নির্বাচন কমিশনের সীমানা পুনর্বিন্যাসকে ঘিরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তপ্ত ছিল ফরিদপুরের পরিস্থিতি। ফরিদপুর ৪ থেকে আলাদা করে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর ২-এ অন্তর্ভুক্ত করায় গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে স্থানীয়রা সড়ক অবরোধে নামেন। এ ছাড়া সীমানা পুনঃনির্ধারণের প্রতিবাদে বাগেরহাট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ
গতকাল (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুরের হামিরদী বাসস্ট্যান্ড ও আলগী ইউনিয়নের সুয়াদী বিশ্বরোড বাসস্ট্যান্ডে গাছ কেটে ও টায়ার জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। পরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কও অবরোধ করা হয়। এতে তিনটি মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এ সময় জরুরি সেবা ছাড়া সব যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের সারি দেখা যায়। অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগী ও যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
দুপুরে দেখা যায়, অবরোধকারীরা মহাসড়কে খিচুড়ি রান্না করে খাচ্ছেন, কেউ রুটি ও কলা খেয়ে দিন পার করছেন। কোথাও আবার ক্রিকেট ও ফুটবল খেলে সময় কাটান। আন্দোলনকারীরা বলেন, ‘ভাঙ্গা উপজেলার সঙ্গে তাদের শত বছরের সামাজিক ও সাংগঠনিক সম্পর্ক রয়েছে। হঠাৎ সিদ্ধান্তে দুটি ইউনিয়নকে কেটে নেওয়া আমরা মেনে নেব না।’ আলগী ইউনিয়নের শরীফ নামে এক বাসিন্দা বলেন, ‘১১৮ বছর ধরে ভাঙ্গার সঙ্গে সম্পর্ক থাকা ইউনিয়ন হঠাৎ করে অন্যত্র নেওয়া হতে পারে না।’
এ ঘটনায় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া বিবৃতি দিয়ে পুনর্বিন্যাসের নিন্দা জানান। তিনি বলেন, ‘ভাঙ্গার সঙ্গে ইউনিয়ন দুটি পুনঃসংযুক্ত না করলে আন্দোলন চলবে।’ তিনি আরও দাবি করেন, কমিশনে তিনি আগে থেকেই ভাঙ্গাকে পৃথক আসন করার আবেদন করেছিলেন, কিন্তু সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করে উল্টো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।
অবরোধ চলার সময় হাবিবুর রহমান হবি নামে এক ব্যক্তি মারা যান। স্থানীয় বিএনপি নেতারা দাবি করেন, তিনি আন্দোলনে অংশ নিয়ে হিট স্ট্রোকে মারা যান। তবে পুলিশ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, তিনি তার দোকানে ব্যবসা করার সময় হিট স্ট্রোকে মারা গেছেন। নিহত হাবিবুর রহমান হবি ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের চরকান্দা গ্রামের মৃত আজিজ শেখের ছেলে।
একই দিন দুপুরে বাগেরহাটে চারটি আসন বহালের দাবিতে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি মিছিল ও সমাবেশ করে। বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কের দশানী ট্রাফিক মোড় থেকে মিছিলটি বের হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে শেষ হয়। বক্তারা বলেন, একটি আসন কমিয়ে নির্বাচন কমিশন জনগণের ইচ্ছাকে অগ্রাহ্য করেছে। তারা পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেন, দাবি আদায় না হলে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল পালন করা হবে।
সমাবেশে জেলা বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য দলের নেতারা অংশ নেন। তারা জানান, কমিশনের সিদ্ধান্ত নির্বাচন আইন পরিপন্থি এবং এতে বাগেরহাটবাসী ক্ষুব্ধ হয়েছে। বক্তারা আরও বলেন, আদালতে গিয়ে ন্যায্য দাবি আদায় করা হবে।
অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সীমানা পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে সর্বদলীয় ঐক্যপরিষদ। বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ও চান্দুরা ইউনিয়নকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে যুক্ত করায় এ কর্মসূচি পালিত হয়। বেলা ১১টা থেকে আধা ঘণ্টার এই অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে তীব্র যানজট তৈরি হয়। বিএনপি, এনসিপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা এতে অংশ নেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, আসন নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।
তারা অবিলম্বে ইউনিয়ন দুটি আগের আসনে ফেরত না দিলে সড়ক, নৌ ও রেলপথ অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন। তাদের দাবি, কমিশন জনমতের বিরুদ্ধে কাজ করছে।