রহমান শিবগঞ্জ থানার কানসাট সংলগ্ন বাজিতপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে।

রবিবার দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (২০ জুন) রাতে ৫৯ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার সহকারী পরিচালক সেখ মনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে বিজিবির একটি দল সীমান্ত পিলার থেতে আনুমানিক ৮০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জে পিরোজপুর গ্রামের অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন একটি বাংলাদেশি ট্রাক থামিয়ে তল্লাশি করা হলে ট্রাকে থাকা ১০ টন ভারতীয় পাথরের ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৩২০ পিস ভারতীয় ট্রাকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে জব্দ করা হয় পাথর বোঝাই ট্রাকটি।

বিজিবি জানায়, সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ উপায়ে এসব ভারতীয় যন্ত্রাংশ বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। আটক আসামিসহ জব্দকৃত ট্রাক, পাথর এবং যন্ত্রাংশসমূহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। 

এর আগে গত ১৯ জুনও এই ব্যাটালিয়নটি একটি পরিত্যক্ত পুকুরে অভিযান চালিয়ে ২০৭ পিস ভারতীয় যানবাহনের যন্ত্রাংশ উদ্ধার করেছিল।

৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, বিজিবি সব ধরনের চোরাচালানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি’র এ ধরনের কঠোর অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

মো. আসাদুল্লাহ/অন্তরা/

ভাঙ্গুড়ায় বিএনপি নেতার মারধর, ৪ ঘণ্টা পর কৃষকের মৃত্যু

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:০১ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১০:০৪ এএম
ভাঙ্গুড়ায় বিএনপি নেতার মারধর, ৪ ঘণ্টা পর কৃষকের মৃত্যু
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ নিজেদের হেফাজতে নেয়।ছবি: খবরের কাগজ

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতার মারধরের ৪ ঘণ্টা পর জামিল হোসেন (৫০) নামের এক কৃষকের মৃত্য হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) রাতে উপজেলার কৈডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জামিল হোসেনের বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার হরিনা গ্রামে। অভিযুক্ত ইউসুফ আলী ভাঙ্গুড়ার চড়-ভাঙ্গুড়া গ্রামের কুদ্দুস মণ্ডলের ছেলে। তিনি সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ও বর্তমানে সদর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ দিন আগে ধান মাড়াইয়ের কাজ করতে জামিল হোসেন তার মেয়ে, মেয়ের জামাই ও চাচাতো ভাইকে নিয়ে ভাঙ্গুড়ায় আসেন। তারা উপজেলার কৈডাঙ্গা গ্রামে রেললাইনের পাশে স্থানীয় এক ব্যক্তির ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন।

নিহতের জামাই আব্দুল কাদের জানান, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইউসুফ আলী তার শ্বশুর জামিল হোসেনকে ধান মাড়াইয়ের কাজ করতে চাপ দেন। তিনি কিছুটা দেরি হবে বলে জানালে ইউসুফ ক্ষিপ্ত হয়ে ধান মাড়াই মেশিনের চাবি কেড়ে নেন। পরে চাবি ফেরত চাইলে সেই চাবি দিয়েই তাকে বেদম মারধর করা হয়। এরপর জোর করে ধান মাড়াইয়ের কাজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ৩ বিঘা জমির ধান মাড়াই করেন।

আব্দুল কাদের আরও জানান, কাজ শেষে তারা সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভাড়া বাসায় ফিরে আসেন। সেখানে জামিল হোসেন অস্বস্তি অনুভব করলে পাশের বড়াল নদীতে গোসল করতে যান। গোসল শেষে ফিরে এসে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। জামিল হোসেন আগে থেকেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন বলে জানান তিনি।

অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার পর অভিযুক্ত ইউসুফ আলীর চাপে স্বজনরা দ্রুত মরদেহ নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয়রা বিষয়টি বুঝতে পেয়ে ভাঙ্গুড়া থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ নিজেদের হেফাজতে নেয়।

ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ইউসুফ আলী পলাতক রয়েছেন। তার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর-মুজাহিদ স্বপনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী ভাঙ্গুড়া থানার এসআই সুব্রত কুমার বলেন, প্রাথমিকভাবে মরদেহের মাথার পেছনে সামান্য কাটা-ছেঁড়ার দাগ পাওয়া গেছে। মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার কারণে ওই আঘাত লেগে থাকতে পারে। এ ছাড়া শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

ভাঙ্গুড়া থানার ওসি সাকিউল আজম বলেন, গতকাল সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। সেই অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্ষা এলেই জলজট

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:২৬ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
বর্ষা এলেই জলজট
ছবি: খবরের কাগজ

বর্ষা মৌসুম এলেই কক্সবাজারের টেকনাফে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। প্রতিবছরের মতো এবারও একটু ভারী বৃষ্টিপাতেই উপজেলার অধিকাংশ গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, বীজতলা ও মৎস্য ঘের। ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে কৃষক ও খামারিদের। অপরিকল্পিত উন্নয়ন, খাল ভরাট ও অবৈধ দখলের কারণেই পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উপজেলার চিহ্নিত ৪০টি খাল পুনর্খননের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা কৃষি ও মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে টেকনাফ উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমির আউশ বীজতলা, ধানখেত, সবজি চাষ ও পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে প্রায় ১০৭ হেক্টর জমির ফসল আংশিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ে। অন্যদিকে চিংড়ি ঘের ও পুকুরসহ প্রায় ৮০০ হেক্টর মৎস্য খামারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, এসব মৎস্য খামারে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। টানা বৃষ্টিপাতের প্রভাবে শুধু মাছের ঘের ও পুকুরই নয়, ক্ষতির মুখে পড়েছে বিভিন্ন পোলট্রি খামার। ফলে কৃষক ও খামারিরা আর্থিকভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান, খাল ভরাট ও দখলের কারণে প্রতিবছর টানা ভারী বৃষ্টিপাতে তার ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। সীমান্ত সড়কের স্লুইচ গেটের সংখ্যা বাড়ানো হলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে বলে মত দেন তিনি। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে খাল ভরাট, দখল ও নিয়মিত খননের অভাবে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে না পারায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। উপজেলার সব খাল খনন, সংস্কার ও অবৈধ দখলমুক্ত করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে তারা। 

টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিহাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি একটি সময়োপযোগী ও কৃষিবান্ধব উদ্যোগ। টেকনাফ উপজেলায় খাল খননের জন্য ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় তালিকা পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন হলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধান হবে ও এলাকার মানুষ স্বস্তি ফিরে পাবেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সরকারের খাল খনন ও পুনর্খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে টেকনাফের সাবরাং, বাহারছড়া, হ্নীলা, টেকনাফ সদর ও পৌরসভা এলাকার মোট ৪০টি খালের বর্তমান অবস্থা, দৈর্ঘ্য, আয়তন, বিএস (বাংলাদেশ সার্ভে) ও দিয়ারা দাগ নম্বরসহ তালিকা এবং প্রয়োজনীয় হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলোকে পুনর্খনন কার্যক্রমের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

খাল দখল প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. রফিক বলেন, টেকনাফ পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কায়ুকখালী খালটি আগের ম্যাপ ও আরএস দাগ অনুযায়ী পুনরুদ্ধার করতে হবে। খালের দুই পাশ থেকে সব ধরনের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মোহাম্মদ অনীক চৌধুরী বলেন, টেকনাফ পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র ও প্রধান পানি নিষ্কাশন পথ হিসেবে পরিচিত কায়ুকখালী খাল পুনর্খননের কাজ খুব শিগগির শুরু হবে। দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস (ডিআরআর) ম্যাপ অনুযায়ী খাল খনন ও অবৈধ দখল উচ্ছেদের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। আগের ম্যাপ অনুসারে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হলে অনেকের মালিকানাধীন জমি খালের আওতায় পড়তে পারে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ বড় খাল ও হেচ্চ্যা খালের সংস্কার কাজও দ্রুত শুরু করা হবে।

ইউএনও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক খাল খনন কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে টেকনাফের ৪০টি খাল দখলমুক্ত করে পুনর্খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের জন্য খালের তালিকা ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।