চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানা এলাকায় তক্ষক ব্যবসার দ্বন্দ্ব থেকে বেলাল নামে এক রিকশাচালককে মদ খাইয়ে গলাকেটে হত্যার ঘটনার তিন মাস পর অভিযুক্ত তৌহিদুল ইসলাম ওরফে বানিয়াকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত ফেব্রুয়ারিতে রিকশাচালক বেলালকে হত্যা করে তার রিকশা ও মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যান
তৌহিদুল ইসলাম। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গত ২২ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার শিমরাইল তালতলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ভূজপুর থানা পুলিশ।
শনিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল।
তিনি বলেন, তক্ষক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে রিকশাচালক বেলালকে খুন করা হয়েছে। ক্লু লেস এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার বানিয়াকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, নিহত রিকশাচালক মো. বেলাল গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে নিখোঁজ হন। পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি ভূজপুর থানার নিউ দাঁতমারা চা বাগানের ভেতর থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ভূজপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
এ দিকে গ্রেপ্তারের পর তৌহিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ সদর থানা এলাকা থেকে নিহত বেলালের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং ফেনী সদর থানার মহিপাল এলাকা থেকে ছিনতাই করা রিকশার ৪টি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তৌহিদ পুলিশকে জানান, বেলাল তক্ষক কেনার আগ্রহ দেখালে তিনি তাকে একটি প্রতারক দলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। পরে বেলাল প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে তৌহিদকে মারধর করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তৌহিদ প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর পর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার দিকে তৌহিদ বেলালকে চোলাই মদ খাইয়ে নিউ দাঁতমারা চা বাগানে নিয়ে যান এবং সেখানে ছুরি দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করেন। এর পর রিকশাটির রঙ পরিবর্তন করে ফেনীতে নিয়ে গিয়ে এর ব্যাটারি খুলে এক দোকানে বিক্রি করেন এবং রিকশাটি ফেলে রেখে নারায়ণগঞ্জে পালিয়ে যান।
ভূজপুর থানা পুলিশ জানায়, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং আসামির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া
চলমান।
মেহেদী/