দেশের ঐতিহ্যবাহী দীনি বিদ্যাপীঠ জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার শায়খুল হাদিস ও সদরুল মুহতামিম, বরেণ্য আলেম মুফতি হাফেজ আহমদুল্লাহ (৮৪) আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভোর ৭টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর ন্যাশনাল হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তিনি স্ত্রী তিন ছেলে, চার মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান। জামিয়ার প্রধান কার্যালয়ের সচিব মোহাম্মদ আকরাম সাদী খবরের কাগজকে বলেন, ‘মরহুমের জানাজা গতকাল রাত ৯টায় জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় তার শাগরেদ, মুরিদান, খোলাফা ও বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নেন।’
বরেণ্য এই আলেমের ইন্তেকালে দেশ-বিদেশে তার ছাত্র, অনুসারী ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মুফতি হাফেজ আহমদুল্লাহ ১৯৪১ সালের ১ মে চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার নাইখাইন গ্রামের মোজাহেরুল্লাহ মুনশীবাড়ির এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫১ সালে জিরি মাদ্রাসায় মাত্র ১০ বছর বয়সে তিনি পবিত্র কোরআন হেফজ করেন। এরপর জিরি মাদ্রাসায়ই তিনি দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। সেখানে প্রতিটি ক্লাসে তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন।
১৯৬৪ সালে তিনি পাকিস্তানের জামিয়া আশরাফিয়া লাহোরে পুনরায় দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। সেখানে তিনি বিশ্বখ্যাত মুফাসসির ও সিরাত গবেষক মাওলানা ইদরিস কান্ধলভি (রহ.), মাওলানা রসুল খানসহ (রহ.) বড় বড় আলেমের সান্নিধ্য লাভ করেন। পরের বছর তিনি মুলতানের খাইরুল মাদারিসে মাওলানা মুহাম্মদ শরিফ কাশ্মীরির কাছে যুক্তিবিদ্যা-দর্শন-কালাম পড়েন। ১৯৬৭ সালে দারুল উলুম করাচির ইফতা বিভাগে ভর্তি হন। সেখানে তিনি পাকিস্তানের মুফতিয়ে আজম আল্লামা মুহাম্মদ শফি উসমানির (রহ.) কাছে ফিকহের পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
১৯৬৮ সালে দেশে ফিরে জিরি মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। সেখানে তিনি দীর্ঘ ২৩ বছর অধ্যাপনা করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি এই মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস হিসেবে সহিহ বুখারির পাঠদান করেন। ১৯৯১ সালে মাওলানা হাজি মুহাম্মদ ইউনুসের (রহ.) অনুরোধে পটিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন। সেখানে সিনিয়র মুহাদ্দিস ও মুফতি হিসেবে দীর্ঘ ৩০ বছর দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালে তিনি শায়খুল হাদিস ও প্রধান মুফতি হিসেবে নিযুক্ত হোন।
রিফাত/