‘রাতেই আইছি (এসেছি) জামা কিনতে। বাবায় (বাবা) আজকে বেতন পাইছুন (পেয়েছেন), আজকেই জামা কিনে দিছুন (দিয়েছেন)। দুইবোন দুইটা জামা কিনছি। অখন (এখন) হাতের চুড়ি আর ঘড়ি কিনমু।’ কথাগুলো বলছিল মৌলভীবাজার পৌর শহরের বাসিন্দা দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া জাহান।
গত সোমবার রাত ৯টার দিকে শহরের সেন্ট্রালরোডের একটি মার্কেটে বাবার সঙ্গে ঘুরে ঘুরে দোকান দেখছিল সে। হাতে নতুন কাপড়ের প্যাকেট, মুখে ঈদের আনন্দের উচ্ছ্বাস।
ঈদকে সামনে রেখে মৌলভীবাজার শহরের মার্কেটগুলোতে জমে উঠেছে শেষ মুহূর্তের বেচাকেনা। দিনভর কাজের পর অনেকেই রাতেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটছেন ঈদের বাজারে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই বেতন পেয়েই সন্তানদের নিয়ে বের হচ্ছেন কেনাকাটায়।
তানিয়ার বাবা পেশায় একজন নৈশপ্রহরী। সীমিত আয়ের মধ্যেও সন্তানদের ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত করতে চান না। তিনি বলেন, ‘আজ (সোমবার) বেতন পেয়েছি। মেয়ে দুইটা কয়েক দিন ধরেই নতুন কাপড় আর ঘড়ির জন্য বায়না ধরেছিল। তাই ভাবলাম আজকেই বাজারে নিয়ে আসি। ওরা খুশি থাকলেই আমার ভালো লাগে।’
একই মার্কেটে দেখা মেলে রিকশাচালক কাদের মিয়ার। দিনভর রিকশা চালানোর কারণে সময় পান না বলেই রাতে সন্তানদের নিয়ে বাজারে এসেছেন তিনি। কাদের মিয়া বলেন, ‘দিনে রিকশা চালাই, তাই সময় পাই না। আজকে একটু আগে কাজ শেষ করছি, তাই বাচ্চাদের নিয়ে বাজারে আইছি (এসেছি)।’
শহরের পশ্চিমবাজার এলাকায় কথা হয় গৃহিণী রুবিনা আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দিনে সংসারের কাজে ব্যস্ত থাকি। তাই রাতে বাজার করতে সুবিধা হয়। বাচ্চাদের নিয়ে এসেছি, তারা নিজের পছন্দমতো জামা দেখছে।’
ব্যবসায়ীরাও বলছেন, সন্ধ্যার পর থেকেই ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। অনেক মার্কেটে গভীর রাত পর্যন্ত চলে কেনাবেচা। কোর্ট রোড এলাকার জুতাবাজারের ব্যবসায়ী নান্টু দেব বলেন, ‘সন্ধ্যার পর থেকেই ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে। অনেক সময় রাত দুইটা পর্যন্ত বেচাকেনা হয়।’
সেন্ট্রাল রোডের কাপড় ব্যবসায়ী রাজন আহমেদ বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে রাতে ক্রেতা বেশি হচ্ছে। বিশেষ করে যারা চাকরি করেন বা দিনমজুরি করেন, তারা বেতন পাওয়ার পর পরিবার নিয়ে রাতেই বাজারে আসেন।’
পশ্চিমবাজার এলাকার ব্যবসায়ী সাওদাত হোসেন বলেন, ‘রাত আটটার পর থেকেই ছোট-বড় সব মার্কেটে ভিড় বাড়ে। অনেক বাবা-মা বাচ্চাদের নিয়ে আসেন। বাচ্চারা নিজেরা পছন্দ করে কেনাকাটা করে। তখন পুরো মার্কেটেই একটা আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়।’
ব্যবসায়ীরা জানান, সীমিত সামর্থ্য, দিনভর পরিশ্রম আর ব্যস্ততার মাঝেও সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে অনেক বাবা-মা ছুটছেন রাতের বাজারে। নতুন জামা, জুতা, চুড়ি কিংবা প্রসাধনী- এসব কেনাকাটাতেই ফুটে উঠছে ঈদের আনন্দ। শেষ মুহূর্তের কেনাবেচাও ভালো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।