রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর বাজারের বাংলা টিফিন ও বঙ্গভোজ নামের দুটি রেস্তোরাঁয় হামলা, ভাঙচুর ও বিস্ফোরণের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) রাতে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মতিহার থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলাগুলো করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলা করেছেন রেস্তোরাঁ দুটির মালিক মুর্শেদ শাকিল এবং অপরটি করেছেন আহত পুলিশ কনস্টেবল ফয়েজ উদ্দিন।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৯ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিনোদপুরে বাংলা টিফিন নামের ওই রেস্তোরাঁয় খাবার কিনতে যান রমজান। খাবার দিতে দেরি হওয়ায় হোটেলের এক কর্মচারী ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এর কিছু সময় পর রমজানের অনুসারীরা ছুরি, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাংলা টিফিনের পাশাপাশি একই মালিকের আরেকটি রেস্তোরাঁয় (বঙ্গভোজ) হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশ ও রেস্তোরাঁর কর্মীদের লক্ষ্য করে অন্তত তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে ফয়েজ উদ্দিন নামে এক পুলিশ সদস্য আহত হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, ৩০–৪০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে রেস্তোরাঁটি ভাঙচুর করছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৯ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাংলা টিফিন রেস্তোরাঁয় খাবারের পার্সেল সরবরাহে বিলম্ব হওয়াকে কেন্দ্র করে রমজান আলীর সঙ্গে কর্মচারীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে তিনি সেখান থেকে চলে যান। কিছু সময় পর ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রেস্তোরাঁটিতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলাকারীরা রেস্তোরাঁয় ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি একাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের লক্ষ্য করেও বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে কনস্টেবল ফয়েজ উদ্দিনসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। হামলায় রেস্তোরাঁর তিন কর্মচারীও আহত হন।
একই সঙ্গে হামলাকারীরা মণ্ডলের মোড় এলাকায় অবস্থিত একই মালিকানাধীন বঙ্গভোজ রেস্তোরাঁয়ও ভাঙচুর চালায়। হামলায় দুই প্রতিষ্ঠানের তিন কর্মচারী আহত হন। রেস্তোরাঁ দুটিতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মালিকপক্ষ।
রেস্তোরাঁ মালিক মুর্শেদ শাকিল অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পরদিন সকালে মোটরসাইকেলে করে আসা দুই ব্যক্তি তার কর্মচারীদের হুমকি দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের চাপ দেয়।
তিনি বলেন, নিরাপত্তাহীনতার কারণে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কর্মচারীদের জীবিকাও হুমকির মুখে পড়বে।
অভিযোগের বিষয়ে রমজান আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবীর জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর হামলাকারীরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি হাতবোমা নিক্ষেপ করে। এতে কনস্টেবল ফয়েজ উদ্দিন আহত হন। তাকে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এনায়েত করিম/অন্তরা/