ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রয়াত বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের নামে আমন্ত্রণপত্র আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ আবার জ্বলে ওঠো জার্মানি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২০০ জাতের আম নিয়ে মেলা শুরু পাহাড়, বন আর নীল জলের অপূর্ব মিলন ৪টি চলচ্চিত্র নিয়ে ‘সামার বাংলা হিট ফেস্ট’ তিন নাটকে প্রশংসিত হিমি পুশ-ইন সমস্যা সমাধানের দাবিতে সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের প্রবাসী নিহত তপ্ত গরমে পশুপাখির প্রতি সদয় হোন সিনচিয়াংয়ে সংস্কৃতি ও পর্যটন উন্নয়ন সম্মেলন অনুষ্ঠিত সংঘাত নয়, হোক সম্প্রীতির উদযাপন কানসাসের দাবদাহে ‘কুলিং ভেস্টে’ অনুশীলন আর্জেন্টিনার চীনের ছাংছুনে অপটিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির বিপ্লব বাংলাদেশের বাজারে এল টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো খোকসায় ২০ বছর ধরে অচল কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, ভোগান্তিতে কৃষক-খামারি কেইনই ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সেরা স্ট্রাইকার: লিনেকার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন, সংলাপের পরামর্শ জাতিসংঘের গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল পরিদর্শন করলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ কৃষিকাজে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র নতুন অ্যান্ড্রয়েড ১৭ সংস্করণে গুগলের বড় চমক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রাখায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সনদ পেল মার্কেন্টাইল ব্যাংক এবি ব্যাংক পিএলসির ৪৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত ডিজিটাল পরিসরে নারীর নিরাপত্তা ও সহিংসতার স্বরূপ রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যা! একটি জাতির অবক্ষয়ের নির্মম চিত্র! ঝিনাইদহে ৩ দিনব্যাপী ফল মেলা শুরু ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তিচুক্তি ও বৈশ্বিক বাস্তবতা এবারের স্বপ্নবিলাসী বাজেট বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে: সংসদে আইনমন্ত্রী কাঁঠালকে কেন্দ্র করে বিরোধ, ছেলের মারধরে বাবার মৃত্যু সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন সক্ষমতার ওপর

চট্টগ্রামে নির্দেশ উপেক্ষা করে মার্কেটে বাড়তি আলোকসজ্জা

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
চট্টগ্রামে নির্দেশ উপেক্ষা করে মার্কেটে বাড়তি আলোকসজ্জা
চট্টগ্রামের নাসিরাবাদের মিমি সুপার মার্কেটে নির্দেশ উপেক্ষা করে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। ছবি: মোহাম্মদ হানিফ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য জ্বালানিসংকটের আশঙ্কায় রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা পরিহারের জন্য স্পষ্ট নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। তবে সেই নির্দেশনা মানার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না চট্টগ্রামের বহু মার্কেট ও শপিং সেন্টারে। সন্ধ্যা হলেই জ্বলে উঠছে রঙিন বাতি, ঝলমলে লাইট ও নান্দনিক আলোকসজ্জা। কোথাও মার্কেটের পুরো ভবন, কোথাও পার্কিং এলাকা ও খোলা জায়গা পর্যন্ত সাজানো হয়েছে রঙিন আলোয়। এতে একদিকে বাড়ছে জ্বালানি খরচ, অন্যদিকে ঘটছে বিদ্যুতের অপচয়, যা সংকটের আশঙ্কার সময়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।

ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন শহরের মার্কেট ও শপিং সেন্টারগুলোতে প্রতি বছরই উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর রঙিন লাইট, এলইডি স্ট্রিং, নকশা করা আলোকসজ্জা ও গেট ডেকোরেশনের মাধ্যমে মার্কেট এলাকা জমজমাট হয়ে ওঠে। দেশের অন্যান্য স্থানের মতো চট্টগ্রামের বড় বড় মার্কেটেও ঈদ সামনে রেখে দোকানের সামনে রঙিন বাতি ও ব্যানার টাঙানো হয়েছে। এতে রাতের বেলায় বাজার এলাকায় তৈরি হয়েছে আলাদা উৎসবের আমেজ। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। শুধু দোকান বা ভবনই নয়, মার্কেটের সামনে পার্কিং এলাকা, খোলা জায়গা এমনকি আশপাশের সড়কও বাদ যাচ্ছে না লাইটিং থেকে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক মার্কেটে ব্যাপক আলোকসজ্জা করা হয়েছে। জিইসি মোড়ের সানমার শপিং সেন্টারের পুরো ভবনজুড়ে লাইটিং রয়েছে। ভবনের সামনের পার্কিং এলাকাতেও অতিরিক্ত লাইটিং লাগানো হয়েছে। প্রবর্তক মোড়ে মিমি সুপার মার্কেট, আফমি প্লাজা এবং লালখান বাজারের আমিন সেন্টারেও দেখা গেছে একই চিত্র। আগ্রাবাদের সিংগাপুর মার্কেট ও আগ্রাবাদ সেন্টার রঙিন বাতি দিয়ে সাজানো হয়েছে।

সন্ধ্যার পর নগরীর নিউ মার্কেট, রিয়াজউদ্দিন বাজার, জিইসি মোড় ও চকবাজারসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকায় ঘুরে দেখা যায়- অধিকাংশ দোকান ও মার্কেটে ঈদ উপলক্ষে বিপুল পরিমাণ আলোকসজ্জা করা হয়েছে। অনেক দোকানের সামনে বৈদ্যুতিক সাজসজ্জা করে ক্রেতাদের আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ী।

অন্যদিকে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের বিষয়টি মাথায় রেখে ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘রমজান ও ঈদ উপলক্ষে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা থেকে বিরত থাকতে হবে।’ তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি শুধু বাংলাদেশের নয়, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গেও যুক্ত। তাই সংকটের সময়ে বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো হবে।’

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইভাবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রও একাধিকবার জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়ে তাগিদ দিয়েছেন। 

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতা আকর্ষণে আলোকসজ্জা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই পুরোপুরি আলো বন্ধ করা তাদের পক্ষে কঠিন। অনেকেই দাবি করছেন, ব্যবসার স্বার্থে কিছুটা আলোকসজ্জা রাখতে হচ্ছে, যদিও তারা বিদ্যুৎ অপচয় কমানোর চেষ্টা করছেন।

চট্টগ্রাম শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এমরান বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনাকে আমরা সম্মান করি। যতটা সম্ভব বিদ্যুৎ কম ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসাও চালিয়ে যেতে হবে। মার্কেট সুন্দরভাবে সাজানো না থাকলে অনেক সময় ক্রেতারা আগ্রহ দেখান না।’

মিমি সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন কাঞ্চন বলেন, ‘রমজান উপলক্ষে কিছুটা সাজসজ্জা না থাকলে আকর্ষণ কমে যায়। ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই আলোকসজ্জা করা হয়েছে। রমজান শেষ হলে এসব আলোকসজ্জা আর থাকবে না।’ তিনি বলেন, বছরের ব্যবসার বড় একটি অংশই হয় ঈদকে কেন্দ্র করে। অন্য সময় ব্যবসা তুলনামূলক কম থাকে। তাই রমজানের সময় কিছুটা ব্যবসা না হলে অনেক ব্যবসায়ী টিকে থাকতে পারবেন না।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় সরকার জ্বালানি তেলের ব্যবহার ২৫ শতাংশ কমানোর ওপর জোর দিয়েছে। একই সঙ্গে যানবাহনের জন্য ফিলিং স্টেশনগুলোতে রেশনিং পদ্ধতিতে কম তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযমের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের প্রবাসী নিহত

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের প্রবাসী নিহত
নিহত গিয়াস উদ্দিন শিকদার/ ছবি: খবরের কাগজ

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় গিয়াস উদ্দিন শিকদার (৬০) নামের এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে তিনি এ দুর্ঘটনার শিকার হন।

দুপুরে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগামী একটি গাড়ি তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।

নিহত গিয়াস উদ্দিন শিকদার ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার উত্তর আলম নগর গ্রামের বাসিন্দা নূরুল হক সিকদারের ছেলে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গিয়াস উদ্দিন শিকদার সাড়ে তিন বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি দেন।

নিহতের ভাই শাহিনুজ্জামান শিকদার বলেন, ‘বুধবার বিকেলে আমরা খবর পাই সড়ক দুর্ঘটনায় আমার ভাই নিহত হয়েছেন। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাকে হারিয়ে আমরা এখন পুরোপুরি দিশেহারা। আমার ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছি’

এ বিষয়টি নিয়ে ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক আশিক সিদ্দিকী বলেন, তার মরদেহ দেশে আসার পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তিন লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। যদি কোন কারণে বিদেশের কোম্পানি তার মরদেহ দেশে আনার জন্য সহায়তায় দিতে না চায় তাহলে পরিবারের সদস্যদের আবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকার ওই প্রবাসীর মরদেহ বাড়িতে এনে দেওয়াসহ সার্বিক সহযোগিতা করবে।

নয়ন/আমান

খোকসায় ২০ বছর ধরে অচল কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, ভোগান্তিতে কৃষক-খামারি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
খোকসায় ২০ বছর ধরে অচল কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, ভোগান্তিতে কৃষক-খামারি
খোকসা জয়ন্তী হাজরা  ইউনিয়নে দুইযুগ  ধরে বন্ধ  পরিত্যক্ত কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র। ছবি: খবরের কাগজ

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় প্রায় দুই যুগ ধরে বন্ধ রয়েছে ইউনিয়ন পর্যা‌য়ে স্থায়ীভা‌বে নি‌র্মিত দুইটি কৃ‌ত্রিম প্রজনন কেন্দ্র।

অবহেলা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কেন্দ্রগুলোর ভবন এখন পরিণত হয়েছে পরিত্যক্ত স্থাপনায়।

কোথাও জন্ম নিয়েছে ভুতুড়ে পরিবেশ, কোথাও পোকামাকড়। ঝোপঝাড়ের দখলে চলে গেছে সরকারি স্থাপনা।

ফলে প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার কৃষক ও খামারিরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,২০০০ সালে প্রকল্পের আওতায় খোকসা উপজেলায় প্রাণিসম্পদ দপ্ত‌রের অধী‌নে নয়টি ইউনিয়নে কৃ‌ত্রিম প্রজনন কেন্দ্র চালু করা হয়। এর মধ্যে জয়ন্তী হাজরা ও আমবাড়িয়া ইউনিয়নে স্থায়ীকেন্দ্র এবং বাকি সাতটি ইউনিয়নে অস্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। যারা মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম প্রজননসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন।

কিন্তু কয়েক বছর যেতে না যেতেই স্থায়ী দুইটি কেন্দ্রের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।  বর্তমানে স্থাপনাগু‌লো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি সেবা না থাকায় তাঁরা পল্লী প্রজননকর্মীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। আবার ইউনিয়ন পর্যা‌য়ে উপ‌জেলা প্রা‌ণি সম্পদ থে‌কে যা‌দের দা‌য়িত্ব দেওয়া হ‌য়ে‌ছে তাঁ‌দের থেকেও প্রয়োজনীয় সেবা সবসময় পাওয়া যায় না। এ সুযোগে প্রজননকর্মীদের বিরু‌দ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

শিমুলিয়া এলাকার কয়েকজন খামারি জানান, সরকারি নির্ধারিত খরচের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী কৃত্রিম প্রজননের ক্ষেত্রে যাতায়াত ভাতা, স্ট্রো (হিমায়িত সিমেন) ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৩১৫ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, খোকসা উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার ২১০টি গাভী রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ গাভীর প্রজনন কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতিতে এবং বাকি ১০ শতাংশ ষাঁড়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় পশুপালক শাহজাহান আলী বলেন, “ইউনিয়ন পর্যায়ের কেন্দ্রগুলোতে কোনোদিন ডাক্তার আসতে দেখি না। প্রয়োজনের সময় সেবা পাওয়া যায় না। ফলে আমরা চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছি।”

জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম খান বলেন,“সরকারি জমির ওপর নির্মিত এই কেন্দ্রটি বছরের পর বছর বন্ধ পড়ে আছে। বর্তমানে জমিটির মূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। দ্রুত দখলমুক্ত করে কেন্দ্রটি পুনরায় চালু করা উচিত।”

খামারি জাহাঙ্গীর আল‌মের অভিযোগ, “সরকারি কোনো সহযোগিতা আমরা ঠিকমতো পাই না। প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করলেও অনেক সময় প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন মেলে না। বাধ্য হয়ে বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে কিনতে হয়।”

সা‌র্বিক বিষ‌য়ে জান‌তে চাইলে খোকসা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সোহেল রানা বলেন,“ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থায়ী দুটি কেন্দ্র রয়েছে—এ বিষয়টি আমি সম্প্রতি জানতে পেরেছি। স্থান প‌রিদর্শনও ক‌রে‌ছি। আমাদের অফিসে এ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র নেই। তবে মাঠপর্যায়ে প্রজননকর্মীরা বা‌ড়ি‌তে গি‌য়ে সেবা দিয়ে থাকেন।”

এ বিষ‌য়ে খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন  বলেন,“আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রঞ্জন ভৌমিক/এসএন

ঝিনাইদহে ৩ দিনব্যাপী ফল মেলা শুরু

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
ঝিনাইদহে ৩ দিনব্যাপী ফল মেলা শুরু
ছবি: সংগৃহীত

‘করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস’ এ শ্লোগানে ঝিনাইদহে শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী ফল মেলা।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর-এ নবীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ মেলায় ৫টি স্টল প্রদর্শন করা হয়েছে। মেলায় প্রায় অর্ধশত প্রকার দেশীয় ফল ও ফল আবাদের উন্নত প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে।

আগামী ২০ জুন শেষ হবে এ মেলা। দেশীয় ফলের উৎপাদন ও ভোক্তা সচেতনতা বাড়াতে এ ধরণের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন আয়োজকরা।

মাহফুজুর রহমান/এসএন

কাঁঠালকে কেন্দ্র করে বিরোধ, ছেলের মারধরে বাবার মৃত্যু

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
কাঁঠালকে কেন্দ্র করে বিরোধ, ছেলের মারধরে বাবার মৃত্যু
নিহত আব্দুর রাজ্জাক। ছবি: সংগৃহীত

গাছের পাকা কাঁঠালকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির জেরে ছেলের কিল-ঘুষিতে এক বৃদ্ধ বাবা নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 বুধবার (১৭ জুন) কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের চৌধুরীহাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী শাহেদা বেগম বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় ছেলে আলম (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী রেখার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

নিহত আব্দুর রাজ্জাক (৭০) সদর উপজেলার বড় খাপন গ্রামের বাসিন্দা। তবে কয়েক বছর আগে তিনি চৌধুরীহাটি গ্রামে একটি বাড়ি কিনে সেখানে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আলম ও তার স্ত্রী রেখা বেগম পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে গাছ থেকে পেড়ে আনা পাকা কাঁঠাল বাবা-মাকে না দেওয়াকে কেন্দ্র আব্দুর রাজ্জাক ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী শাহেদা বেগমের বড় ছেলে মো. আলম ও পুত্রবধূ রেখার মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে আলম তাঁর বাবাকে কিল-ঘুষি মারেন। এতে আব্দুর রাজ্জাক গুরুতর অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের স্ত্রী শাহেদা বেগমের অভিযোগ, তার ছেলে আলমের আক্রমণের কারণেই আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যু হয়েছে। কিল-ঘুষি মারতে মারতে আব্দুর রাজ্জাকের গলাচেপে ধরে আলম। এতে আব্দুর রাজ্জাক গুরুতর অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের স্বজনেরা জানায়, আব্দুর রাজ্জাকের দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে দুই ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে আলম বিবাহিত এবং দুই কন্যাসন্তানের জনক। তার বড় মেয়ের বয়স প্রায় ১৫ বছর এবং ছোট মেয়ের বয়স ৭ বছর। ছোট ছেলে জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত রয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আলম ও তার স্ত্রী রেখার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে।আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তাসলিমা আক্তার মিতু/এসএন

যাত্রাবাড়ীতে অবৈধ দখল উচ্ছেদে; মামলা ও জরিমানা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
যাত্রাবাড়ীতে অবৈধ দখল উচ্ছেদে; মামলা ও জরিমানা
ছবি: খবরের কাগজ

জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এবং ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখতে যাত্রাবাড়ী এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংস্থাটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ফ্লাইওভারের ইনকামিং অংশ থেকে শুরু করে যাত্রাবাড়ী হয়ে কাজলা পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশের ফুটপাত ও রাস্তার ওপর গড়ে ওঠা সকল অবৈধ স্থাপনা -দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়।

অভিযান চলাকালে অবৈধভাবে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে ৫টি মামলা দায়ের করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোট ১৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ সময় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

রাজু/আমান