চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্যবাহী দুটি কনটেইনার জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনার দুই দিন পর গতকাল রবিবার বেলা ১২টার দিকে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ দুটি বন্দর জেটিতে আনা হয়।
বন্দর ও শিপিং সূত্র জানায়, সিঙ্গাপুর থেকে আমদানিপণ্য নিয়ে বহির্নোঙরে অপেক্ষায় ছিল বিশ্বের শীর্ষ শিপিং লাইন ‘মায়েরস্ক’-এর মালিকানাধীন ‘মায়েরস্ক চট্টগ্রাম’ এবং সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর মালিকানাধীন এইচআর লাইনের জাহাজ ‘এইচআর তুরাগ’। জাহাজ দুটিতে দুই হাজার ৮০০ টিইইউস কনটেইনার রয়েছে। গত শুক্রবার চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে জাহাজ দুটি আসার শিডিউল ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছালে জাহাজ দুটির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে জাহাজ দুটির নিচের অংশ এবং পাশের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বন্দরের ক্যাপ্টেন আতাউল হাকিম সিদ্দিকী ও ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শামসুদ্দীন গত শুক্রবার সকালে জাহাজ দুটিকে চালিয়ে জেটিতে আনতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ দুটিকে দেখে তারা সেদিন কোনো ঝুঁকি নেননি। এ বিষয়ে ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শামসুদ্দীন বলেন, ‘জাহাজে উঠে দেখি দুটিরই মূল অংশ ক্ষতিগ্রস্ত। এ অবস্থায় জাহাজগুলো জেটিতে আনতে গেলে বন্দর চ্যানেলে বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকে। অর্থাৎ ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলো যদি ডুবে যায় বা অন্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তখন বন্দর চ্যানেলে অন্য জাহাজ চলাচলে সমস্যা হবে। এসব বিবেচনা করে আমরা সেদিন ফিরে আসি।’
জানা গেছে, গতকাল রবিবার আবারও বন্দরের দুজন পাইলট বাহির্নোঙরে যান। পরে তারা বেলা ১২টার দিকে জাহাজ দুটিকে বন্দর জেটিতে নিয়ে আসেন। বর্তমানে জাহাজ দুটি বন্দরের জেসিবি জেটিতে নোঙর করা হয়েছে।
এদিকে দুই জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনাটি তদন্তে যৌথভাবে একটি কমিটি গঠন করেছে নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তর এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে নৌ-বাণিজ্য দপ্তর চট্টগ্রামের প্রিন্সিপাল অফিসার শেখ জালাল উদ্দিন গাজী জানিয়েছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কমিটির সদস্যরা তদন্ত কাজ শুরু করতে পারেননি। জাহাজ দুটির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও মেরামত শেষে চলাচলের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত পণ্য খালাস প্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।