আগামী ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উলাশী আসছেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে জিয়া খালের প্রকল্প এলাকার সার্বিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন, প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন এবং সময়মতো কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনের সময় নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও জনসাধারণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন- যশোরের জেলা প্রশাসক আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর -১ আসনের ধানের শিষের কাণ্ডারি শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) এবং বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ, নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন, শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খায়রুজ্জামান মধুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
তথ্য অনুসারে, উলাশী-যদুনাথপুর খাল শুধুমাত্র একটি খাল নয় এটি বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়নের এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহিদ জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এই খাল খননের সূচনা করেন। হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে মাত্র ছয় মাসে প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি নির্মিত হয় এবং ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
এই খাল উত্তর শার্শার পাঁচটি বড় বিলের পানি নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং প্রায় ২২ হাজার একর জমিকে আবাদযোগ্য করে তোলে যা স্থানীয় কৃষিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে।
এদিকে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালটি ভরাট হয়ে পড়ে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা হয়ে ওঠে এলাকাবাসীর নিত্যসঙ্গী। তবে পুনঃখনন কার্যক্রম সম্পন্ন হলে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খালটি পুনরুজ্জীবিত হলে সেচব্যবস্থা উন্নত হবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য আগমনকে ঘিরে প্রতিমন্ত্রীর এই পরিদর্শন উলাশীসহ আশপাশের এলাকায় নতুন আশার আলো জাগিয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা-দীর্ঘদিনের অবহেলিত এই খাল পুনঃখননের মাধ্যমে বদলে যাবে এলাকার কৃষি, অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মান।
নজরুল ইসলাম/এসএন