সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এর তোয়াক্কা করছেন না ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন রোমান খান। অভিযোগ রয়েছে, নিজের ইচ্ছেমতো অফিসে আসেন তিনি। আবার অফিস ত্যাগও করেন নির্ধারিত সময়ের আগেই। এতে ভোগান্তি পোহাতে হয় দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবাপ্রত্যাশীদের।
সোমবার (০৬ এপ্রিল) সকাল ৯টায় নাসিরনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেনের কক্ষটি বন্ধ পাওয়া যায়। নির্বাচন কর্মকর্তার জন্য অফিসের নিচতলায় দুইজন সেবাপ্রত্যাশী অপেক্ষা করছিলেন। এরপর সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেবাপ্রত্যাশীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। বেলা ১১টা পর্যন্ত সেবাপ্রত্যাশীদের ভিড় নিচতলা থেকে শুরু করে দ্বিতীয়তলায় নির্বাচন কর্মকর্তার কক্ষের সামনে গিয়ে ঠেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১০ মার্চ নাসিরনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন সাদ্দাম হোসেন রোমান খান। তার বাড়ি নরসিংদী জেলায়। যোগদানের পর তিনি নরসিংদী থেকে আসা-যাওয়া করেই অফিস করছেন। সকাল ৯টার পরিবর্তে প্রায় প্রতিদিনই বেলা ১১টা, কোনোদিন দুপুর ১২টায় অফিসে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আর অফিস প্রধানের অনুপস্থিতির সময় ভোগান্তি পোহাতে হয় সেবাপ্রত্যাশীদের।
নাসিরনগর উপজেলার ধরমণ্ডল গ্রামের সবুজ ও তার স্ত্রীর ভোটার আইডির ছবি তোলার জন্য ভিড় এড়াতে সকাল ৮টার দিকে নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। তিনি জানান, গত সপ্তাহে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর ছবি তোলার জন্য সোমবার আসতে বলা হয়েছিল। অফিসে এসে কোনো কর্মকর্তাকে পাননি। একজন নারী জানান, স্যার (নির্বাচন কর্মকর্তা) ১০টার পরে আসবে। কিন্তু ১১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও তিনি (নির্বাচন কর্মকর্তা) আসেননি।
ছোট বোনকে নিয়ে সকাল পৌনে ১০টার দিকে নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসেন আরেক সেবাপ্রত্যাশী মো. জুনায়েদ। তিনি বলেন, সকাল ১০টা বাজার পরও কর্মকর্তা অফিসে আসেননি। কখন কাজ শুরু হবে এ বিষয়ে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। আমরা শুধু অপেক্ষা করছি। সকাল ৯টায় অফিস শুরু হয় ভেবে আগে আগেই এসেছিলাম। কিন্তু কর্মকর্তা না আসায় আমাদের কাজ হচ্ছে না।
অফিসে কখন আসবেন জানতে সকাল সাড়ে ১০টার কিছু সময় আগে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নির্বাচন কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন রোমান খান জানান, রাস্তায় যানজটের কারণে তার আসতে দেরি হচ্ছে। পরবর্তীতে বেলা ১১টা ১৩ মিনিটে তিনি অফিসে এসে পৌঁছান।
দেরি করে অফিসে আসার বিষয়ে নির্বাচন কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন রোমান খান বলেন, 'আমি ঈদুল ফিতরের আগের সপ্তাহে যোগদান করেছি। নাসিরনগরে থাকার ব্যবস্থা এখনও হয়নি। আমি নরসিংদী থেকে আসা-যাওয়া করি; প্রায় তিন ঘণ্টার মতো সময় লাগে। আজকে মহাসড়কে যানজট নরসিংদী পর্যন্ত গেছে। আমি আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টা হেঁটে এসেছি'।
তিনি আরও বলেন, 'এরকম (দেরিতে অফিসে আসা) কমই হয়েছে। দু-একদিন হতে পারে, যেহেতু রাস্তায় যানজট থাকে। এখানে অফিসার্স কোয়ার্টারে কোনো রুম ফাঁকা নেই। একজন অফিসার বোধহয় সামনের মাসে বদলি হয়ে চলে যাবেন। ওনার সঙ্গে কথা হয়েছে। যদি এটা সমস্যা হয় আমি হয়তোবা ডাকবাংলোতে থেকে অফিস করব'।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শানিয়াজ্জামান তালুকদার বলেন, তিনি কেন অফিসে আসতে দেরি করেছেন- সেটার ব্যাখ্যা তার কাছে জানতে চাইব। সেবাপ্রত্যাশীদের অসুবিধা করার সুযোগ কারও নাই।
আজিজুল সঞ্চয়/নাঈম