নগরীর চকবাজার থানার কাতালগঞ্জ এলাকায় টানা বৃষ্টির ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাঘাটে পানি জমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে বৃষ্টির পর এমন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই এলাকার বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যান চলাচল ব্যহত হয়। সড়কের পাশের দোকানসহ পানি প্রবেশ করে বিভিন্ন বাসাবাড়িতেও।
এলাকাবাসীরা জানান, পাশের হিজড়া খালে বাঁধ দিয়ে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধা নিরসন প্রকল্পের কাজ চলায় দ্রুত জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নালা-নর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার না করা এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতাকে দায়ী করছেন তারা। তবে বৃষ্টিপাত বাড়লে জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে এমন আশঙ্কাও করছেন স্থানীয়রা।
কাতালগঞ্জ এলাকার ব্যবসায়ী মিন্টু দাশ বলেন, সকালে গ্যারেজ খুলেছিলাম। বৃষ্টির পর পর দোকানে পানি প্রবেশ করে। আজকে বিক্রি হয়নি। চা নাস্তার খরচও তুলতে পারিনি। দোকানে পানি প্রবেশ করার ফলে বেশ ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। যেদিন বৃষ্টি হয় সেদিন খুব আতঙ্কে থাকি।
নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত বলেছেন, নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে বৃষ্টির পানি যাতে কোথাও জমে না থাকে সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চসিকের পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মীরা মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন এবং খাল, নালা-নর্দমার প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মেয়র জানান, দীর্ঘ সময় ধরে ভারী বৃষ্টিপাত হলেও নগরীর অধিকাংশ এলাকায় দ্রুত পানি নিষ্কাশন হয়েছে। ফলে কোথাও উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি এবং সাধারণ মানুষের চলাচল ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের কোনো ভোগান্তি দেখা যায়নি।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, চট্টগ্রাম নগরে শুক্রবার দুপুর ১২ টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে অনেক নিচু এলাকায় পানি জমে গেছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হতে পারে। পাহাড়গুলোতে বসবাসকারীরাও সাবধানে থাকতে হবে। ভারী বর্ষণের সাথে পাহাড় ধসের সম্ভাবনাও রয়েছে।
আমান/