ঢাকার ধামরাই উপজেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরাদ্দকৃত গভীর নলকূপ বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন উপজেলা জনস্বাস্থ্য অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা অনৈতিক সুবিধা নেওয়া হয়েছে এবং নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে নলকূপ বিতরণ করা হয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গভীর নলকূপের মালামাল ঠিকাদারের মাধ্যমে সুবিধাভোগীর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই গ্রাহকদের নিজ খরচে মালামাল বহন করতে বাধ্য করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সিলেট বালু ক্রয়, ঠিকাদারের শ্রমিকদের খাবারের খরচ, এমনকি বকশিশ দেওয়ার মতো অতিরিক্ত ব্যয়ও বহন করতে হয়েছে সুবিধাভোগীদের। অথচ এসব ব্যয় ঠিকাদারের বহন করার কথা।
ভুক্তভোগীরা জানান, একটি নলকূপ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। পরে নলকূপ হারানোর আশঙ্কায় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচ বহন করেন তারা। এমনকি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও এই অতিরিক্ত খরচের চাপ থেকে রেহাই পাননি। অভিযোগ রয়েছে, মেকানিক আব্দুস সামাদসহ সংশ্লিষ্টদের একটি চক্র এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত।
আরও অভিযোগ উঠেছে, ২০২৪ সালের মে মাসে বরাদ্দ পাওয়া ৩০টি গভীর নলকূপ স্থাপনের আগেই সেগুলোর পানির নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়। কিন্তু বাস্তবে তখন কোনো নলকূপ স্থাপন করা হয়নি। এতে পানির নমুনা পরীক্ষার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তাদের নলকূপ থেকে কোনো নমুনা নেওয়া হয়নি।
সুয়াপুর ইউনিয়নের কুরঙ্গি গ্রামের মো. সেন্টু মল্লিক বলেন, তার বাড়ির নলকূপের পানির নমুনা নেওয়া হয়নি। একই অভিযোগ করেছেন রোয়াইল ইউনিয়নের দধিগাটা গ্রামের পরিমল সরকার, সজীব সরকার ও আব্দুল মজিদ।
এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পৌরসভার ভেতরে বসবাসকারীরা সাধারণত গ্রামীণ প্রকল্পের নলকূপ পাওয়ার কথা নয়। কিন্তু ধামরাই পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় গোপনে নলকূপ স্থাপনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের কারণে এসব বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে পানির ট্যাংক বা কাঠামো নির্মাণ করা হয়নি, এমনকি নলকূপ স্থাপনের পর ত্রুটি দেখা দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। কেউ কেউ জানান, নলকূপ স্থাপনের পর বালু উঠছে, কিন্তু অভিযোগ জানানো হলেও সমাধান পাওয়া যায়নি।
চৌহাট ইউনিয়নের মুন্সীরচর এলাকার প্রতিবন্ধী ফরহাদ হোসেন জানান, একটি সরকারি নলকূপ পেতে তাকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। মালামাল পরিবহন, শ্রমিক খরচ ও অন্যান্য বাবদ তাকে অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে উপসহকারী প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, তিনি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন এবং অনেক ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কাজ করেছেন। তিনি সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামনুন আহমেদ অনীকের নির্দেশের কথা উল্লেখ করেন।
এদিকে মেকানিক আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ থাকলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট বক্তব্য দেয়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সেবার নামে ধামরাই জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।