সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতাধীন ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় শহিদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে সামরিক মর্যাদায় সমাহিত করা হয়েছে।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার তারাকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর নিয়াজ মাখদুম, পাকুন্দিয়া সেনা ক্যাম্পের ওয়ারেন্ট অফিসার আবির আহমেদসহ অন্যান্য সেনা সদস্যরা। দাফনের পর পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে জাহাঙ্গীরের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
শহিদ জাহাঙ্গীর আলম ১নং জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের তারাকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামের আকন্দ বাড়ির মো. হযরত আলীর ছেলে। তিনি ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর চাকরিতে যোগদান করেন। জাহাঙ্গীর আলম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেস ওয়েটার পদে কর্মরত ছিলেন (ব্যক্তিগত নম্বর: সিএস-২২০১০৯)। তিনি গত ৭ নভেম্বর শান্তিরক্ষা মিশনে সুদান যান।
প্রায় ১১ বছর ধরে সেনাবাহিনীতে কর্মরত এই সদস্য স্ত্রী রুবাইয়া ও তিন বছর বয়সী একমাত্র সন্তান ইরফানকে রেখে বিদেশে দায়িত্ব পালন করছিলেন। শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ার ৩৭ দিনের মাথায় এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে জাহাঙ্গীরের পরিবার-পরিজনসহ এলাকাবাসী শোকাভিভূত।
এর আগে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিট থেকে ৩টা ৫০ মিনিটের মধ্যে কাদুগলি লজিস্টিক বেসে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষী শহিদ হন এবং আটজন আহত হন।
মিতু/রিফাত/