ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
অপেক্ষা ফুরাচ্ছে ওচোয়ার! ইংল্যান্ডকে জিততে দিল না ঘানা মায়ের মৃত্যুতে দেশে ফিরে গেলেন ফ্রান্সের কোচ অতঃপর দেম্বেলে… প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডকে রুখে দিল ঘানা বিশ্বকাপে ইরানের সফর নীতি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের ক্যানভাসে চিরযৌবন নেইমারে ভয় নেই স্কটল্যান্ডের মাঠে হেঁটেই সফল মেসি রোনালদোর রেকর্ডের রাতে পর্তুগালের গোল উৎসব ৪১ বছরেও থামেননি রোনালদো, ভাঙলেন মেসির রেকর্ড পর্তুগিজ কিংবদন্তিতে ছাড়িয়ে শীর্ষে রোনালদো রোনালদোর বিশ্বরেকর্ড, প্রথমার্ধে উজবেকিস্তানের জালে ৩ গোল পর্তুগালের গোল করেই ইতিহাস গড়লেন রোনালদো ফ্রান্স ম্যাচ নিয়ে ভাবছেন না হালান্ড তৃণমূল থেকে ফিরহাদ-অরূপসহ ৮ নেতা বহিষ্কার উপদেষ্টা জাহেদের ফেরা ছিল তার নিজের সিদ্ধান্ত: জয়সওয়াল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সিএফমোটো বাংলাদেশের নতুন শোরুম উদ্বোধন পর্তুগালের একাদশে ২ পরিবর্তন ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল রপ্তানির তথ্য দিলেন ট্রাম্প কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত? রেকর্ড তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ট্র্যাজেডি, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা, রিমান্ডে আইনজীবী

ঝিনাইদহে টিআর-কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পে কাজ না করেই অর্থ লুট

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৩৫ এএম
ঝিনাইদহে টিআর-কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পে কাজ না করেই অর্থ লুট
ছবি: খবরের কাগজ

ঝিনাইদহে হরিণাকুন্ডুতে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের অধীনে কাজ না করেই কোটি কোটি টাকা লুট করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আজিজুর রহমান। ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন তিনি।

শ্রমিক দিয়ে কাজ করার কথা থাকলেও শ্রমিকের পরিবর্তে ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয়বৃদ্ধির জন্য গৃহীত এসব প্রকল্প দারিদ্র্যবিমোচনে কোনো উপকারে আসেনি।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প অনুমোদনের আগেই ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমদিকে উপজেলার কাপাশহাটিয়া ও ভায়না ইউনিয়নের রাস্তায় মাটি ভরাটের
কাজ শেষ করা হয়েছে।

এ উপজেলায় টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের অর্থ লুটপাটের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, হরিণাকুন্ডু উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ও ১টি পৌরসভায় ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) কর্মসূচির আওতায় ১৭টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পের জন্য ১ কোটি ৭ লাখ ৩০ হাজার ২৫৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাবিটা ৩য় ধাপে ৫৩ লাখ ৬৫ হাজার ১২৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাবিটার নয়টি প্রকল্পে ৭৬ দশমিক ৬৪ মেট্রিক টন গম ও ৩০ দশমিক ৬৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

টিআর (টেস্ট রিলিফ) কর্মসূচির আওতায় ৩৯টি প্রকল্পের অধীন প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে ৯৭ লাখ ৪১ হাজার ১১৯ টাকা এবং ৩য় ধাপে ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ৫৫৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পৌরসভায় বরাদ্দ দেওয়া হয় ২৪ লাখ ৯৭ হাজার ১২৭ টাকা।

ঝিনাইদহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ দপ্তর থেকে এ তথ্য জানা গেছে, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল আওয়ালের সভাপতিত্বে চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত কর্ণধার কমিটির সভায় প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়।

এ উপজেলায় টিআর, কাবিখা এবং কাবিটা প্রকল্পে ৩ কোটি ৩২ লাখ ৪ হাজার ১৯২ টাকা এবং ১০৭ দশমিক ২৯ মেট্রিক টন চাল ও গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। হরিণাকুন্ডু উপজেলার ৮ টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় অস্তিত্বহীন প্রকল্প দিয়ে সরকারি এ অর্থ লুটপাট করা হয়েছে।

উপজেলার ভায়না ইউনিয়নের তৈলটুপি মিঠুনের বাড়ি হতে ইমানের জমি পর্যন্ত রাস্তা মাটি দ্বারা উন্নয়নে বরাদ্দ ৩ লাখ ৯০ হাজার, বাকচুয়া দক্ষিণপাড়া ব্রিজ থেকে খবিরের বাড়ি অভিমুখে রাস্তা মাটি দ্বারা উন্নয়ন ও ম্যাকাডম করনে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৭৬৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়া ওই ইউনিয়নে তিনটি কাবিটা প্রকল্পে ১১ লক্ষাধিক টাকা, টিআর পাঁচটি প্রকল্পে ২০ লক্ষাধিক টাকা এবং ৮ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্ব স্ব প্রকল্পের সভাপতি (পিআইসি) নামমাত্র কাজ করেই বিল তুলে টাকা মেরে খেয়েছেন।

জোড়াদহ ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গাঙলির বিলের কাবিল মোল্লার জমি থেকে জাকেবের জমি অভিমুখে রাস্তা মাটি দ্বারা উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৩৬৪ টাকা। এ ইউনিয়নে একাধিক প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করে লাখ লাখ টাকা লুটপাট করা হয়েছে।

তাহেরহুদা ইউনিয়নের তাহেরহুদা গ্রামে মন্ডলপাড়া মাহাবুলের বাড়ির সামনে হতে ছোট ক্যানেল হয়ে ব্রিজ অভিমুখে রাস্তা মাটি দ্বারা উন্নয়ন ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা, শ্রীপুর গ্রামের পাকড়াতালার মাঠ নারায়ণকান্দি অভিমুখে রাস্তা মাটি দ্বারা উন্নয়নে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং নারায়ণকান্দি বালে পাড়া মসজিদের সামনে থেকে পূর্বদিকে শ্রীপুর ব্রিজ অভিমুখে রাস্তা উন্নয়নে ৮ মেট্রিকটন গম বরাদ্দ দেয়া হলেও এসব প্রকল্পে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নে রামচন্দ্রপুর আবু বকর জমি হতে গোপালনগর বিলের অভিমুখে রাস্তা মাটি দ্বারা পুনর্নির্মাণে বরাদ্দ ১১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৭৫ টাকা, সোনাতনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে পাকা রাস্তা হতে খালের অভিমুখে রাস্তা পুনর্নির্মাণে বরাদ্দ ছিল ৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা, কেষ্টপুর চরের মাঠে আমতলা হতে ব্রিজের অভিমুখে রাস্তা পুনর্নির্মাণ বরাদ্দ ছিল ৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা এবং দৌলতপুর ব্রিজ হতে দুবলোকুড়ির মাঠের অভিমুখে রাস্তা পুনর্নির্মাণে ৮ দশমিক ৩০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ ছিল। এসব প্রকল্পে কাজ না করেই প্রকল্প সভাপতির (পিআইসি) নামে বিল উত্তোলন করা হয়েছে।

চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ অন্তত ১১টি প্রকল্পে আংশিক কাজ দেখিয়ে এবং আরও ৫টির অধিক প্রকল্পে একেবারেই কোনো কাজ না করেই বিল উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ করা ৪০ দিনের কর্মসূচিতে তালিকাভুক্ত ২৩৭ জন শ্রমিকের নামে প্রায় ৭০ লাখ টাকা কাজের নামে আত্মসাৎ করা হয়েছে, যা সরকারি অর্থ লুটের এক জঘন্য দৃষ্টান্ত।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কোথাও সামান্য ধুলো মাটি ফেলে দায়সারা ভাবে কাজ করা হয়েছে, আবার কোথাও কোনো কাজই হয়নি। ছয় ইঞ্চি রাস্তা করার কথা থাকলেও মাত্র তিন ইঞ্চি করে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। একই রাস্তা একাধিক প্রকল্পে দেখিয়ে একাধিকবার বিল তোলার প্রমাণও পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রামচন্দ্রপুর, দখলপুর, সোনাতনপুর, দৌলতপুর, কেষ্টপুর, মৃগীবাথান, গোবরাপাড়া ও রিশখালীসহ ইউনিয়নের অন্তত ১৫টির অধিক প্রকল্পে কাজ না করেই নগদ অর্থ তোলা হয়েছে।

মৃগীবাথান গ্রামের রায়হান উদ্দিন বলেন, আমরা নিজেরা রাবিশ ফেলে রাস্তা ঠিক করেছি। পরে শুনি চেয়ারম্যান ওই রাস্তায় সরকারি প্রকল্প দেখিয়ে বিল তুলে নিয়েছেন।

ওই এলাকার রাজন আলী জানান, তারা কোনো প্রকল্পের ব্যাপারে জানতেন না। কাগজপত্র দেখে জানতে পেরেছেন প্রকল্পের টাকা চেয়ারম্যান সব তুলে নিয়েছেন। বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি প্রভাষক আনিসুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, চেয়ারম্যান সরকারি অর্থ লুটপাট করেছেন। প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে চেয়ারম্যান ওই ইউনিয়নে কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন। সাময়িক নয় তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে জেল-জরিমানার আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

কাপাশহাটিয়া ইউনিয়নের শিতলী মাঠের ভেতর এইচবিবি রাস্তা হতে ইদ্রিস আলীর জমি পর্যন্ত রাস্তা মাটি দ্বারা পুনর্নির্মাণে ১৫ দশমিক ৩০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর কথা থাকলেও বাইরে থেকে কিছু মাটি এনে প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সেখানে কাজের কাজ কিছুই করা হয়নি। শিতলী মাঠের ভেতর ফটিক আলী জোয়ার্দ্দারের জমি থেকে বিশারতের জমি পর্যন্ত রাস্তা মাটি দ্বারা পুনঃনির্মাণে টিআর প্রকল্পে ৩ লক্ষ ৬৮ হাজার ২২৪ টাকা এবং শিতলী গ্রামের এইচবিবি রাস্তার মাথা হতে খালের মাথা পর্যন্ত রাস্তা পুনর্নির্মাণ ও উন্নয়নে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, কিসমত ঘোড়াগাছা মিনারের বাড়ি মেইন রাস্তা হতে বিলের মাঠ অভিমুখে রাস্তা মাটি ভরাট ও মেকাডাম করন ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও নাম মাত্র কাজ দেখিয়ে এসব বিল উত্তোলন করা হয়েছে।

এ ছাড়া কাপাশহাটিয়া ইউনিয়নের শাখারীদহ আলতাফের বাড়ি থেকে খলিশাকুড়ো বিলের অভিমুখে ভাগাড়ের (সরকারের খাসজমি) কিনারা থেকে মাটি নিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। এ প্রকল্পে রাস্তায় মাটি ভরাট বাবদ ১৩ লাখ ৪৭ হাজার ৭২০ টাকা (কাবিটা) এবং ১০টি টিআর প্রকল্পে আনুমানিক ২৫ লাখ টাকা এবং ৯ দশমিক ৬০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়।

কাপাশাটিয়া গ্রামের শফি উদ্দিন খবরের কাগজকে জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বাররা দাঁড়িয়ে থেকে ভেকু দিয়ে ভাগাড়ের মাটি ভাগাড়েই দিয়েছেন।

ওই এলাকার রিজিয়া খাতুন জানান, শ্রমিক দিয়ে মাটি কাটার কথা থাকলেও ভেকু দিয়ে রাস্তার মাটি রাস্তায় দেওয়া হয়েছে।

সাইফুল ইসলাম জানান, সরকারি টাকা চেয়ারম্যান-মেম্বাররা মেরে খাওয়ার জন্য নামমাত্র কাজ করেছেন। ফলসি বোয়ালিয়া বিশ্বাস বাড়ি কবরস্থান থেকে চেয়ারম্যান বাড়ি পর্যন্ত পুকুরের দুই পাড়ের রাস্তা মাটি দ্বারা উন্নয়ন ও সংস্কার ২৯৪০০০ রঘুনাথপুর ইউনিয়নের মন্ডলতোলা কুমরোল এবং নতুন ব্রিজ হতে ডা. ওহাবের মাদ্রাসা পর্যন্ত রাস্তা মাটি দ্বারা সংস্কারে ৭ লাখ ৪৬ হাজার ৫১ টাকা, চর আড়ুয়াকান্দি ভিটের মাঠ মকছেদের বাড়ির পাশের মসজিদ হতে নজরুলের বাড়ি রাধানগর অভিমুখে রাস্তা মাটি দ্বারা সংস্কারে ৭ লাখ টাকা, পোড়াহাটি আব্দুর রশিদের বাড়ি হতে জামালের বাড়ি অভিমুখে মাটি দ্বারা রাস্তা উন্নয়ন ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং কালাপাডিয়া টি-২০ খাল থেকে জোড়াপুকুর মাঠ অভিমুখে রাস্তায় মাটি ভরাট বাবদ ২ লাখ টাকা ছাড়াও একাধিক প্রকল্পে লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

রঘুনাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বশির উদ্দিন এসব প্রকল্পে কাজ করা হয়েছে বলে জানান।

উপজেলায় কয়েকটি প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করা হয়েছে। ২০২৪- ২০২৫ অর্থবছরের কাজ জুলাই-আগস্ট মাসে করতে দেখা গেছে। আবার কিছু প্রকল্পে একেবারেই কাজ করা হয়নি। প্রকল্প এলাকায় সাইনবোর্ড থাকার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। লুটপাট করার জন্যই এমনটি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ তদারকি না করেই গত ২৬ জুন সমুদয় বিল ছাড় করেছেন।

দেখা গেছে, সামান্য মাটি কাটার কাজ করে পুরো বিল উত্তোলন করা হয়েছে। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো মুখ থুবড়ে পড়েছে এবং সরকারি অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। এ ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে সরকারি অর্থ অপচয় এবং প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে। এতে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

হরিণাকুন্ডু উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আজিজুর রহমান খবরের কাগজকে জানান, চেয়ারম্যান ও প্রকল্পের সভাপতিরা (পিআইসি) বৃষ্টির অজুহাত দেখিয়ে কাজ করেননি।

তিনি আরও বলেন, টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের কাজ সারাদেশে যেভাবে হয়ে থাকে হরিণাকুন্ডু উপজেলায়ও সেভাবেই হয়েছে। উপজেলার যেসব প্রকল্পে কাজ হয়নি সেসব প্রকল্পে সভাপতির (পিআইসি) মাধ্যমে কাজ করানো হচ্ছে। কাজ না করেই ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে এ বিষয়ে তিনি বলেন কাজ না করলে সরকারি অর্থ ফেরত দিতে হবে।

এ বিষয়ে হরিণাকুন্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বি এম তারিক-উজ-জামান বলেন, আমার কাছে অভিযোগ এসেছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

স্থানীয়রা অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে যথাযথ তদন্ত এবং কাজ না করেই সরকারি অর্থ লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মাহফুজুর/মেহেদী/

ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি
ছবি: সংগৃহীত

রংপুরের তারাগঞ্জে অবস্থিত ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড পরিদর্শন করলেন বাংলাদেশ পুলিশের রংপুর জেলার ডিআইজি (উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক) আমিনুল ইসলাম। 

ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস্ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউএসএ প্রবাসী মোঃ হাসানুজ্জামান হাসান এর নেতৃত্বে, সিইও ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস্ লিমিটেড এমএম খালিদ আহসান এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকালে তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ঘনিরামপুর গ্রামে অবস্থিত ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড পরিদর্শন করেন রংপুর জেলার বর্তমান ডিআইজি (উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক) আমিনুল ইসলাম। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলার বর্তমান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক,নীলফামারী জেলার বর্তমান পুলিশ সুপার মোঃ ফরহাদ হোসেন খান,তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন প্রমুখ।

পরিচালিত ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড মূলত একটি ১০০% রপ্তানিমুখী অত্যাধুনিক আন্তর্জাতিক মানের জুতা তৈরি ও প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। এটি উত্তরবঙ্গের এবং বিশেষ করে তারাগঞ্জ এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র ও বেকারত্ব দূরীকরণে বড় ভূমিকা রাখছে।

এসএন/

বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম
দিনাজপুরের পাথরখনি। ছবি: খবরের কাগজ

বিস্ফোরক সংকটের কারণে প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথরখনি দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) পাথর উত্তোলন কার্যক্রম। 

গত ১৯ মে থেকে খনিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও এখনও স্বাভাবিক হয়নি উৎপাদন কার্যক্রম।

খনি সূত্রে জানা গেছে, ভূগর্ভস্থ খনিতে পাথর উত্তোলনের জন্য ব্যবহৃত প্রধান বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের সরবরাহ না থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। 

খনি কর্তৃপক্ষ প্রথমে ১৫ দিনের মধ্যে কার্যক্রম পুনরায় চালুর আশ্বাস দিলেও বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের কারণে তা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশ থেকে বিস্ফোরকবাহী জাহাজ আসতে বিলম্ব হওয়ায় আমদানি ও পরিবহন প্রক্রিয়াও দীর্ঘায়িত হয়েছে।

এর আগে ২০২২ ও ২০২৫ সালেও বিস্ফোরক সংকটের কারণে মধ্যপাড়া পাথরখনিতে উত্তোলন বন্ধ ছিল। এ ছাড়া ২০১৪ সালে ২২ দিন, ২০১৫ সালে দুই মাস এবং ২০১৮ সালে সাত দিন পাথর উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ থাকার নজির রয়েছে।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আমজাদ হোসেন বলেন, “অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট একটি বিশেষায়িত পণ্য হওয়ায় বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের কারণে জাহাজ পেতে বিলম্ব হয়েছে। তবে বিস্ফোরকবাহী চালান ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের পথে রয়েছে। আশা করছি, জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহেই পাথর উত্তোলন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে।”

তিনি আরও জানান, মোট ৩০০ মেট্রিক টন বিস্ফোরকের চাহিদা দেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ৮৮ মেট্রিক টন সরবরাহ পাওয়া যাবে, যা দিয়ে দুই থেকে আড়াই মাস উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পর্যায়ক্রমে বাকি চালানও দেশে পৌঁছাবে।

এদিকে উৎপাদন বন্ধ থাকায় পাথরের সরবরাহেও কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তবে খনিতে মজুত থাকা পাথর বিক্রি কার্যক্রম সীমিত আকারে অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে খনি কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ২৫ মে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথরখনি মধ্যপাড়া। বর্তমানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসির সঙ্গে চুক্তির আওতায় প্রতিদিন গড়ে সাড়ে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করা হয়। খনিতে তিন শিফটে প্রায় ৮০০ শ্রমিক কাজ করেন। তবে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও খনির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চালু রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সুলতান মাহমুদ/নাঈম

আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই
কৃষক কবির হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড নিয়ে আলোচনায় আসা টাঙ্গাইলের সেই ভাইরাল কৃষক কবির হোসেন মারা গেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

কবির হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

এক শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি শোকাহত পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

কবির হোসেন চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন মহলে তাকে ‘ভুয়া কৃষক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে নানা ধরনের প্রচারণা চালায়, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তদন্ত করে। তদন্তে কবির হোসেনকে একজন প্রকৃত কৃষক হিসেবে শনাক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং নিজ জমিসহ বিভিন্ন কৃষি কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন। তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তার কৃষক পরিচয়ের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ঘিরে বিতর্কের অবসান ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, কবির হোসেন ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সাদাসিধে একজন মানুষ। কৃষিকাজের পাশাপাশি তিনি এলাকার মানুষের কাছে একজন পরিচিত মুখ ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হওয়ার পরও তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন অব্যাহত রেখেছিলেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। কবির হোসেনের জানাজা ও দাফনের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

জুয়েল/নাঈম

ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে তাণ্ডব, আসবাবপত্র ভাঙচুরের পর লুটপাট

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে তাণ্ডব, আসবাবপত্র ভাঙচুরের পর লুটপাট
সোনারগাঁওয়ে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, আসবাবপত্র তছনছ। ইনসেটে উদ্ধার আইডি কার্ড। ছবি : খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক কাপড় ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, আসবাবপত্র তছনছ, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। 

সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামের রিয়াদ কবিরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ব্যবসায়ী বাদি হয়ে মঙ্গলবার সকালে সোনারগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। 

জানা যায়, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামের ইকবাল কবিরের ছেলে রিয়াদ কবিরের বাড়িতে একই এলাকার পিয়ার হোসেন,  মাসুম, শফিকুল ইসলাম, আল-আমিন (৪৮), লিটন হোসেন, ফর্মা হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন নিয়ে হামলা করে। 

এসময় নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ব্যবসায়ী রিয়াদ কবিরকে মারধর করে। এক পর্যায়ে বাড়ীতে মাদক রয়েছে বলে আমার ঘরবাড়ির আসবাবপত্র তল্লাশি করে। আসবাবপত্র তছনছ করে নগদ ৪ লাখ টাকা নিয়ে যায়। পরে মামলা ও গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়।

হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময়  তাদের একটি আইডি কার্ড ফেলে যায়। আইডি কার্ডে অজয় কুমার জয়, পদবী-সেপয়, ডিপার্টমেন্ট অফ নারকোটিক্স কন্ট্রোল বাংলাদেশ, আইডি নং- ৪৯১৩২৫, জাতীয় পরিচয় পত্র নং- ৪২১৮৯৫৩৪৮৯ পাওয়া যায়।

ফেলে যাওয়া আইডি কার্ড ফেরত দেওয়ার জন্য শরীফ হোসেন নামের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক সিপাহি পরিচয়ে আইডি কার্ড ফেরত দেওয়ার জন্য হুমকি প্রদান করে।

এ বিষয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিপাহি শরীফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আইডি কার্ড ফেরতের জন্য কাউকে ফোন দেননি বলে দাবি করেন। তবে অভিযানের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। 

ব্যবসায়ী রিয়াদ কবির জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে এলাকার একটি চক্র পুলিশের সোর্সের মাধ্যমে তার পরিবারকে হয়রানি করার জন্য বাড়িতে হামলা করে। মাদক উদ্ধারের নামে আসবাবপত্র তছনছ করে। হামলাকারীরা নগদ ৪ লাখ টাকা নিয়ে যায়। ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ও হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। 

অভিযুক্ত পিয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করেন। তিনি জানান, তিনদিন ধরে ওই এলাকায় তিনি যান না। কেউ তাকে দেখছেন প্রমাণ দিতে পারবে না। তবে শুনেছি প্রশাসনের লোকজনকে রিয়াদ ও তার পরিবারের লোকজন মারধর করেছে। 

সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, অভিযোগ গ্রহন করা হয়েছে। ডিবি পুলিশের নাম ব্যবহার করে হয়রানি মারাক্তক অপরাধ। আসল ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এসএন/

মো: ইমরান হোসেন/এসএন

দাউদকান্দি পৌরসভার ৪৩ কোটি টাকার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
দাউদকান্দি পৌরসভার ৪৩ কোটি টাকার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা
ছবি: খবরের কাগজ

কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌরসভা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪৩ কোটি ৯ লক্ষ ৯৮ হাজার ৪৬৮ টাকা ২৩ পয়সা প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছেন। 

একই সাথে অর্থবছরের রাজস্ব আয় ১৬ কোটি ৫৮ লক্ষ ২১ হাজার ২০২ টাকা ৫১ পয়সা, রাজস্ব ব্যয়: ১৩ কোটি ২০ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা, উদ্বৃত্ত ৩ কোটি ৩৭ লক্ষ ৯১ হাজার ২০২ টাকা ৫১ পয়সা। আর উন্নয়ন খাতে মোট উন্নয়ন আয় ২৬ কোটি ৫১ লক্ষ ৭৭ হাজার ২৬৫ টাকা ৭২ পয়সা। মোট উন্নয়ন ব্যয় ২৩ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা। উদ্বৃত্ত ২ কোটি ৯৬ লক্ষ ৭৭ হাজার ২৬৫ টাকা ৭২ পয়সা।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে পৌরসভা কার্যালয়ের সভাকক্ষে এই উন্মুক্ত বাজেট উপস্থাপন করেন পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলাম।

উন্মুক্ত বাজেটে উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতে সর্বোচ্চ ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এবারের বাজেটে নতুন কোনো কর আরোপ করা হয়নি।

বাজেট ঘোষণাকালে পৌর প্রশাসক রেদওয়ান ইসলাম  বলেন, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাস্তাঘাট, ড্রেন, সড়কবাতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর উন্নয়নে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। কোনো ধরনের নতুন কর চাপানো হয়নি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌর সহকারী প্রকৌশলী এইচ. এম. কামরুজ্জামান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী জেবিন সুলতানা, হিসাব রক্ষক মো. শাহাদাত হোসেন, কার্য সহকারী মোহাম্মদ আব্দুল আহাদসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় সাংবাদিকরা।

লিটন সরকার বাদল/এসএন