গাজীপুরের শ্রীপুরে নাটকের কথা বলে এক মডেলকে রিসোর্টে এনে গণধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় নাটকের পরিচালকসহ ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে নির্যাতিত নারী বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় এই মামলা করেন।
মামলার আসামিরা হলেন- নাটকের পরিচালক মো. নাছির (৩৫), তার সহযোগী মো. বাবর (৩২) এবং রিসোর্টের মালিক (৬০)। এজাহারে তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানানো হয়নি।
থানায় দায়ের করা এজাহার ও বাদীর বক্তব্য থেকে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী একজন আর্টিস্ট ও মডেল। গত ২০ সেপ্টেম্বর সোমবার গভীর রাতে স্যুটিংয়ের কথা বলে ওই নারীকে ঢাকার মিরপুর থেকে গাজীপুরের শ্রীপুরের তেলিহাটি ইউনিয়নের উত্তর পেলাইদ গ্রামের রাজ রিসোর্টের একটি কক্ষে আটক রাখা হয়। এ সময় হত্যার ভয় দেখিয়ে নাছির, বাবর ও রিসোর্টের মালিক পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি পর্যায়ক্রমে ওই নারীকে ধর্ষণ করে। এরপর ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে আসামিরা ওই নারীর ব্যবহৃত ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের একটি আইফোন রেখে পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে মারধর করে রিসোর্ট থেকে ওই নারীকে বের করে দেন।
মামলার ভিক্টিম ও বাদী ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে বলেন, 'আমাকে একটি নাটকে অভিনয় করার বিষয়ে কথা বলা হবে বলে রিসোর্টে এনে আটকে রাখা হয়। পরে আসামিরা মদের কাচের বোতল ভেঙে আমাকে আঘাত করে হত্যার ভয় দেখায় এবং শারীরিক নির্যাতন করে ধর্ষণ করে। এতে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। পরেরদিন আমার মোবাইল রেখে তারা আমাকে রিসোর্ট থেকে বের করে দেয়। পরে আমি ঢাকায় বাসায় ফিরে গিয়ে সেখানে মামলা করতে চাইলে পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলের এলাকার থানায় মামলা করতে হবে। এ কারণে মামলা করতে দেরি হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'আসামিরা খুবই প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবান। তারা আমাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমাকে শ্রীপুর থানায় হেফাজতে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শনিবার গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।'
অভিযুক্ত নাছিরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি নিজেকে নাটকের পরিচালক পরিচয় দিয়ে বলেন, 'সেখানে আমরা ঘুরতে গিয়েছিলাম। অন্যকোনো ঘটনা ঘটেনি। আমাকে ব্ল্যাকমেইল করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।'
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক জানান, নারীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানায় মামলা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান চালামান।'
এ বিষয়ে রিসোর্টের মালিকপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার জন্য রিসোর্টের রিসিভশনের নম্বরে একাধিকবার ফোন করলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি।
পলাশ প্রধান/সুমন