ব্যাংক থেকে টাকা তুলেছিলেন ঠিকাদার এমরান হোসেন (৫৫)। ব্যাংক থেকে বের হয়ে কিছুক্ষণ হাঁটতেই অজ্ঞাত এক ব্যক্তির সঙ্গে ধাক্কা লাগে তার। ওই ব্যক্তি তার নাকের সামনে সাদা কাপড় নাড়া দেন। আর সঙ্গে সঙ্গে অচেতন হয়ে যান তিনি। এরপর তার টাকা ও মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, ‘শয়তানের নিশ্বাস’ দিয়ে এমরান হোসেনের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদী জিলা স্কুলের পাশের ফুটওভারব্রিজে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর এমরান হোসেন হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়নের মৃত রেজাউল হকের ছেলে। ভুক্তভোগীর ছেলে মো. মহব্বত গতকাল শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মো. মহব্বত জানান, তার বাবা ইটভাটায় শ্রমিক সরবরাহ করেন। বৃহস্পতিবার অনেকটা অচেতন অবস্থায়ই তার বাবা বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত এক আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য রিকশায় ওঠেন। তবে এরপর কী হয়েছে, তার মনে নেই। পরে রিকশাচালক তার বাবাকে ওই হাসপাতালের নিচে নামিয়ে চলে যান। এরপর অচেতন অবস্থাতেই তার বাবাকে হাসপাতালের সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়।
মো. মহব্বতের দাবি, তার বাবার ২০ লাখ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনতাই হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার বাবার জ্ঞান ফেরার পর এসব জানিয়েছে। তার বাবাকে ‘শয়তানের নিশ্বাস’ দেওয়া হয়েছিল। ওই অজ্ঞাত ব্যক্তি তার বাবার টাকার ব্যাগ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে বলে তাদের ধারণা।
এ বিষয়ে জেলার সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম জানান, তারা এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাননি। আবার এত টাকা সঙ্গে ছিল কি না, এটাও দেখার বিষয়। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তারা আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
অপরাধ বিশ্লেষকরা জানান, ‘শয়তানের নিশ্বাস’ বা ‘ডেভিলস ব্রেথ’ এখন আলোচিত বিষয়। এটি একধরনের ড্রাগ, যার নাম ‘স্কোপোলামিন’। এই ‘শয়তানের নিশ্বাস’ দিয়ে মানুষকে হিপনোটাইজ বা বশ করা হয়। আর একবার বশ করতে পারলে অপরাধীরা হাতিয়ে নেয় ব্যক্তির মূল্যবান জিনিসপত্র।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্কোপোলামিন একধরনের সিনথেটিক ড্রাগ। এর মূল উপাদান আসে ধুতরা ফুল থেকে। ধুতরা ফুলের সঙ্গে আরও কিছু উপাদান যোগ করে তৈরি করা হয় স্কোপোলামিন। এটি তরল ও পাউডার-দুই রকমেরই হয়।