ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ভূটিয়ারকোনা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মোহাম্মদকে ক্যাম্পাসে লাঞ্ছিত করায় প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী ও এলকাবাসী। তারা ঘটনায় মূল হোতা ধেরুয়া কড়েহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেনসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভূটিয়ারকোনা বাজারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এই ঘটনার পর অধ্যক্ষ গোলাম মোহাম্মদ ওই রাতেই গৌরীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে গৌরীপুর পৌর বিএনপির সদস্যসচিব সুজিত কুমার দাস বলেন, এ ন্যাক্কারজনক ঘটনায় আমরা লজ্জিত। শিক্ষকের মান ক্ষুন্ণ হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সামনে আমরা দাঁড়াতে পারছি না। আমার সন্তানদের প্রশ্নবানে আমি জর্জরিত হয়ে এ প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। প্রশাসনকে বলতে চাই, আনোয়ার হোসেন মাস্টারসহ জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করুন। অন্যথায় এ প্রতিবাদের ভাষাও ভিন্ন হয়ে যাবে।
আন্দোলনকারীরা আরও বলেন, তিনি ছুটি না নিয়ে নিজের স্কুলের পাঠদান বন্ধ রেখে, এখানে কীভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছে, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রতিবাদ সমাবেশে সুজিত কুমার দাস ছাড়াও বক্তব্য রাখেন - অচিন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জায়েদুর রহমান, ব্যবসায়ী আবুল কালাম, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. আব্দুর রশিদ মেম্বার, যুবদল নেতা আলী জাহান, ছাত্রনেতা মো, সেলিম আজাদ, অচিন্তপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. অলি, সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল মান্নান প্রমুখ।
অধ্যক্ষ গোলাম মোহাম্মদ জানান, গত বছরের ৫ আগস্টের আগে থেকেই একটি গোষ্ঠি শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ বিনষ্টের পায়তারা চালিয়ে আসছিল। আমি সকালে কলেজে আসি। এরপর দুপুর ১২টার দিকে আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ১৪/১৫জন অতর্কিত কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে আমাকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন। একপর্যায়ে টেনেহিঁচড়ে জোরপূর্বক কলেজ থেকে বের করে দেয়। এ সময় তারা আমাকে হত্যারও হুমকি দেয়।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িত আনোয়ার হোসেন, রুমি মিয়া, অলি উল্লাহ, হুমায়ুন তালুকদার, সাইকুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম তালুকদারসহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, নিজ বিদ্যালয়ের জন্য বিদ্যুতের তার কিনতে ভূটিয়ারকোনা বাজারে গিয়েছিলেন। পরে বিদ্যালয়ের সামনে আসলে বেশ কয়েকজন অধ্যক্ষের সাথে তর্ক শুরু করে তখন আমি তাকে বাঁচাতে সেখানে যাই এবং বড় কোনো ঘটনা ঘটার আগেই তাকে টেনে বের করে নিয়ে আসি। একপর্যায়ে এই প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেন তিনি বিদ্যালয় থেকে ছুটি না নিয়েই চলে আসেন।
এ ঘটনায় গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. দিদারুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে মারধরের বিষয়ে গোলাম মোহাম্মদ অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, স্কুল চলাকালীন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আনোয়ার হোসেন কীভাবে সেখানে গেলেন, সে বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, ভিডিওটি আমি দেখেছি। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে নিয়ে এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার একটি ৮ সেকেন্ডের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজের অধ্যক্ষকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে কলেজের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিচ্ছেন ধেরুয়া কড়েহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন রয়েছেন।
অমিয়/