চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌর এলাকায় ছেঁড়া ১০০ টাকা আদান-প্রদানকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনায় আহত দোকানি বাবুল হোসেন মারা গেছেন।
ঘটনার পাঁচ দিন পর গত মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাতে জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ৫৫ বছর বয়সী বাবুল হোসেন শিবগঞ্জ পৌর এলাকার জালমাছমারি মহল্লার মৃত ইলিয়াস উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, গত ২১ আগস্ট রাতে শিবগঞ্জের ইসরাইল মোড়ের মোয়াজ্জেম হোসেনের বিকাশের দোকান থেকে ২ হাজার টাকা উত্তোলন করেন আসাদুল। টাকা উত্তোলনের প্রায় দুই ঘণ্টা পর আসাদুল আবারও ওই দোকানে গিয়ে ১০০ টাকার একটা ছেঁড়া নোট দেওয়া হয়েছে দাবি করে ওই টাকা ফেরত নেওয়ার কথা বলেন। দোকানি মোয়াজ্জেম এতে রাজি না হলে দুজনই বাদানুবাদে জড়ান। ক্ষিপ্ত হয়ে দোকানি মোয়াজ্জেমকে শায়েস্তা করতে আসাদুল তার পক্ষের লোকজন জড়ো করেন। একপর্যায়ে তাকে দোকানের ভেতর অবরুদ্ধ করে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এ সময় ভাইকে বাঁচাতে গেলে হামলার শিকার হন পাশের মুদির দোকানদার বাবুল হোসেন। তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা বাবুলকে উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে কিছুটা সুস্থ হলে তাকে বাড়িতে নিয়ে যান স্বজনরা। ঘটনার পাঁচ দিন পর গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হঠাৎ অসুস্থ হলে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে বাবুলকে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত বাবুল হোসেনের ভাই নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিন ভাইয়ের ওপর হামলা চালায় আসাদুল্লাহসহ তাদের দলবল। তাদের হামলার কারণে আমার ভাই মারা গেছে। এর সঠিক ও সুষ্ঠু বিচার চাই।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. মশিউর রহমান মানিক বলেন, ‘রক্তশূন্যতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় বাবুল হোসেন। কিছুক্ষণ পরই পরীক্ষা-নিরীক্ষার একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়। রক্তশূন্যতার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া জানান, ‘আজ (গতকাল বুধবার) দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’