টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নে মায়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে আহত যুবক মো. হানিফের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতসহ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় জনসাধারণ।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল এলাকায় প্রধান সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরীহ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা আজ চরম হুমকির মুখে। সীমান্তে অব্যাহত গোলাগুলি, সহিংসতা ও স্থলমাইন পুঁতে রাখার মতো বর্বর কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় এখনও অবিস্ফোরিত স্থলমাইন রয়েছে কি না তা দ্রুত যাচাই করে অপসারণ করতে হবে। আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং তাদের উন্নত চিকিৎসার সব খরচ সরকারিভাবে বহন করার দাবি জানান তারা। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
মানববন্ধনে কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, সীমান্তে পুঁতে রাখা মাইন অপসারণে ঢাকাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিশেষ স্কোয়াড পাঠাতে হবে। মাইন বিস্ফোরণে আহত হানিফের চিকিৎসার জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসক পাঠিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, নাফ নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ার আগে জেলেদের অবশ্যই বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না, সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে এগিয়ে আসতে হবে। আমি নিজেও অনুদান দিয়েছি এবং সামর্থ্যবানদের সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছি।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ‘নিরাপদ সীমান্ত চাই—নিরীহ মানুষের রক্ত চাই না’ স্লোগান দেন। পাশাপাশি সরকারি ব্যবস্থাপনায় নাফ নদীতে নিরাপদভাবে মাছ ধরার ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।
উল্লেখ্য, গত ১২ জানুয়ারি টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নাফ নদী সংলগ্ন তোতার দ্বীপ এলাকায় মাছের ঘেরে কাজ করার সময় আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন মো. হানিফ (২৮)। বিস্ফোরণে তার বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তিনি হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল এলাকার ফজল করিমের ছেলে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শাহীন/মাহফুজ