বিনা পারিশ্রমিকে কবর খোঁড়ার কাজ করেন মজিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। ৫৫ বছর ধরে তিনি এ কাজ করে যাচ্ছেন।
মজিরুল ইসলাম মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার দেবীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
মজিরুল ইসলাম জানান, সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে তিনি এ কাজ করেন।
ওই গ্রামের বাসিন্দারা জানান, মজিরুল ইসলাম গ্রামে কবর খোঁড়ার দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি নিজে এ দায়িত্ব নিয়েছেন। মজিরুলকে কবর খননের কাজে সহযোগিতা করেন একই গ্রামের কয়েকজন মানুষ। এ কাজের জন্য তারা কখনো কোনো পারিশ্রমিক নেন না।
মজিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ৫৫ বছর ধরে এই কবর খোঁড়ার কাজ করছি। যতদিন সুস্থ থাকব এ কাজ করে যাব। আমাদের গ্রাম ছাড়া যদি অন্য গ্রামে কেউ মারা যায় এবং কবর খোঁড়ার জন্য আমাদের ডাকে, আমরা সেখানেও যাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ, মাঠে কাজ করে খাই। তার পরও যখন কেউ মারা যায়, কোনো দ্বিধা ছাড়াই আমি কবর খোঁড়ার কাজ করতে চলে যাই। এটা আমার নেশায় পরিণত হয়ে গেছে। আমি এখন এ কাজ অনেককে শেখানোর চেষ্টা করছি। যাতে তারা পরবর্তী সময়ে এ কাজ করতে পারে।’
কবর খননকাজে মজিরুল ইসলামকে সহযোগিতা করেন শাকের আলী। তিনি বলেন, ‘আমরা নিঃস্বার্থভাবে এ কাজ করি। এ ছাড়া এই কাজের বিনিময়ে আমরা কখনো কোনো টাকা নিই না। গ্রামের কেউ মারা গেছে শুনলে আমরা তাৎক্ষণিক নিজেদের কাজ রেখে কবর খোঁড়ার কাজে চলে আসি।’
মাওলানা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘হাদিসে আছে ‘যারা এই কবর খোঁড়ার কাজ করে থাকেন, আল্লাহতাআলা তাদের জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।’ আর যারা কবর খোঁড়ার কাজ করে বেড়ান, তারা সব সময় সুস্থ থাকুক, আমরা এ দোয়া করি।’
গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গোরখোদকরা বিনা পারিশ্রমিকে এই কাজটি করেন। তারা কোনো সরকারি সহযোগিতা পান না। তারা কখনো চানওনি। তবে তাদের সরকারিভাবে কোনো সহোযোগিতা করা যায় কি না, বিষয়টি আমি দেখব।’