উন্নয়নের নামে খুলনা মহানগরীতে কয়েক বছর ধরেই খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। কখনো সিটি করপোরেশন রাস্তা কাটছে। আবার কখনো ওয়াসা, কেডিএ, টিঅ্যান্ডটি রাস্তা কেটেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অনেক জায়গার ব্যস্ততম সড়ক কেটে তৈরি করা হয়েছে বড় বড় গর্ত। সেখানে পয়োনিষ্কাশনের পাইপ বসানোর পর রাস্তায় পুরোপুরি সংস্কারকাজ হয়নি। যত্রতত্র পড়ে রয়েছে নির্মাণসামগ্রীর স্তূপ। যাতায়াত অনুপযোগী রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে ধুলো-বালিতে প্রতিদিনের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর শিববাড়ী-সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড মজিদ সরণিতে স্যুয়ারেজ লাইনের কাজ করতে গিয়ে খোঁড়া হয় বড় বড় গর্ত। এরপর সেখানে কোনোমতে ইটের খোয়া, মাটি দিয়ে ভরাট করে রাখা হয়েছে। রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় সেখানে চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে। বর্তমানে সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, ইউসেফ স্কুল, মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সামনে নতুন করে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়েছে। ফলে সড়কের অন্য পাশে তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট। সড়কের এক পাশে যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় শিক্ষার্থী, রোগী ও গৃহিণীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। এখানকার দোকানপাট বন্ধ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। নির্মাণকাজ কবে শেষ হবে, তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।
সরেজমিন দেখা গেছে, নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকা প্রথম ফেজ ৮ নম্বর রোড, ৯ নম্বর রোড, নবীনগর, গোবরচাকা প্রধান সড়ক, শাহিনুর মসজিদ রোড, সোনাডাঙ্গা আবাসিক ২য় ফেজ ১ নম্বর রোডে ওয়াসার স্যুয়ারেজ পাইপ বসানোর জন্য খোঁড়াখুঁড়ি করছে ওয়াসা। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ড্রেন-কালভার্টের সংস্কারকাজ করছে সিটি করপোরেশন। উন্নয়নকাজের জন্য অনেক সড়ক বন্ধ থাকায় নগরবাসীকে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে অনেক ঘুরে। এতে বিকল্প সড়কগুলোতে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া ধুলাবালির কারণে এই পথে যাতায়াত করা এক প্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
নগরীর বাসিন্দা সাবেক স্কুলশিক্ষক সিরাজুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন সড়ক ক্ষতবিক্ষত করে রাখার কারণে প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। রোজার দিনে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের উপায় নেই। রাস্তার পাশের দোকানগুলোতে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। রাস্তায় নামলেই গর্ত, ধুলা আর ইটের স্তূপ।’
স্থানীয়রা বলছেন, কোনো নোটিশ ছাড়াই সড়ক খোঁড়া শুরু হয়। কোনো একটি সড়কে ঢুকলে শেষ পর্যন্ত যাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে না। কবে এই কাজ শেষ হবে তাও কেউ নির্দিষ্ট করে জানাচ্ছেন না। অনেক স্থানে রাস্তার মাঝে ১০ ফুটের মতো গভীর করে খুঁড়ে ফেলা হয়েছে। কিন্তু সেখানে কোনো নিরাপত্তা ব্যারিকেড বা সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড নেই। পথচারীদের চলাচলের জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়নি। অর্ধসমাপ্ত ড্রেনের পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নির্মাণসামগ্রী ও নোংরা পানি পেরিয়ে প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন সাধারণ মানুষ।
জানা যায়, এডিবির আর্থিক সহযোগিতায় ‘খুলনা পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নয়ন’ প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে ওয়াসা। প্রকল্প ব্যয় ২ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় নগরীর বাড়িগুলো থেকে মানববর্জ্য পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়ে পরিশোধন করা হবে। প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের কাজের প্রথম ধাপে সড়ক খুঁড়ে বসানো হচ্ছে ১০ ইঞ্চি থেকে ৪০ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইন।
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, সমন্বয়হীনতায় বিভিন্ন সংস্থা সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি, সড়ক ও ড্রেন সংস্কারকাজ শুরু করায় নগরবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে লোকসান গুনছেন ব্যবসায়ীরা। এ জন্য তারা ক্ষোভে ফুঁসছেন। রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম আর্থিক সংকটে।
খুলনা ওয়াসার প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খান সেলিম আহম্মদ জানান, নির্বাচনসহ নানা কারণে প্রকল্পের কাজে বিলম্ব হয়েছে। প্রকল্পের মূল সড়ক বাদে অলিগলি ও ছোট সড়কে পাইপলাইন বসানোর কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। এরপর মূল সড়কের কাজ শুরু হবে। উন্নয়নকাজের জন্য নগরবাসীকে দুর্ভোগ মেনে নিতে হবে আরও কয়েক মাস।