ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন আনোয়ার ইব্রাহিম আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজধানীতে থাকবে ১৮০০০ পুলিশ মাদরাসা ছাত্রকে অমানুষিক নির্যাতন সাবেক এমপি সেলিমা আহমাদ মেরী মারা গেছেন টিভিতে আজকের খেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় ট্রাকের যন্ত্রাংশের চালান জব্দ, আটক ১ জুন মাসে ডিএমপির বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৫৩৭ লেবাননে যেকোনো হুমকি নির্মূলে স্বাধীন ইসরায়েলি সৈন্যরা: কাটজ পদত্যাগের মুখে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপিপুত্র সজীবকে যুবদল থেকে বহিষ্কার ভাঙ্গুড়ায় বিএনপি নেতার মারধর, ৪ ঘণ্টা পর কৃষকের মৃত্যু সেনেগালের কঠিন পরীক্ষা, নরওয়ের চোখ নক আউটে যমুনা ফিউচার পার্কে ২ দিনের ‘কে-গুডস ফেস্টা’ মালয়েশিয়ায় ‘হালাল’ পণ্য রপ্তানির অপার সম্ভাবনা কাতারের ভয়াবহ বিস্ফোরণ: আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮ হাজারীবাগ থেকে হেমায়েতপুর পূর্ণতা পায়নি চামড়া শিল্পনগরী শরীফাতুন্নিছা মহিলা মাদরাসার অভিভাবক সম্মেলন ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান কমিউনিটি ব্যাংকের ৭ম বার্ষিক সাধারণ সভা, নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারাল মিশর বর্ষা এলেই জলজট স্মার্টফোনের নতুন সেনসেশন ‘হেলিও ৪৬’ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করবে: জেডি ভ্যান্স দুপুরের মধ্যে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা মালেশিয়ায় শ্রমবাজার খোলার আশা আছে জটিলতাও নায়ক হতে প্রস্তুত এমবাপ্পে সাতসকালে ঢাকার বায়ুমান নিয়ে দুঃসংবাদ রোনালদোকে পাস দেওয়ার জন্য খেলোয়াড়রা কি বাধ্য? বিশ্বকাপের মঞ্চে এমবাপ্পের ‘সেঞ্চুরি’, অনন্য এক ইতিহাসের সামনে ফরাসি মহাতারকা

চট্টগ্রামে ১৩০ প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষণ উচ্চশিক্ষিত ৭২ শতাংশ আছেন স্বশিক্ষিতও

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
উচ্চশিক্ষিত ৭২ শতাংশ আছেন স্বশিক্ষিতও
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের প্রার্থীদের মধ্যে ৭২ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত। এর মধ্যে একজন পিএইচডি, তিনজন এমফিল ডিগ্রিধারী রয়েছেন। এমবিবিএস ৫ জন, ৪৮ জন স্নাতকোত্তর, এলএলবি ১৬ জন, স্নাতক ডিগ্রিধারী আছেন ২১ জন প্রার্থী। রয়েছে উল্টো চিত্রও। স্বশিক্ষিত বা সাক্ষরজ্ঞান প্রার্থীরা আইনপ্রণেতা হতে চান। 

১৩০ প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে। গত ২৯ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে ১৪৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে ১৩০ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রার্থীদের মধ্যে একজন পিএইচডি ও তিনজন এমফিল ডিগ্রিধারী রয়েছেন। এমবিবিএস ডিগ্রিধারী রয়েছেন পাঁচজন। ৪৮ জন প্রার্থী স্নাতকোত্তর। এলএলবি ১৬ জন (এর মধ্যে বার-অ্যাট ল ৩ জন)। স্নাতক ডিগ্রি রয়েছে ২১ জনের। ১৩০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯৪ জন উচ্চশিক্ষিত, যা শতকরা হিসাবে ৭২ দশমিক ৩০ শতাংশ। এ ছাড়া এইচএসসি পাস করেছেন ১২ জন। এসএসসি পাস আছেন সাতজন। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে একজন লিখেছেন মুফতি, আরেকজন হাফেজে কোরআন, একজন ডিএইচএমএস। উচ্চশিক্ষিত ও শিক্ষিত প্রার্থীর বিপরীতে স্বশিক্ষিত প্রার্থী আছেন ১১ জন।

পিইচডি ডিগ্রিধারী এস এম বেলাল নূর ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন চট্টগ্রাম-১২ আসনে। পেশায় তিনি একজন শিক্ষক। এমফিল ডিগ্রিধারী প্রার্থীরা হলেন চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপিদলীয় প্রার্থী সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ মোখতার আহমদ ও চট্টগ্রাম-৭ আসনে ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মোহাম্মদ ইকবাল হাছান।

এমবিবিএস ডিগ্রিধারী আছেন পাঁচজন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৭ আসনে এ টি এম রেজাউল করিম, চট্টগ্রাম-৮ আসনে ডা. আবু নাছের, চট্টগ্রাম-৯ আসনে ডা. এ কে এম ফজলুল হক ও চট্টগ্রাম-১২ আসনে মোহাম্মদ ফরিদুল আলম। এমবিবিএস ডিগ্রিধারী প্রার্থীরা পেশায় চিকিৎসক ও ব্যবসায়ী। চারজনই জামায়াতদলীয় প্রার্থী। আরেকজন হলেন পটিয়া আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী এমদাদুল হাসান।

স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী প্রার্থী আছেন ৪৮ জন, যা ১৩০ জন প্রার্থীর ৩৬ দশমিক ৯২ শতাংশ। স্নাতক ডিগ্রিধারী আছেন ২১ জন, যা ১৬ দশমিক ১৫ শতাংশ। এলএলবিবি ডিগ্রিধারী আছেন ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ। 

চট্টগ্রাম-১২ আসনে মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইন ডিএইচএমএস ডিগ্রিধারী। পেশায় হোমিও চিকিৎসক। চট্টগ্রাম-১৪ আসনের এইচ এম ইলিয়াছ শিক্ষাগত যোগ্যতা হাফেজে কোরআন। তিনি ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী। চট্টগ্রাম-১৩ আসনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মো. ইমরানের শিক্ষাগত যোগ্যতা লিখেছেন মাওলানা বা মুফতি। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। একজন লিখেছেন দশম শ্রেণি পাস।

বার-অ্যাট ল ডিগ্রিধারী আছেন তিনজন। তিনজনই চট্টগ্রাম-৫ আসনের প্রার্থী। তারা হলেন জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, বিএনপিদলীয় প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেত্রী সাকিলা ফারজানা।

স্বশিক্ষিত ১১ জন

১১ জন প্রার্থী শিক্ষাগত যোগ্যতা লিখেছেন স্বশিক্ষিত বা সাক্ষরজ্ঞান। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের বিএনপিদলীয় প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের বিএনপিদলীয় প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী, জাপা প্রার্থী মেহেদী হাসান রাশেদ, চট্টগ্রাম-১১ আসনের জাপা প্রার্থী আবু তাহের, চট্টগ্রাম-১২ আসনের এলডিপি প্রার্থী এম এয়াকুব আলী, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে মোহাম্মদ এমরান, আবদুর রব, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের বিএনপিদলীয় প্রার্থী জসীম উদ্দিন আহমেদ ও মো. নুরুল আনোয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা লিখেছেন স্বশিক্ষিত বা সাক্ষরজ্ঞান।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী বলেন, সংসদ সদস্যের প্রধান কাজ আইন প্রণয়ন করা। এই যুক্তিতে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত ছিল, শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে মনোনয়ন দেওয়া। আশা করছি, ভোটাররা সৎ, শিক্ষিত ও দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ–এমন প্রার্থীদের বিবেচনা করবেন।

মাদরাসা ছাত্রকে অমানুষিক নির্যাতন

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৪২ এএম
মাদরাসা ছাত্রকে অমানুষিক নির্যাতন
ছবি: ইসমাইল

খুলনার সোনাডাঙ্গায় ইসমাইল নামে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর ওপর হেফজখানার শিক্ষকের অমানসিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মারধরের কারণে তার দুই চোখের নিচে রক্ত জমাট বেঁধে গেছে। এ ছাড়া নির্যাতনের সময় তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকে নুরুল কুরআন তাহজিদ একাডেমি নামে মাদরাসাটি বন্ধ করে শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যান। 

ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের পর শিশুটিকে তিন দিন পর্যন্ত মাদ্রাসায় আটকে রাখা হয়। এ সময় তাকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার ইসমাইলের বাবা মো. ফারুক স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে গত ২০ জুন রাতে তাকে উদ্ধার করেন। স্থানীয়রা জানান, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে বয়রা ডাক্তারপাড়া এলাকায় নুরুল কুরআন তাহজিদ একাডেমিতে এ ঘটনা ঘটে। পড়াশোনার জন্য ইসমাইল রাতে ওই মাদরাসায় অবস্থান করত।

শিশুটির বাবা মো. ফারুক জানান, গত দুই দিন মাদরাসায় রাতে খাবার দিতে গেলেও ছেলের সঙ্গে তাকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। এ সময় ইসমাইলের গায়ে জ্বর ও চিকিৎসা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়। পরে ২০ জুন রাতে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে মাদরাসায় ঢুকে তার সন্তানকে উদ্ধার করেন। এ সময় তার সারা শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখতে পান। তবে ভয়ে তিনি এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। স্থানীয় কিছু মানুষ ও প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টি মিটমাট করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে ঘটনার খবর শুনে রবিবার (২১ জুন) নুরুল কুরআন তাহজিদ একাডেমিতে গেলে সেটি তালাবদ্ধ দেখা যায়। মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি আব্দুর রহমানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সাবেক এমপি সেলিমা আহমাদ মেরী মারা গেছেন

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
সাবেক এমপি সেলিমা আহমাদ মেরী মারা গেছেন
সেলিমা আহমাদ মেরী। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা-২ (হোমনা ও তিতাস) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ মেরী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

রবিবার (২১ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। 

সেলিমা আহমাদ মেরীর চাচাতো ভাই মিনহাজ আল-ইসলাম তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন সেলিমা আহমাদ। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্যাংককের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

সেলিমা আহমাদ দেশের অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদের সহধর্মিণী ছিলেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যবসায়িক অঙ্গনেও তিনি সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

১৯৬০ সালের ৭ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন সেলিমা আহমাদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনায় স্নাতক ও এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ডেনমার্ক ও কানাডায় ব্যবসা ব্যবস্থাপনা এবং নেতৃত্ব উন্নয়ন বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে হোমনা ও তিতাস উপজেলার অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং নারী আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়িক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন মহল তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।

এফবিসিসিআই সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তার মরদেহ দেশে আনার পর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হবে।

অন্তরা/

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় ট্রাকের যন্ত্রাংশের চালান জব্দ, আটক ১

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:২৪ এএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় ট্রাকের যন্ত্রাংশের চালান জব্দ, আটক ১
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে পাথর বোঝাই একটি ট্রাকে থেকে ৩২০ পিস ভারতীয় ট্রাকের যন্ত্রাংশ (পার্টস)সহ মাহফুজুর রহমান (২৩) নামে একজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৫৯ বিজিবি)।

শনিবার (২০ জুন) রাতে উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের পাকা রাস্তায় এই অভিযান চালানো হয়। 

আটককৃত মাহফুজুর রহমান শিবগঞ্জ থানার কানসাট সংলগ্ন বাজিতপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে।

রবিবার দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (২০ জুন) রাতে ৫৯ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার সহকারী পরিচালক সেখ মনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে বিজিবির একটি দল সীমান্ত পিলার থেতে আনুমানিক ৮০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জে পিরোজপুর গ্রামের অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন একটি বাংলাদেশি ট্রাক থামিয়ে তল্লাশি করা হলে ট্রাকে থাকা ১০ টন ভারতীয় পাথরের ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৩২০ পিস ভারতীয় ট্রাকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে জব্দ করা হয় পাথর বোঝাই ট্রাকটি।

বিজিবি জানায়, সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ উপায়ে এসব ভারতীয় যন্ত্রাংশ বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। আটক আসামিসহ জব্দকৃত ট্রাক, পাথর এবং যন্ত্রাংশসমূহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। 

এর আগে গত ১৯ জুনও এই ব্যাটালিয়নটি একটি পরিত্যক্ত পুকুরে অভিযান চালিয়ে ২০৭ পিস ভারতীয় যানবাহনের যন্ত্রাংশ উদ্ধার করেছিল।

৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, বিজিবি সব ধরনের চোরাচালানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি’র এ ধরনের কঠোর অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

মো. আসাদুল্লাহ/অন্তরা/

ভাঙ্গুড়ায় বিএনপি নেতার মারধর, ৪ ঘণ্টা পর কৃষকের মৃত্যু

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:০১ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১০:০৪ এএম
ভাঙ্গুড়ায় বিএনপি নেতার মারধর, ৪ ঘণ্টা পর কৃষকের মৃত্যু
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ নিজেদের হেফাজতে নেয়।ছবি: খবরের কাগজ

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতার মারধরের ৪ ঘণ্টা পর জামিল হোসেন (৫০) নামের এক কৃষকের মৃত্য হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) রাতে উপজেলার কৈডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জামিল হোসেনের বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার হরিনা গ্রামে। অভিযুক্ত ইউসুফ আলী ভাঙ্গুড়ার চড়-ভাঙ্গুড়া গ্রামের কুদ্দুস মণ্ডলের ছেলে। তিনি সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ও বর্তমানে সদর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ দিন আগে ধান মাড়াইয়ের কাজ করতে জামিল হোসেন তার মেয়ে, মেয়ের জামাই ও চাচাতো ভাইকে নিয়ে ভাঙ্গুড়ায় আসেন। তারা উপজেলার কৈডাঙ্গা গ্রামে রেললাইনের পাশে স্থানীয় এক ব্যক্তির ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন।

নিহতের জামাই আব্দুল কাদের জানান, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইউসুফ আলী তার শ্বশুর জামিল হোসেনকে ধান মাড়াইয়ের কাজ করতে চাপ দেন। তিনি কিছুটা দেরি হবে বলে জানালে ইউসুফ ক্ষিপ্ত হয়ে ধান মাড়াই মেশিনের চাবি কেড়ে নেন। পরে চাবি ফেরত চাইলে সেই চাবি দিয়েই তাকে বেদম মারধর করা হয়। এরপর জোর করে ধান মাড়াইয়ের কাজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ৩ বিঘা জমির ধান মাড়াই করেন।

আব্দুল কাদের আরও জানান, কাজ শেষে তারা সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভাড়া বাসায় ফিরে আসেন। সেখানে জামিল হোসেন অস্বস্তি অনুভব করলে পাশের বড়াল নদীতে গোসল করতে যান। গোসল শেষে ফিরে এসে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। জামিল হোসেন আগে থেকেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন বলে জানান তিনি।

অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার পর অভিযুক্ত ইউসুফ আলীর চাপে স্বজনরা দ্রুত মরদেহ নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয়রা বিষয়টি বুঝতে পেয়ে ভাঙ্গুড়া থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ নিজেদের হেফাজতে নেয়।

ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ইউসুফ আলী পলাতক রয়েছেন। তার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর-মুজাহিদ স্বপনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী ভাঙ্গুড়া থানার এসআই সুব্রত কুমার বলেন, প্রাথমিকভাবে মরদেহের মাথার পেছনে সামান্য কাটা-ছেঁড়ার দাগ পাওয়া গেছে। মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার কারণে ওই আঘাত লেগে থাকতে পারে। এ ছাড়া শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

ভাঙ্গুড়া থানার ওসি সাকিউল আজম বলেন, গতকাল সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। সেই অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্ষা এলেই জলজট

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:২৬ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
বর্ষা এলেই জলজট
ছবি: খবরের কাগজ

বর্ষা মৌসুম এলেই কক্সবাজারের টেকনাফে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। প্রতিবছরের মতো এবারও একটু ভারী বৃষ্টিপাতেই উপজেলার অধিকাংশ গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, বীজতলা ও মৎস্য ঘের। ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে কৃষক ও খামারিদের। অপরিকল্পিত উন্নয়ন, খাল ভরাট ও অবৈধ দখলের কারণেই পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উপজেলার চিহ্নিত ৪০টি খাল পুনর্খননের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা কৃষি ও মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে টেকনাফ উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমির আউশ বীজতলা, ধানখেত, সবজি চাষ ও পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে প্রায় ১০৭ হেক্টর জমির ফসল আংশিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ে। অন্যদিকে চিংড়ি ঘের ও পুকুরসহ প্রায় ৮০০ হেক্টর মৎস্য খামারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, এসব মৎস্য খামারে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। টানা বৃষ্টিপাতের প্রভাবে শুধু মাছের ঘের ও পুকুরই নয়, ক্ষতির মুখে পড়েছে বিভিন্ন পোলট্রি খামার। ফলে কৃষক ও খামারিরা আর্থিকভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান, খাল ভরাট ও দখলের কারণে প্রতিবছর টানা ভারী বৃষ্টিপাতে তার ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। সীমান্ত সড়কের স্লুইচ গেটের সংখ্যা বাড়ানো হলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে বলে মত দেন তিনি। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে খাল ভরাট, দখল ও নিয়মিত খননের অভাবে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে না পারায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। উপজেলার সব খাল খনন, সংস্কার ও অবৈধ দখলমুক্ত করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে তারা। 

টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিহাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি একটি সময়োপযোগী ও কৃষিবান্ধব উদ্যোগ। টেকনাফ উপজেলায় খাল খননের জন্য ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় তালিকা পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন হলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধান হবে ও এলাকার মানুষ স্বস্তি ফিরে পাবেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সরকারের খাল খনন ও পুনর্খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে টেকনাফের সাবরাং, বাহারছড়া, হ্নীলা, টেকনাফ সদর ও পৌরসভা এলাকার মোট ৪০টি খালের বর্তমান অবস্থা, দৈর্ঘ্য, আয়তন, বিএস (বাংলাদেশ সার্ভে) ও দিয়ারা দাগ নম্বরসহ তালিকা এবং প্রয়োজনীয় হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলোকে পুনর্খনন কার্যক্রমের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

খাল দখল প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. রফিক বলেন, টেকনাফ পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কায়ুকখালী খালটি আগের ম্যাপ ও আরএস দাগ অনুযায়ী পুনরুদ্ধার করতে হবে। খালের দুই পাশ থেকে সব ধরনের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মোহাম্মদ অনীক চৌধুরী বলেন, টেকনাফ পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র ও প্রধান পানি নিষ্কাশন পথ হিসেবে পরিচিত কায়ুকখালী খাল পুনর্খননের কাজ খুব শিগগির শুরু হবে। দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস (ডিআরআর) ম্যাপ অনুযায়ী খাল খনন ও অবৈধ দখল উচ্ছেদের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। আগের ম্যাপ অনুসারে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হলে অনেকের মালিকানাধীন জমি খালের আওতায় পড়তে পারে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ বড় খাল ও হেচ্চ্যা খালের সংস্কার কাজও দ্রুত শুরু করা হবে।

ইউএনও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক খাল খনন কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে টেকনাফের ৪০টি খাল দখলমুক্ত করে পুনর্খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের জন্য খালের তালিকা ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।