চট্টগ্রাম নগরীর কাতালগঞ্জের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান ৩৫টি খালের সংস্কার কাজের অংশ হিসেবে কাতালগঞ্জ হিজড়া খালও সংস্কার করা হচ্ছে। গত এক বছর ধরে আমরা নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। খালটি মেহেদীবাগ থেকে শুরু হয়ে চাক্তাই খাল ফুলতলী হলে কর্ণফুলীতে পড়েছে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে নগরীর কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর রোডের মুখে হিজড়া খালের পাড়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
শাহাদাত হোসেন বলেন, “হিজড়া খাল নগরীর মেহেদীবাগ গোলপাহাড় মোড় থেকে শহরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যেমন- পাঁচলাইশ, ষোলশহর, কাতালগঞ্জসহ এই খালের পাড়ে। হিজড়া খালের কাজ শুরু হয়েছে। যখন কাজ চলে কিছু জনদুর্ভোগ হয়। এটার স্থায়ী সমাধান হবে। সমাধান হওয়া পর্যন্ত এলাকাবাসীকে একটু সহ্য করতে হবে। অনেকে খাল দখল করে বড় বড় বিল্ডিং তুলেছেন, এ কারণে খালটি ছোট হয়ে গেছে। ”
মেয়র বলেন, “খালের কাজ যখন হয় তখন বাঁধ দিতে হয়। সেজন্য কিছু পানি ওঠে। ৩০ ফুটের হিজড়া খাল এখন ১৮ ফুট আছে। আরো ১২ ফুট যাদের ভবন তাদের ছাড়তে হবে। এখানে ভবন ভাঙতে হবে। যারা ভবন করেছে, তাদের ছাড় দিতে হবে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কষ্ট করতে পারলে সারা বছর ভালো থাকতে পারব। পুরো শহরে পানি নামলেও এখানে নামে না। এটার স্থায়ী সংস্কার দরকার।“
চসিক মেয়র বলেন, “এখন সাময়িক যে পানি, এটার জন্য চিন্তা করবেন না। ২-৩ মাসের মধ্যে স্থায়ী সমাধান পাবেন। আমরা সাময়িক কিছু করতে চাই না। তাই কাজ ধরেছি। আগামী ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত হয়ত আমাদের কষ্ট করতে হবে। ৈধর্য্য ধরতে হবে এলাকাবাসীদের।”
খালের পাড়ে গড়ে তোলা ভবন মালিকদের উদ্দেশে শাহাদাত বলেন, “ সাময়িক পানি উঠা থেকে মুক্তি পাবে এ এলাকার মানুষ। কিন্তু এর জন্য ডকুমেন্টসের বাইরে কিছু হবে না। আরএস-বিএসের বাইরে কেউ কিছু (জমি) নিতে চাইলেও দেবেন না। খালের জমি যা আছে তা দিতে হবে। আপনাদেরও এখানে হাঁটতে হবে। কারো উপর কোন অনিয়ম হবে না। যতটুকু ভাঙার দরকার, ততটুকু ভাঙা হবে। আপনারা সেক্রিপাইজ করতে হবে। আপনাদের জায়গা আমাদের দরকার হলে ক্ষতিপূরণ পাবেন।
“এখানে ৪-৫ ঘণ্টা পানি থাকে। আমাদের পাম্পিং মেশিন আছে। পাম্পিং করব। এখানে যে পানি উঠে সাংবাদিকরা সেটা নেগেটিভলি না দেখে পজেভটিভলি দেখেন, মিডিয়াকে অনুরোধ। কাজ শেষ হলে আর পানি থাকবে না।”
নগরীর কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকায় এবং পাঁচলাইশমুখী সড়কে হিজড়া খালের পাড়ে জোয়ারের সময় পানি উঠে প্রায়ই। সম্প্রতি খালে বাঁধ দিয়ে সংস্কার কাজ শুরুর পর প্রতিদিন এই এলাকায় জলাবদ্ধতা হচ্ছে।
এরপর মেয়র ওই এলাকায় ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে মশক নিধনে ক্রাশ প্রোগ্রামের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। কারো উপর কোন ধরণের অনিয়ম হবে না বলে আশ্বাস দেন। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা স্থায়ী সমাধান করবেন বলে উল্লেখ করেন মেয়র।
আবদুস সাত্তার/এসএন