গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় পরকীয়ার জেরে নিজের তিন বছরের মেয়ে ফারিয়াকে হত্যা করে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সেতু বেগম (২৫) নামে এক নারীর বিরুদ্ধে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ঘটনার ২০ দিন পর শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাকে আটক করা হয়।
গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) সাখাওয়াত হোসেন সেন্টু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ফারিয়া (৩) গোপালগঞ্জ সদরের গোবরা নিলারমাঠ গ্রামের বাসিন্দা প্রবাসী রুবেল শেখের মেয়ে।
নিহতের নানী পারভিন আক্তার জানান, প্রায় ছয় মাস আগে টিকটকের মাধ্যমে ফরিদপুরের সদরপুর থানার বাড়ৈইহাট গ্রামের মিরাজ মোল্লার সঙ্গে সেতু বেগমের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সম্পর্কের জেরে গত ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সেতু বেগম তার প্রেমিকের সহায়তায় নিজ সন্তানের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে শিশুটির মরদেহ বাড়ির ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখেন। ঘটনার পর সেতু বেগম প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যান।
তবে এ ঘটনার ২০ দিন পর প্রেমিক তাকে ছেড়ে চলে গেলে তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। সেতুর পরিবারের সদস্যরা শিশু সন্তানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানা গেছে। পরে পরিবারের লোকজন তাকে আটক করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় নিয়ে যান। সেতু বেগমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ শনিবার তার স্বামীর বাড়ির ট্যাংক থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রতিবেশী সেফালি বেগম বলেন, ওই নারীর স্বামী বিদেশে থাকেন। শাশুড়ি আগেই মারা গেছেন, শ্বশুর বৃদ্ধ এবং মসজিদ ও বাজারে বেশি সময় কাটান। ওই নারীর সঙ্গে পরিবারের ভালো সম্পর্ক ছিল না। এলাকাবাসীর সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক ছিল না, সে কারণে তার বাড়িতে কেউ যাতায়াত করত না। আজ জানতে পারলাম, তিনি নিজের সন্তানকে হত্যা করে ঘরের ট্যাংকের ভেতরে আটকে রেখেছিলেন। সন্তান যদি মায়ের কাছেই নিরাপদ না থাকে, তাহলে তার নিরাপত্তা কোথায়? আমরা এর উপযুক্ত বিচার চাই।
গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) সাখাওয়াত হোসেন সেন্টু বলেন, এ ঘটনায় ঘাতক মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
বাদল/রিফাত/