বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলায় গ্রেপ্তার পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং আশি ও নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রলয় চাকী মারা গেছেন।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৯টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম অবহেলা ও বিনা চিকিৎসার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
পাবনা জেলা কারাগার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর সকালে পাবনা শহরের পাথরতলা এলাকার নিজ বাড়ি থেকে প্রলয় চাকীকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে, প্রলয় চাকীর মৃত্যুতে কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে তার ছেলে বলেন, ‘আমার বাবা আগে থেকেই হার্টের রোগী ছিলেন। স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পরও তাকে সিসিইউতে না রেখে হাসপাতালের সাধারণ প্রিজনার সেলে রাখা হয়েছিল। সেখানে হাঁটাচলা নিষেধ থাকলেও তাকে দিয়ে নানা কাজ করানো হতো, যা তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটায়। মূলত কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও সঠিক চিকিৎসার অভাবেই আমার বাবার মৃত্যু হয়েছে। আমরা বিনা চিকিৎসায় আমার বাবার মৃত্যুর বিচার দাবি করছি।’
পাবনা জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. ওমর ফারুক রাতেই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রলয় চাকী ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে কারাগারে থাকাকালে তিনি হঠাৎ হৃদরোগে (স্ট্রোক) আক্রান্ত হন। তাকে দ্রুত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার রাতে তার মৃত্যু হয়। জেল সুপার মো. ওমর ফারুক শিল্পী প্রলয় চাকীর পরিবারের করা অভিযোগ অস্বীকার করেন।
প্রলয় চাকী দেশের একজন বরেণ্য সংগীতশিল্পী ও পরিচালক ছিলেন। আশি ও নব্বইয়ের দশকে তিনি ও তার ভাই মলয় চাকী বিটিভির জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘যদি কিছু মনে না করেন’ এবং ‘ইত্যাদি’সহ বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে গান গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
প্রলয় চাকীর মৃত্যুতে পাবনার সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
আমিনুল ইসলাম/অমিয়/