পবিত্র মাহে রমজানের শুরুতেই লালমনিরহাট শহরে লেবুর বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে চায়না, দেশি ও এলাচি লেবুর দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, ইফতারে লেবুর শরবতের চাহিদাকে পুঁজি করে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) শহরের সেনামৈত্রী হকার্স মার্কেট, গোসলা বাজার ও নবাবের হাটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে চায়না ও এলাচি জাতের লেবু প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। অন্যদিকে দেশি লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। কোনো কোনো বাজারে এক হালি লেবুর দাম ১০০ টাকা পর্যন্তও হাঁকছেন বিক্রেতারা। অথচ মাত্র সাত দিন আগেও এসব লেবু প্রতি হালি ২০ থেকে ৩০ টাকায় পাওয়া যেত। রমজান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ক্রেতাদের দাবি, বছরের অন্য সময়ে লেবুর তেমন চাহিদা না থাকলেও রমজান মাসে ইফতারের জন্য লেবুর শরবতের ব্যাপক চাহিদা থাকে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা পরিকল্পিতভাবে দাম বাড়াচ্ছেন।
শহরের এক লেবু ক্রেতা মাহাফুজ রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রমজান এলেই লেবুর দাম বাড়ে, এটা আমরা জানি। কিন্তু এবার যেভাবে হঠাৎ করে দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে, তা সাধারণ মানুষের নাগালের একেবারেই বাইরে চলে যাচ্ছে। ইফতারের জন্য উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়েই আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি বাজারে সরবরাহ কম থাকার কারণেই দাম বেড়েছে। সেনামৈত্রী হকার্স মার্কেটের লেবু ব্যবসায়ী রফিকুল বলেন, পাইকারি বাজারে সরবরাহ কম ও চাহিদা অনেক বেশি থাকায় দাম বাড়ছে। প্রতি পিস লেবু কিনতেই আমাদের ১৭ থেকে ১৮ টাকা পড়ছে, তাহলে আমরা বিক্রি করব কত টাকায়? তাছাড়া এখন লেবুর পুরোপুরি সিজনও নয়। রমজান উপলক্ষে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চাষিরাই মূলত দাম বেশি নিচ্ছেন।
কৃষি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে লেবু সারা বছর পাওয়া গেলেও এর প্রধান ফলন মৌসুম মূলত বর্ষাকাল (বৈশাখ থেকে ভাদ্র মাস)। এ ছাড়া জানুয়ারি-মার্চ মাসে ফুল আসার পর জুলাই-আগস্টে লেবু সংগ্রহ করা হয়। ফলে বর্তমান সময়টি লেবুর ভরপুর মৌসুম নয়।
বিষয়ে লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন বলেন, লালমনিরহাটে খুব বেশি পরিমাণে লেবুর উৎপাদন বা ফলন হয় না। যেসব গাছ রয়েছে সেগুলোতে এখন ফুল ধরছে। পরিপূর্ণ লেবু উত্তোলন করতে আরও অন্তত এক মাস সময় লাগতে পারে।
মাহফুজ বকুল/সুমন/