ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত শুরু হয়েছে। তবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলমুখী যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটের সংস্কার কাজ এখনো শেষ হয়নি। ঘাটের অ্যাপ্রোচ সড়ক অতিরিক্ত খাঁড়া থাকায় ফেরিতে ওঠানামার সময় যানবাহনগুলোকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এর সঙ্গে সামনে কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কা থাকায় ঈদযাত্রায় এ পথে দুর্ভোগ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও চালকরা।
পাটুরিয়া ফেরিঘাট দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ২১ জেলার যানবাহন যাতায়াত করে। ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই এ রুটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সাধারণত এ সময় পারাপার নির্বিঘ্ন রাখতে ঘাটে নানা প্রস্তুতি নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে এবার ঘাটের অবকাঠামো পুরোপুরি ঠিক না হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গত বর্ষায় পদ্মা নদীর প্রবল স্রোতে পাটুরিয়ার পাঁচটি ফেরিঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে ভাঙনের প্রায় ছয় মাস পার হলেও এখনো স্থায়ীভাবে সংস্কার শেষ হয়নি। আপাতত জোড়াতালি দিয়ে ঘাটগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে ফেরিতে ওঠানামার সময় প্রায়ই যানবাহন আটকে যাচ্ছে এবং পারাপারে বিলম্ব হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা যায়, নদীর পানি কমে যাওয়ায় পন্টুন নিচে নামাতে হয়েছে। এতে ঘাটের সঙ্গে সংযোগ সড়কের ঢাল অনেক বেশি খাঁড়া হয়ে গেছে। ফলে ভারী যানবাহন ফেরি থেকে ওপরে উঠতে গিয়ে মাঝপথে থেমে যাচ্ছে বা বিকল হয়ে পড়ছে। অনেক সময় রেকার দিয়ে টেনে তুলতে হচ্ছে এসব গাড়ি। এতে ঘাট এলাকায় যানজট তৈরি হচ্ছে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে।
এদিকে গত বুধবার রাতে পাটুরিয়া পাঁচ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরি থেকে নামতে গিয়ে একটি জ্বালানি তেলবাহী লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ১৬ ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার সাহায্যে সেটি পাড়ে তোলা হয়। চালকরা বলছেন, খাঁড়া সংযোগ সড়কের কারণে প্রায়ই এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে চলাচলকারী একটি দূরপাল্লার বাসের চালক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ফেরি থেকে নামার পর এত খাঁড়া ঢাল যে অনেক সময় গাড়ি গতি পায় না। মাঝপথে থেমে গেলে আবার তুলতে খুব কষ্ট হয়। এতে করে পেছনে থাকা যানবাহনের বেশ সময় অপেক্ষা করতে হয়।’
আরেক বাসচালক শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘যাত্রী নিয়ে চলার সময় সবচেয়ে বেশি ভয় লাগে এ ঘাটে নামতে। ব্রেক ঠিকমতো কাজ না করলে গাড়ি নদীতে পড়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।’
পণ্যবাহী ট্রাকচালক আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমি ট্রাক লোড করে খুলনা থেকে ঢাকা যাচ্ছিলাম। চার নম্বর ঘাটে ফেরি থেকে নেমে সড়কে উঠতে গেলে মাঝপথে আটকে যায়। পড়ে বাধ্য হয়ে রেকার দিয়ে সড়কে উঠতে হয়। তখন অন্য গাড়িও আটকে পড়ে, লাইন লম্বা হয়।’
আরেক ট্রাকচালক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের সময় গাড়ির চাপ অনেক বাড়ে। যদি ঘাটের সড়ক ঠিক না করা হয়, তাহলে যানজট হওয়ার আশঙ্কা আছে। তবে ঘাট কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল ঈদের আগেই ঘাটগুলো সুন্দর করে সংস্কার করা।’
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অঞ্চলের ডিজিএম আবদুস সালাম বলেন, ‘নদীর পানি কমে যাওয়ায় পন্টুন নিচে নামাতে হয়েছে, ফলে সংযোগ সড়ক খাঁড়া হয়ে গেছে। এতে যানবাহন ওঠানামায় সমস্যা হচ্ছে। ফেরির ট্রিপ সংখ্যাও কিছুটা কমে গেছে। তবে ঈদকে সামনে রেখে বর্তমানে এ নৌরুটে ১৭টি ফেরি চলাচলের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। ঘাটের সংযোগ সড়কের ঢাল কমানোর জন্য বিআইডব্লিউটিএকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।’
বিআইডব্লিউটিএর আরিচা আঞ্চলিক কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল আলম বলেন, ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে তিনটি ঘাটের সংযোগ সড়ক সমান করার কাজ শুরু হয়েছে। দু-তিন দিনের মধ্যেই খাঁড়া ঢাল স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।
এর মধ্যেই রবিবার রাত ১১টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা এ নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল প্রবল ঝোড়ো হাওয়া ও দমকা বাতাসের কারণে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, মার্চ থেকে মে পর্যন্ত সময় দেশে কালবৈশাখী ঝড়ের জন্য উপযোগী। এখনো বড় কোনো ঝড় না হলেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে কালবৈশাখী আঘাত হানতে পারে।