সিলেট নগরীতে ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা প্রকাশ করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। পাশাপাশি চিহ্নিত ভবন অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত সোমবার সিসিকের আয়োজনে নগরভবনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ভূমিকম্পের পূর্বপ্রস্তুতি ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও অবহেলায় পড়ে থাকা এসব ভবন আগামী সপ্তাহ থেকেই ভাঙার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম প্রমুখ।
এ সময় জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোতে অনেকেই এখনো বসবাস বা ব্যবসা করছেন, যা বড় বিপদের আশঙ্কা তৈরি করছে। নাগরিকদের সুরক্ষার স্বার্থেই জরুরিভিত্তিতে ভবনগুলো ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সংকীর্ণ রাস্তাগুলোর কারণে দুর্যোগের সময় উদ্ধারকাজ বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যা নিয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন।
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মুশতাক আহমেদ বলেন, ‘সিলেটের ৪২ হাজার ভবনের বেশির ভাগই পুরোনো ও দুর্বল। মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেও বহু স্থাপনা ধসে পড়তে পারে। কারণ ৬০-৬৫ শতাংশ ভবনেই নির্মাণ বিধিমালা মানা হয়নি।
সিসিকের তালিকাভুক্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো হলো কালেক্টরেট ভবন-৩, সমবায় ব্যাংক ভবন মার্কেট, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার সাবেক কার্যালয়, সুরমা মার্কেট, সিটি সুপার মার্কেট, মিতালী ম্যানশন, আজমীর হোটেল, মধুবন মার্কেট, মান্নান ভিউ, শুভেচ্ছা-২২৬, চৌকিদেখী ৫১/৩ সরকারি ভবন, নবপুষ্প-২৬/এ, রাজা ম্যানশন, কিবরিয়া লজ, মিতালী-৭৪, মেঘনা-এ-৩৯/২, পাঠানটুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ওয়ারিছ মঞ্জিল, হোসেইন মঞ্জিল, শাহনাজ রিয়াজ ভিলা, নূরানি-১৪, পৌর বিপণি ও শপিং সেন্টার এবং লেচুবাগান এলাকার প্রভাতী ও শ্রীধরা হাউস।
এর আগে ২০১৯ সালের ভূমিকম্পের পর বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে এসব ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে সিসিক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি সুরমা মার্কেট, সিটি সুপার মার্কেটসহ ৭টি বিপণিবিতান ১০ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ পেলেও পুনরায় চালু করা হয়। ছয় বছর পার হলেও অনেক ভবন এখনো ঝুঁকির তালিকায় রয়ে গেছে।