স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সাধারণত সরকারি কোয়ার্টার বরাদ্দ থাকে। অথচ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোয়ার্টার বরাদ্দ না নিয়েই সেখানে বসবাস করেন। বিনিময়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাবরক্ষক ফাতেমা আক্তারকে ভাড়া হিসেবে প্রতি মাসে নগদ টাকা দেন। যার কোনো রশিদ দেওয়া হয় না। কমপ্লেক্সে আসা নতুন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এই নিয়ম চালু করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে থাকা তিন তলা ভবনের ছয়টি কোয়ার্টার রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটে থাকা পরিবার মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা দিয়ে থাকেন। তবে ভাড়াটিয়াদের শর্ত দেওয়া হয়েছে—তারা যেন বিষয়টি কাউকে না জানায়। এসব কোয়ার্টারে থাকা কারও নামে সরকারিভাবে বাসা বরাদ্দ নেওয়া হয়নি। তারা অল্প টাকায় এসব বাসায় থেকে মূল বেতনের সঙ্গে বাসা ভাড়া বাবদ আরও টাকা তুলে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি মাসে ভাড়া বাবদ ওঠা টাকার একটি অংশ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিয়ে থাকেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারে থাকা এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা প্রতি মাসে বাসা ভাড়ার টাকা হিসাবরক্ষক ফাতেমার হাতে দিয়ে থাকি।’ এ ছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী বলেন, ‘হাসপাতালের একটি সিন্ডিকেটকে আর্থিক সুবিধা দিয়ে অনেকেই বিনা ভাড়ায় কোয়ার্টারে থাকছেন। ফলে সরকার মোটা অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে।’
এ ছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুকুরটি আগে প্রতিবছর লিজ দেওয়া হতো। সেখান থেকে সরকার প্রতিবছর ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা রাজস্ব পেত। কিন্তু কয়েক বছর ধরে পুকুরটি লিজ দেওয়া হয় না। এটি এখন হিসাবরক্ষক কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রায়ই স্বজনদের নিয়ে সেখানে বড়শি ফেলে মাছ শিকার করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাবরক্ষক ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘এখানে যারা কোয়ার্টারে থাকেন সবাই সরকারি বরাদ্দ নিয়ে থাকেন। হাতে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পুকুরের লিজ দেওয়ার বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ভালো জানেন।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলতাফ হোসেন বলেন, ‘যারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারে থাকেন তাদের সবার বেতন অনুযায়ী বাসা ভাড়া কাটা হয়। এখানে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পুকুরটির লিজের বিষয়ে কোনো ডকুমেন্ট পাইনি।’
স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘সরকারি বেতনভুক্ত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিনা খরচে সরকারি কোয়ার্টারে থাকার সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’