ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কুমিল্লায় মাদক মামলায় কারাবন্দি যুবদলকর্মীর মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাইতির বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিলকে সুখবর দিল ফিফা ওয়ালটন পিসিবিএ'র রপ্তানি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ কনফারেন্স ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, গণপিটুনির শিকার তিন পুলিশ বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান বিশ্বকাপে বড় ধাক্কা খেল আইভরি কোস্ট, কানাডার ভিসা পেলেন না ওয়াহি মাগুরায় নবজাতককে বিক্রি করলেন বাবা পরীমনিকাণ্ডে এডিসি সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসর এসএসসি ফল ঘোষণা ২০ জুলাই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী কুড়িগ্রামে ১২ ঘণ্টা পর রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জাবির কর্মচারীদের অবস্থান মানিকগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষ, নিহত ২ সিলেটে ৩৬ ঘণ্টায় ১২২.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড সংসদে মামুনুল হক প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার টঙ্গীতে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার নেপালের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি চায় বাংলাদেশ চুয়াডাঙ্গায় ট্রেন-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২ সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান সেনাপ্রধানের উখিয়ায় আইওএমের গাড়ির চাপায় অজ্ঞাত শিশুর মৃত্যু ভার্চুয়াল জুয়ার ফাঁদে সমাজ এসএসএফকে জনগণের সঙ্গে সংযোগ অটুট রাখার নির্দেশ তারেক রহমানের গানেই লিজার ব্যস্ততা প্রয়াত বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের নামে আমন্ত্রণপত্র আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ আবার জ্বলে ওঠো জার্মানি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২০০ জাতের আম নিয়ে মেলা শুরু

হাওরে ধান বাঁচানোর যুদ্ধ

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ১১:০৬ এএম
হাওরে ধান বাঁচানোর যুদ্ধ
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার গাঙ্গিনা হাওরে পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান কেটে নৌকায় তুলছেন রীতা-ভূষণ চন্দ্র দাস দম্পতি। ছবি: খবরের কাগজ

দিনের শুরুতেই আকাশজুড়ে ছিল মেঘের আস্তরণ। থেমে থেমে পড়ছিল গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। প্রকৃতির এই শান্ত সৌন্দর্যের মাঝেও থেমে নেই মানুষের যুদ্ধ। 

বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভোর হতেই মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি হাওরের বিস্তীর্ণ ধানখেতে নেমে পড়েন কৃষকরা। কোথাও বাবা-ছেলে মিলে ধান কাটছেন, কোথাও ধানের আঁটি গুছিয়ে রাখছেন স্ত্রী। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া ও পাহাড়ি ঢলের শঙ্কায় ফসল বাঁচাতে পুরো পরিবার নিয়েই মাঠে সময় পার করছেন তারা।

গতকাল সকালে সদর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপাড় ঘুরে দেখা যায়, ধান কাটার মৌসুম এলেও এবার কৃষকের মুখে নেই স্বস্তি। আকাশে মেঘ জমলেই বাড়ছে দুশ্চিন্তা। শ্রমিক সংকট, বাড়তি মজুরি আর অনিশ্চিত আবহাওয়ার কারণে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়েই নেমেছেন ধান কাটার কাজে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে তাদের লড়াই। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাওরজুড়ে এখন একটাই ভয়–আবার যদি পানি বাড়ে! পাকা ধানের খেত তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কেটে আনা ধানও রোদ না থাকায় শুকানো যাচ্ছে না। কোথাও ধান পচে গেছে, কোথাও আবার অঙ্কুর গজাতে শুরু করেছে।

বিরইমাবাদ গ্রামের কৃষক আবদুল কাদির আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের এখন আর কোনো শান্তি নাই। ১০ কিয়ার জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে। অনেক কষ্ট করে চার কিয়ার মতো ধান তুলছি। শ্রমিক পাই না, নৌকাও পাই না। যা পাই, খরচ অনেক বেশি। তাই পরিবারের সবাই মিলে মাঠে কাজ করছি। এই ধান যদি বাঁচাতে না পারি, তাহলে সারা বছরের কষ্টই শেষ।’ 

আরেক কৃষক রমেন দাস জানান, পানির নিচে যাওয়া খেত থেকে যা ধান তোলা গেছে, তা খুবই সামান্য। তার ওপর সময়মতো শুকাতে না পারায় অনেক ধান নষ্ট হয়ে গেছে। রমেন দাসের পাশে দাঁড়িয়ে ধানের আঁটি বাঁধছিলেন তার স্ত্রী সুমি রানী দাস। ক্লান্ত চোখে তিনি বলেন, ‘ভোর হইতে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠেই থাকি। বাপ-পুতে ধান কাইটা নৌকায় করে আনে, আমি আঁটি বাঁধি আর গুছাই। এখন একদিন দেরি মানেই বড় ক্ষতি। আকাশে মেঘ দেখলেই ভয় লাগে, আবার যদি বৃষ্টি নামে।’

শুধু পুরুষরাই নন, হাওরের মাঠে নারীদের অংশগ্রহণও চোখে পড়ার মতো। কেউ ধান শুকাচ্ছেন, কেউ গুছিয়ে রাখছেন। কেউ আবার নৌকায় ধান তুলতে-নামাতে সাহায্য করছেন। অনেক জায়গায় ছোট ছোট ছেলেমেয়েদেরও দেখা গেছে পরিবারের সঙ্গে মাঠে কাজ করতে। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, জেলার হাওরাঞ্চলে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৩৮ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে। কাউয়াদীঘি হাওরে ৪০০ হেক্টরের মতো হতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে আমাদের জরিপের কাজ চলছে। জরিপ শেষ হলে চূড়ান্ত ক্ষতিটা জানা যাবে।

ডুবে গেছে রীতা-ভূষণ দম্পতির স্বপ্ন
কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরে ডুবেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান। হাওরে এ বছর বৈশাখে ঘরে ধান তোলার আনন্দ নেই। ঘরে-ঘরে ভেজা ধানে গজিয়েছে অঙ্কুর। হাওরের বাতাসে পচা ধানের গন্ধ। কেউ বুক পানিতে, কেউ কোমর পানিতে নেমে ভেজা ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টায় আছেন। গতকাল বিলমাকশা খালে গিয়ে দেখা গেছে পানির নিচ থেকে ধান কেটে ঘরে তোলার শেষ চেষ্টা করছেন অনেক কৃষক।

এদের মধ্যে রয়েছেন অষ্টগ্রাম উপজেলার হালালপুর গ্রামের রীতা-ভূষণ দম্পতিও। অতি যত্নের ফসলগুলো আস্তে আস্তে নষ্ট হচ্ছে চোখের সামনে। তাই ভোরের আলো ফোটার আগেই পানিতে নেমে ধান কাটছিলেন তারা। এই দম্পতির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভূষণ চন্দ্র দাস নিজের এলাকা হবিগঞ্জের বুল্লা ইউনিয়নের হেলারকান্দি গ্রাম থেকে সুদে টাকা নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে স্ত্রীর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলেন। অষ্টগ্রামের কলমা ইউনিয়নের আলালপুর গ্রামে দুই একর জমিতে ধান চাষ করেছিলেন তিনি। 

পানিতে নেমে অষ্টগ্রামের বাইলাকান্দি হাওরে পানিতে নিমজ্জিত ধান কাটতে কাটতে তিনি বলেন, ‘ধান কাটার শ্রমিক পাই না। যে মজুরি চায়, তা দেওয়ার মতো সামর্থ্য নাই। তাই নিজেরাই পানিতে নেমে ধান কাটতেছি। আমার কষ্ট দেইখা বউও বুক পানিতে ধান কাটতে নামছে। ছোট তিন বাচ্চা বাড়িতে রাইখা আমরা দুইজন ধান তুলি পানি থেকে।’

কাঁদতে কাঁদতে রীতা রানী দাস খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমার সব স্বপ্ন পানিতে ডুবে গেছে। এ বছর আমি সংসার কীভাবে চালাব। তিন বাচ্চা নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। সব ধান ডুবে গেছে। ভোরবেলা ধান পানি থেকে কাটার জন্য দুইজন বের হয়েছি। দুপুরের খাবারও খেতে পারিনি। আর কিছুই নাই। এ বছরটা ছেলেমেয়ে নিয়ে বাঁচব কীভাবে, ভগবানই জানে।’

এদিকে অষ্টগ্রামের কলমা ইউনিয়নের গাঙ্গিনা, করানি, উগলি, মইচচুরা, জলঢোপ, টোকেরখলা, কইলাকান্দি, কান্তা হাওরের ধান পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এই ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষক চরম আর্থিক সংকটে পড়বে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবার কিশোরগঞ্জে ধান পানিতে তলিয়ে কৃষকের ২৫৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এ ছাড়াও হাওরের ৫৯ হাজার ৭১৫ জন কৃষকের ১৩ হাজার ২৮৭ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত হাওরে প্রায় ৭৩ শতাংশ ও নন হাওরে ৪০ শতাংশ জমি কর্তন করা হয়েছে।

অষ্টগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ সরকার খবরের কাগজকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। অষ্টগ্রাম উপজেলা কৃষি বিভাগ ও পাশাপাশি ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি আছে। সেই কমিটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সদস্য ও কর্মী রয়েছে। তাদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। আশা করি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরাই সরকারি সুবিধা পাবে। অষ্টগ্রামে মোট ২ হাজার ৭০৩ হেক্টর জমি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জের ১৩টি উপজেলায় এক লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু হাওর এলাকার তিন উপজেলা–ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামেই আবাদ হয়েছে এক লাখ ৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমি। এ বছর জেলায় প্রায় ১২ লাখ মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কুমিল্লায় মাদক মামলায় কারাবন্দি যুবদলকর্মীর মৃত্যু

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
কুমিল্লায় মাদক মামলায় কারাবন্দি যুবদলকর্মীর মৃত্যু
শহিদুল্লাহ রাসেল। ছবি: সংগৃহীত

মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়ে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা আসামি ও যুবদলকর্মী শহিদুল্লাহ রাসেল (৪১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে কারা পুলিশের তত্ত্বাবধানে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

মৃত শহিদুল্লাহ রাসেল কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের আটিটি খন্দকার বাড়ির আবুল হাসেমের ছেলে। তিনি পেরুল উত্তর ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।

জানা যায়, গত ১০ মে বিকেলে লালমাই উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের শাসনপাড়া গ্রাম থেকে ১০২ পিস ইয়াবাসহ রাসেলকে গ্রেপ্তার করে লালমাই থানা পুলিশ। পরদিন ১১ মে আদালতের নির্দেশে তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

হাসপাতাল ও কারাগার সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি কাশি ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। ১৯ মে কারা হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করেন। অবস্থার অবনতি হলে বুধবার সকাল ৯টায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৩টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহ আলম খান জানান, রাসেল কারাগারে আসার আগ থেকেই নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। পূর্ববর্তী চিকিৎসা নথির আলোকে কারা চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা নিশ্চিত করেন এবং নিয়মিত ফলোআপে রাখেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তিনি আরও জানান, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কার্ডিয়াক শকে রাসেলের মৃত্যু হয়। পরে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জহির শান্ত/এসএন

চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ছোটশলুয়া গ্রামে বজ্রপাতে শের আলী (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ছোটশলুয়া বোরিং মাঠে ধানক্ষেতে কাজ করার সময় হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।

এতে শের আলী গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শের আলী ছোটশলুয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।

দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বজ্রপাতে নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মিজানুর/আমান

ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, গণপিটুনির শিকার তিন পুলিশ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, গণপিটুনির শিকার তিন পুলিশ
ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও সোনারগাঁও উপজেলার সীমান্তবর্তী শান্তিরবাজার এলাকায় ব্ল্যাকমেইল ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্য গণপিটুনি দিয়েছে এলাকাবাসী। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে পুলিশ বলছে চোখ বেধে অমানবিক নির্যাতন উদ্দেশ্য প্রণীত কিনা তদন্ত করা হচ্ছে।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন এসআই মামুন, এসআই আমান ও কনস্টেবল কবির। তাঁরা কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় কর্মরত বলে পুলিশের সূত্র থেকে জানা যায়।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, ওই তিন পুলিশ সদস্য নিজেদের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করতেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ওসি সবজেল হোসেন বলেন, ব্ল্যাক মেইল করে অর্থ আদায়ের কোন অভিযোগ থাকলে থানা পুলিশকে জানালে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো। পুলিশ সদস্যদেরে আটক করে চোখ বেধে নির্যাতনের উদ্দেশ্য প্রণীত কিনা এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় নানা অভিযোগ ছিল। ঘটনার দিন তাঁদের সন্দেহজনক আচরণ দেখে এলাকাবাসী জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। একপর্যায়ে অনেকে তাঁদের ভুয়া ডিবি পুলিশ সন্দেহে আটক করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাঁদের মারধর করে।

খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে। বর্তমানে তাঁরা আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) মেহেদী ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, বিষয় সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন। তবে তারা কিভাবে ওই এলাকাতে গেলো এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।

মো: ইমরান হোসেন/এসএন

কুড়িগ্রামে ১২ ঘণ্টা পর রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:২১ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:২২ পিএম
কুড়িগ্রামে ১২ ঘণ্টা পর রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক
ছবি: খবরের কাগজ

কুড়িগ্রামের রাজারহাটের রেললাইনের ওপর বালুভর্তি ট্রাক উল্টে পড়ার কারণে রেলযোগাযোগ বন্ধ ছিল। পরে প্রায় ১২ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মি‌নি‌টের দিকে রেললাইন থেকে বালু সরিয়ে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু করে কর্তৃপক্ষ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, কুড়িগ্রাম রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার মোশারফ হোসেন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ১০ মিনিটে রাজারহাট উপজেলার পেট্রল পাম্প সংলগ্ন এলাকায় একটি বালুভর্তি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেললাইনের ওপর উল্টে পড়ে। এতে কুড়িগ্রামের সঙ্গে রেলযোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ঢাকাগামী কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ে কুড়িগ্রাম স্টেশনে পৌঁছাতে পারেনি। সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মি‌নি‌টে রমনা লোকাল ট্রেন‌টি তিস্তার অ‌ভিমু‌খে রওয়ানা ক‌রে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ট্রাকটি রেললাইনের ওপর উল্টে পড়ার পর পুরো রেলপথ ব্লক হয়ে যায়। ফলে কুড়িগ্রাম থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে এবং শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।

রেল চলাচল বন্ধ থাকায় অনেক যাত্রীকে বাস, অটোরিকশা ও সিএনজিযোগে তিস্তা রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে ট্রেনে উঠতে দেখা যায়। আকস্মিক এ পরিস্থিতিতে অনেককে অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হয়েছে।

কুড়িগ্রাম রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার মোশারফ হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর ট্রাক ও বালু অপসারণ করা হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মি‌নি‌টের দিকে রেললাইন সম্পূর্ণ সচল করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে কুড়িগ্রামের সঙ্গে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। 

সিরাজ/নাঈম

মানিকগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষ, নিহত ২

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম
মানিকগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষ, নিহত ২
ছবি: খবরের কাগজ

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মূলজান এলাকায় ট্রাক ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে পিকআপ চালক ও তার সহযোগী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- ঢাকার সাভার উপজেলার ব্রাহ্মণবাড়িয়া গ্রামের মো. আলমের ছেলে রাসেল মিয়া, তিনি পিকআপের চালক ছিলেন এবং একই গ্রামের মো. কাউসারের ছেলে মো. আরাফাত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় আরিচাগামী একটি পিকআপের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পিকআপ চালক ও তার সহযোগী নিহত হন।

দুর্ঘটনায় পিকআপে থাকা আরও দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

গোলড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম মাতবর জানান, ‘দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও পিকআপ জব্দ করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও তার সহযোগী পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।’

আসাদ/আমান