রফিকুল ইসলাম (৩৫)। পেশায় বাইসাইকেলের মেকার। তবে তার স্বপ্ন জনপ্রতিনিধি হয়ে জনসেবা করার। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান ওয়ার্ডের সদস্য পদে। এ লক্ষ্যে গত ৪ বছর ধরেই প্রচার চালাচ্ছেন তিনি। তবে প্রচারে বেছে নিয়েছেন এক ব্যতিক্রমী কৌশল। ভোটারদের কাছে নিজেকে তুলে ধরতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিতরণ করছেন বিভিন্ন প্রজাতির গাছ।
রফিকুল ইসলামের বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাঁড়িভাসা ইউনিয়নের মোহনবাগান গ্রামে। তিনি সেখানকার সামছুল হকের ছেলে। হাঁড়িভাসা বাজারে বাইসাইকেল মেরামতের কাজ করেন তিনি।
জানা গেছে, হাঁড়িভাসা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার পদে নির্বাচন করবেন রফিকুল। এ জন্য নিজের পরিচিতি বাড়াতে এ উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। গত ৪ বছরে ওয়ার্ডের ৯টি গ্রামের প্রায় প্রত্যেক বাড়িতেই একাধিকবার ছুটে গেছেন তিনি। প্রতিবারই দিয়ে এসেছেন ফলদ, বনজ কিংবা ঔষধি গাছের চারা। এ পর্যন্ত সহস্রাধিক চার বিলিয়েছেন তিনি।
এদিকে তার গাছ বিলানোর উদ্যোগ ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা। ভোটে বিজয়ী মেম্বার না হলেও ‘গাছ মেম্বার’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। কেউ কেউ বলছেন, সে মেম্বার হতে পারবে না, অহেতুক অর্থ খরচ করে এসব করছে। তবে এসবের পাত্তা দেন না রফিকুল।
স্থানীয়রা জানান, রফিকুল গত কয়েক বছরে আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, কৃষ্ণচূড়াগাছের চারা বেশি বিতরণ করেছেন। তবে বিতরণের মধ্যেই থেমে থাকেন না তিনি। খোঁজও রাখেন গাছটি বেঁচে আছে কিনা। মারা গেলে নতুন করে আবার চারা পৌঁছে দেন।
মোহনবাগান গ্রামের রঞ্জিত রায় বলেন, রফিকুলের দেওয়া বিভিন্ন প্রজাতির গাছ এলাকার সবার বাড়িতেই আছে। এসব গাছ বিতরণের উদ্দেশ্য যাই থাকুক, তবে কর্মকাণ্ডটি প্রশংসার। তা ছাড়া ইউপি সদস্য হিসেবে পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিদের দরকার। এ ক্ষেত্রে বিত্তশালী হওয়ার চেয়ে মানবিক হওয়া বেশি প্রয়োজন। রফিকুলের মতো কেউ মেম্বার হলে সমস্যা দেখি না।’
হাওড়াপাড়া এলাকার হাসেম আলী বলেন, ‘গাছ বিতরণের মাধ্যমে এলাকার নারীদের কাছে খুব সহজেই পৌঁছতে পেরেছেন রফিকুল। পুরুষ ভোটাররা তাকে সংকোচের জায়গা থেকে এড়িয়ে গেলেও অনেক নারীর ভোট তিনি পাবেন।’
ডাবরভাঙ্গা গ্রামের মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রচারের কৌশল হিসেবে রফিকুলের গাছ বিতরণের আইডিয়াটা দারুণ। মানুষের ভালো কাজের প্রশংসা করতে দোষ নেই।’
এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভোট না পাই, মানুষের দোয়া তো পাব। তাছাড়া গাছ লাগানো সোয়াবের কাজ। আমি গরিব মানুষ, গরিবদের সুখ-দুঃখের অংশীদার হতে মেম্বার হওয়ার আগ্রহ জেগেছে। এখন গাছ বিলাচ্ছি, আল্লাহ যদি মেম্বার হিসেবে কবুল করেন, তাহলে মানুষের সব ধরনের সহযোগিতায় পাশে দাঁড়াতে পারব।’
রফিকুল আরও বলেন, ‘নির্বাচনের এখনো অনেক সময় বাকি। তবে আমার গাছ বিতরণ চলবেই। মেম্বার হতে না পারলেও এই কর্মসূচি অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব। তবে গাছ বিতরণের ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পেলে পুরো ইউনিয়নব্যাপী আমার কার্যক্রম বিস্তৃত করতে চাই।’