বরিশাল জেলা পুলিশের উজিরপুর মডেল থানার তিন কনস্টেবল ডোপ টেস্টে পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। পরে তাদের পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বরিশাল বিভাগকে মাদকমুক্ত রাখতে জেলা পুলিশের সব সদস্যের ডোপ টেস্ট কার্যক্রম শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৭ এপ্রিল উজিরপুর মডেল থানার সব সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষার ফলে তিন কনস্টেবলের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উজিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন বলেন, ‘ওই তিন পুলিশ সদস্যকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তারা পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ সদস্য জানান, জেলার ১০টি থানার সদস্যদের ধাপে ধাপে ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে উজিরপুর থানার সদস্যদের পরীক্ষা করা হলে এই ফল পাওয়া যায়। পরে সন্দেহ নিরসনের জন্য ওই তিন কনস্টেবলকে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পুনরায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ডোপ টেস্ট একটি চলমান প্রক্রিয়া। যাদের রিপোর্ট পজিটিভ আসে, তাদের পুলিশ লাইনসে ক্লোজড করা হয় এবং পরে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিষয়টি গুরুত্ব-সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, জেলার সব থানার পুলিশ সদস্যদের ধাপে ধাপে এই পরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের শুদ্ধি অভিযান বাহিনীর স্বচ্ছতা ও পেশাগত মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এর আগে ২০২০ সালে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ৪৩ জন সদস্যের ডোপ টেস্ট করা হয়। ওই সময় ১৭ জনের শরীরে মাদক সেবনের প্রমাণ মেলে। তাদের মধ্যে চারজনকে চাকরিচ্যুত এবং পাঁচজনকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। বাকিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।