চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের হাটহাজারীর চৌধুরীহাট এলাকায় সড়কের ওপর অবৈধ পশুর হাট বসানোর কারণে তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে মহাসড়ক ও সংলগ্ন রেললাইনের একটি বড় অংশ দখল করে এই বাজার বসানো হওয়ায় উত্তর চট্টগ্রামমুখী সাধারণ মানুষ ও যানবাহনের চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অথচ সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল সড়কের ওপর কোনো পশুর হাট বসবে না।
জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার চৌধুরীহাট এলাকায় মহাসড়কের ওপর কোরবানির পশুর হাট বসানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক এবং স্থানীয় রেললাইনের আশপাশের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে এই বাজার গড়ে তোলায় গত সোমবার থেকে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, যা মঙ্গলবারও অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, বুধবারও এ যানজট অব্যাহত থাকতে পারে। এতে নাভিশ্বাস উঠেছে দূরপাল্লার যাত্রী, সাধারণ পথচারী এবং চালকদের।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সরেজমিনে দেখা গেছে, চৌধুরীহাট স্টেশন ও সংলগ্ন মহাসড়কের প্রায় অর্ধেক অংশজুড়ে সারি সারি গরু, মহিষ ও ছাগল বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ব্যাপারীরা ট্রাক থেকে সরাসরি সড়কের ওপরই পশু নামাচ্ছেন। ফলে দুই লেনের এই ব্যস্ততম মহাসড়কটি সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
চৌধুরীহাট এলাকা পার হতে যেখানে সাধারণ সময়ে ২ থেকে ৩ মিনিট লাগার কথা, সেখানে বর্তমানে একেকটি যানবাহনের ৩ থেকে ৫ মিনিট সময় লাগছে। তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নারী, শিশু এবং রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স।
ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাত্রী নজরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতি বছরই প্রশাসন বলে মহাসড়কের ওপর কোনো হাট বসবে না। কিন্তু বাস্তবে এসে দেখা যায় উল্টো চিত্র। উত্তর চট্টগ্রামের মূল প্রবেশপথের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এভাবে বন্ধ করে হাট বসানো সাধারণ মানুষের সঙ্গে এক ধরনের নির্মম তামাশা।
বাসচালক আব্দুল কুদ্দুস জানান, রাস্তার ওপর গরু নিয়ে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জ্যামের কারণে শিডিউল ধরে গাড়ি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এবারও চৌধুরীহাটের এই বাজারটি ক্রেতা-বিক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ‘হাসিলবিহীন’ বা হাসিলমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে স্থানীয় ব্যাপারীদের অভিযোগ, হাসিল না থাকলেও শেড বা জায়গা বরাদ্দের নামে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে পশুর দামের ওপর।
প্রশাসনের নির্দেশনা ও বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক
উপজেলা প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, যানজট নিরসন ও জনদুর্ভোগ লাঘবে কোনো অবস্থাতেই মহাসড়কে কোরবানির পশু তুলতে দেওয়া হবে না। কিন্তু চৌধুরীহাটের এই অবৈধ বিস্তৃতির সামনে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এই অবৈধ হাট সড়ক থেকে সরিয়ে নির্দিষ্ট ফাঁকা জায়গায় স্থানান্তরের জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারেক আজিজ খবরের কাগজকে বলেন, সকালেও মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। একদিকে অভিযান চলছে, অন্যদিকে সড়কে গরু রাখা হচ্ছে। তবুও আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।
যেহেতু হাটটি রেললাইনের কাছাকাছি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, তাই ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রেও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এর পরও অবৈধ হাটটি সরানোর কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
অমিয়/