ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পাহাড়, বন আর নীল জলের অপূর্ব মিলন ৪টি চলচ্চিত্র নিয়ে ‘সামার বাংলা হিট ফেস্ট’ তিন নাটকে প্রশংসিত হিমি পুশ-ইন সমস্যা সমাধানের দাবিতে সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের প্রবাসী নিহত তপ্ত গরমে পশুপাখির প্রতি সদয় হোন সিনচিয়াংয়ে সংস্কৃতি ও পর্যটন উন্নয়ন সম্মেলন অনুষ্ঠিত সংঘাত নয়, হোক সম্প্রীতির উদযাপন কানসাসের দাবদাহে ‘কুলিং ভেস্টে’ অনুশীলন আর্জেন্টিনার চীনের ছাংছুনে অপটিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির বিপ্লব বাংলাদেশের বাজারে এল টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো খোকসায় ২০ বছর ধরে অচল কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, ভোগান্তিতে কৃষক-খামারি কেইনই ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সেরা স্ট্রাইকার: লিনেকার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন, সংলাপের পরামর্শ জাতিসংঘের গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল পরিদর্শন করলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ কৃষিকাজে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র নতুন অ্যান্ড্রয়েড ১৭ সংস্করণে গুগলের বড় চমক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রাখায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সনদ পেল মার্কেন্টাইল ব্যাংক এবি ব্যাংক পিএলসির ৪৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত ডিজিটাল পরিসরে নারীর নিরাপত্তা ও সহিংসতার স্বরূপ রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যা! একটি জাতির অবক্ষয়ের নির্মম চিত্র! ঝিনাইদহে ৩ দিনব্যাপী ফল মেলা শুরু ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তিচুক্তি ও বৈশ্বিক বাস্তবতা এবারের স্বপ্নবিলাসী বাজেট বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে: সংসদে আইনমন্ত্রী কাঁঠালকে কেন্দ্র করে বিরোধ, ছেলের মারধরে বাবার মৃত্যু সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন সক্ষমতার ওপর যাত্রাবাড়ীতে অবৈধ দখল উচ্ছেদে; মামলা ও জরিমানা মদ ভেবে বিষপানে পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু ফেঞ্চুগঞ্জে হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ২ জন নিহত, নিখোঁজ ১ ‘বাড়তি জেদ’ নিয়ে খেলছেন বেলিংহ্যাম

গ্যাসের ঘাটতি দূর করতে তিতাসে ৬ ওয়েলহেড কম্প্রেসর, আরও কূপ খননের পরিকল্পনা

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:০১ পিএম
আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:০২ পিএম
গ্যাসের ঘাটতি দূর করতে তিতাসে ৬ ওয়েলহেড কম্প্রেসর, আরও কূপ খননের পরিকল্পনা
বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড। ছবি: খবরের কাগজ

গ্যাসের মজুদ এবং চাপ কমে উৎপাদন কমছে দেশের সবেচেযে প্রাচীন এবং বড় তিতাস গ্যাস ফিল্ডে। জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাপ ৬০০ পিএসআই হলেও তিতাসের বেশিরভাগ কূপ থেকে সেই চাপে গ্যাস তোলা যাচ্ছে না। এতে করে সামগ্রিকভাবে গ্যাসের উৎপাদন কমছে। এ অবস্থায় চাপ বাড়িয়ে কূপের গ্যাস তোলার পাশাপাশি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে ওয়েলহেড কম্প্রেসর স্থাপন প্রকল্প নিয়েছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) কর্তৃপক্ষ।

ইতোমধ্যে তিতাস গ্যাস ফিল্ডের পাঁচটি কূপ থেকে ওয়েলহেড কম্প্রেসরের মাধ্যমে গ্যাস তোলা হচ্ছে। এর ফলে প্রতিদিন অতিরিক্ত ২২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করে দেওয়া হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। এছাড়া নতুন মজুদ খুঁজতে থ্রিডি সিসমিক সার্ভে করে নতুন আরও কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে বিজিএফসিএল কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, মেঘনা, কামতা ও নরসিংদী গ্যাস ফিল্ড বিজিএফসিএলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এর মধ্যে তিতাস সবচেয়ে বড়। ১৯৬২ সালে পাকিস্তানের শেল অয়েল কোম্পানি এই গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কার করে। তিতাসের ২৭টি কূপের মধ্যে বর্তমানে উৎপাদনে আছে ২২টি, যেগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। নানা কারণে বাকি পাঁচটি কূপ বন্ধ রয়েছে। সর্বশেষ সার্ভে অনুযায়ী তিতাসের কূপগুলোতে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে।

তবে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস উত্তোলনের ফলে তিতাসের সবকটি কূপেই গ্যাসের মজুদ কমছে। এর ফলে কমেছে গ্যাসের চাপ। এতে করে কূপগুলো থেকে সক্ষমতা অনুযায়ী গ্যাস তোলা যাচ্ছে না। এছাড়া ধারাবাহিকভাবে চাপ কমায় জাতীয় গ্রিডের চাপের সঙ্গে সমন্বয় করে গ্যাস তুলতেও বেগ পেতে হচ্ছিল বিজিএফসিএল কর্তৃপক্ষকে। গেল কয়েক বছর ধরেই এই সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ অবস্থায় চাপ বাড়িয়ে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় করে গ্যাস উত্তোলনে ওয়েলহেড কম্প্রেসর স্থাপন প্রকল্প নেয় বিজিএফসিএল। ৫৬১ কোটি টাকা ব্যায়ে গেল বছরের ফেব্রুয়ারিতে ছয়টি কম্প্রেসর স্থাপন কাজ শুরু হয়। বিজিএফসিএলের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় অবস্থিত তিতাস গ্যাস ফিল্ডের লোকেশন ‘ই’- তে তিনটি এবং খাঁটিহাতা এলাকায় অবস্থিত লোকেশন ‘জি’- তে তিনটি কম্প্রেসর স্থাপন করা হয়েছ।

মূলত কূপে গ্যাসের চাপ হ্রাস পেলে কূপের গ্যাস ওয়েলহেড কম্প্রেসর ইউনিটের মধ্যে এনে চাপ বৃদ্ধি করা হয়। এর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের চাপ অনুযায়ী গ্যাস উত্তোলন করে সরবরাহ করা যায়। বর্তমানে তিতাসের ১১, ১২ ও ১৭, ১৮ এবং ২৭ নম্বর কূপ থেকে ওয়েলহেড কম্প্রেসরের মাধ্যমে গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে।

ওয়েলহেড কম্প্রেসর স্থাপনের পূর্বে তিতাসের ১১, ১২, ১৭, ১৮ এবং ২৭ নম্বর কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা যেত। সম্প্রতি কম্প্রেসর স্থাপনের পর অতিরিক্ত আরও ২২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা যাচ্ছে। যার মাধ্যমে তিতাস গ্যাস ফিল্ড থেকে গ্যাসের উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে।

তিতাস গ্যাস ফিল্ডে ওয়েলহেড কম্প্রেসর স্থাপন প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ মামুন আজাদ বলেন, ওয়েলহেড কম্প্রেসর স্থাপনের প্রধান উদ্দেশ্য গ্যাসের উৎপাদন স্বাভাবিক এবং অব্যাহত রাখা। তিতাসের ওই পাঁচটি কূপে পর্যাপ্ত গ্যাস থাকলেও চাপ কম থাকার কারণে উৎপাদন কম হচ্ছিল। এখন সেই সমস্যা কেটে গেছে। তিতাসের লোকেশন ‘ই’- তে বসানো তিনটি কম্প্রেসরের প্রতিটি ৪০ মিলিয়ন এবং লোকেশন ‘জি’- তে বসানো বাকি তিনটির প্রতিটি দৈনিক ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের সক্ষম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. ফারুক হোসেন বলেন, ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে বিজেএফসিএল পরিচালিত গ্যাস ফিল্ডগুলোর বন্ধ কূপগুলো ওয়ার্কওভার প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া নতুন কোথাও গ্যাসের মজুদ আছে কিনা- সেটি অনুসন্ধানের জন্য থ্রিডি সিসমিক সার্ভে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছ। এর মাধ্যমে ১৪৫০ স্কয়ার কিলোমিটার এলাকা সার্ভে করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘সার্ভের মাধ্যমে আমরা জানতে পারব নতুন কোনো মজুদ আছে কিনা। যদি থাকে সেখানে মজুদের পরিমাণ কেমন। সার্ভে রিপোর্ট পাওয়ার পর নতুন আরও কিছু কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে’।

মাহফুজ/

 

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের প্রবাসী নিহত

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের প্রবাসী নিহত
নিহত গিয়াস উদ্দিন শিকদার/ ছবি: খবরের কাগজ

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় গিয়াস উদ্দিন শিকদার (৬০) নামের এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে তিনি এ দুর্ঘটনার শিকার হন।

দুপুরে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগামী একটি গাড়ি তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।

নিহত গিয়াস উদ্দিন শিকদার ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার উত্তর আলম নগর গ্রামের বাসিন্দা নূরুল হক সিকদারের ছেলে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গিয়াস উদ্দিন শিকদার সাড়ে তিন বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি দেন।

নিহতের ভাই শাহিনুজ্জামান শিকদার বলেন, ‘বুধবার বিকেলে আমরা খবর পাই সড়ক দুর্ঘটনায় আমার ভাই নিহত হয়েছেন। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাকে হারিয়ে আমরা এখন পুরোপুরি দিশেহারা। আমার ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছি’

এ বিষয়টি নিয়ে ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক আশিক সিদ্দিকী বলেন, তার মরদেহ দেশে আসার পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তিন লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। যদি কোন কারণে বিদেশের কোম্পানি তার মরদেহ দেশে আনার জন্য সহায়তায় দিতে না চায় তাহলে পরিবারের সদস্যদের আবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকার ওই প্রবাসীর মরদেহ বাড়িতে এনে দেওয়াসহ সার্বিক সহযোগিতা করবে।

নয়ন/আমান

খোকসায় ২০ বছর ধরে অচল কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, ভোগান্তিতে কৃষক-খামারি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
খোকসায় ২০ বছর ধরে অচল কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, ভোগান্তিতে কৃষক-খামারি
খোকসা জয়ন্তী হাজরা  ইউনিয়নে দুইযুগ  ধরে বন্ধ  পরিত্যক্ত কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র। ছবি: খবরের কাগজ

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় প্রায় দুই যুগ ধরে বন্ধ রয়েছে ইউনিয়ন পর্যা‌য়ে স্থায়ীভা‌বে নি‌র্মিত দুইটি কৃ‌ত্রিম প্রজনন কেন্দ্র।

অবহেলা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কেন্দ্রগুলোর ভবন এখন পরিণত হয়েছে পরিত্যক্ত স্থাপনায়।

কোথাও জন্ম নিয়েছে ভুতুড়ে পরিবেশ, কোথাও পোকামাকড়। ঝোপঝাড়ের দখলে চলে গেছে সরকারি স্থাপনা।

ফলে প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার কৃষক ও খামারিরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,২০০০ সালে প্রকল্পের আওতায় খোকসা উপজেলায় প্রাণিসম্পদ দপ্ত‌রের অধী‌নে নয়টি ইউনিয়নে কৃ‌ত্রিম প্রজনন কেন্দ্র চালু করা হয়। এর মধ্যে জয়ন্তী হাজরা ও আমবাড়িয়া ইউনিয়নে স্থায়ীকেন্দ্র এবং বাকি সাতটি ইউনিয়নে অস্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। যারা মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম প্রজননসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন।

কিন্তু কয়েক বছর যেতে না যেতেই স্থায়ী দুইটি কেন্দ্রের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।  বর্তমানে স্থাপনাগু‌লো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি সেবা না থাকায় তাঁরা পল্লী প্রজননকর্মীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। আবার ইউনিয়ন পর্যা‌য়ে উপ‌জেলা প্রা‌ণি সম্পদ থে‌কে যা‌দের দা‌য়িত্ব দেওয়া হ‌য়ে‌ছে তাঁ‌দের থেকেও প্রয়োজনীয় সেবা সবসময় পাওয়া যায় না। এ সুযোগে প্রজননকর্মীদের বিরু‌দ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

শিমুলিয়া এলাকার কয়েকজন খামারি জানান, সরকারি নির্ধারিত খরচের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী কৃত্রিম প্রজননের ক্ষেত্রে যাতায়াত ভাতা, স্ট্রো (হিমায়িত সিমেন) ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৩১৫ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, খোকসা উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার ২১০টি গাভী রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ গাভীর প্রজনন কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতিতে এবং বাকি ১০ শতাংশ ষাঁড়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় পশুপালক শাহজাহান আলী বলেন, “ইউনিয়ন পর্যায়ের কেন্দ্রগুলোতে কোনোদিন ডাক্তার আসতে দেখি না। প্রয়োজনের সময় সেবা পাওয়া যায় না। ফলে আমরা চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছি।”

জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম খান বলেন,“সরকারি জমির ওপর নির্মিত এই কেন্দ্রটি বছরের পর বছর বন্ধ পড়ে আছে। বর্তমানে জমিটির মূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। দ্রুত দখলমুক্ত করে কেন্দ্রটি পুনরায় চালু করা উচিত।”

খামারি জাহাঙ্গীর আল‌মের অভিযোগ, “সরকারি কোনো সহযোগিতা আমরা ঠিকমতো পাই না। প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করলেও অনেক সময় প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন মেলে না। বাধ্য হয়ে বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে কিনতে হয়।”

সা‌র্বিক বিষ‌য়ে জান‌তে চাইলে খোকসা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সোহেল রানা বলেন,“ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থায়ী দুটি কেন্দ্র রয়েছে—এ বিষয়টি আমি সম্প্রতি জানতে পেরেছি। স্থান প‌রিদর্শনও ক‌রে‌ছি। আমাদের অফিসে এ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র নেই। তবে মাঠপর্যায়ে প্রজননকর্মীরা বা‌ড়ি‌তে গি‌য়ে সেবা দিয়ে থাকেন।”

এ বিষ‌য়ে খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন  বলেন,“আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রঞ্জন ভৌমিক/এসএন

ঝিনাইদহে ৩ দিনব্যাপী ফল মেলা শুরু

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
ঝিনাইদহে ৩ দিনব্যাপী ফল মেলা শুরু
ছবি: সংগৃহীত

‘করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস’ এ শ্লোগানে ঝিনাইদহে শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী ফল মেলা।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর-এ নবীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ মেলায় ৫টি স্টল প্রদর্শন করা হয়েছে। মেলায় প্রায় অর্ধশত প্রকার দেশীয় ফল ও ফল আবাদের উন্নত প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে।

আগামী ২০ জুন শেষ হবে এ মেলা। দেশীয় ফলের উৎপাদন ও ভোক্তা সচেতনতা বাড়াতে এ ধরণের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন আয়োজকরা।

মাহফুজুর রহমান/এসএন

কাঁঠালকে কেন্দ্র করে বিরোধ, ছেলের মারধরে বাবার মৃত্যু

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
কাঁঠালকে কেন্দ্র করে বিরোধ, ছেলের মারধরে বাবার মৃত্যু
নিহত আব্দুর রাজ্জাক। ছবি: সংগৃহীত

গাছের পাকা কাঁঠালকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির জেরে ছেলের কিল-ঘুষিতে এক বৃদ্ধ বাবা নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 বুধবার (১৭ জুন) কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের চৌধুরীহাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী শাহেদা বেগম বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় ছেলে আলম (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী রেখার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

নিহত আব্দুর রাজ্জাক (৭০) সদর উপজেলার বড় খাপন গ্রামের বাসিন্দা। তবে কয়েক বছর আগে তিনি চৌধুরীহাটি গ্রামে একটি বাড়ি কিনে সেখানে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আলম ও তার স্ত্রী রেখা বেগম পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে গাছ থেকে পেড়ে আনা পাকা কাঁঠাল বাবা-মাকে না দেওয়াকে কেন্দ্র আব্দুর রাজ্জাক ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী শাহেদা বেগমের বড় ছেলে মো. আলম ও পুত্রবধূ রেখার মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে আলম তাঁর বাবাকে কিল-ঘুষি মারেন। এতে আব্দুর রাজ্জাক গুরুতর অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের স্ত্রী শাহেদা বেগমের অভিযোগ, তার ছেলে আলমের আক্রমণের কারণেই আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যু হয়েছে। কিল-ঘুষি মারতে মারতে আব্দুর রাজ্জাকের গলাচেপে ধরে আলম। এতে আব্দুর রাজ্জাক গুরুতর অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের স্বজনেরা জানায়, আব্দুর রাজ্জাকের দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে দুই ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে আলম বিবাহিত এবং দুই কন্যাসন্তানের জনক। তার বড় মেয়ের বয়স প্রায় ১৫ বছর এবং ছোট মেয়ের বয়স ৭ বছর। ছোট ছেলে জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত রয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আলম ও তার স্ত্রী রেখার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে।আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তাসলিমা আক্তার মিতু/এসএন

যাত্রাবাড়ীতে অবৈধ দখল উচ্ছেদে; মামলা ও জরিমানা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
যাত্রাবাড়ীতে অবৈধ দখল উচ্ছেদে; মামলা ও জরিমানা
ছবি: খবরের কাগজ

জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এবং ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখতে যাত্রাবাড়ী এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংস্থাটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ফ্লাইওভারের ইনকামিং অংশ থেকে শুরু করে যাত্রাবাড়ী হয়ে কাজলা পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশের ফুটপাত ও রাস্তার ওপর গড়ে ওঠা সকল অবৈধ স্থাপনা -দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়।

অভিযান চলাকালে অবৈধভাবে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে ৫টি মামলা দায়ের করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোট ১৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ সময় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

রাজু/আমান