রাজধানীতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত নাইমুর হাসান টিটনের বাড়ি যশোর শহরে। প্রায় ২৭ বছর আগে জোড়া খুনের ঘটনার পর যশোর ছেড়ে পাড়ি দেন রাজধানী ঢাকায়।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, ১৯৯৯ সালে যশোর শহরের কারবালা এলাকায় মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় বিএনপিকর্মী মোসলেহ উদ্দিন খোকন ও টিপুকে। এই জোড়া হত্যাকাণ্ডে টিটন ও তার ভাই টুটুলের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। হত্যার কয়েক মাস পর ২০০০ সালে র্যাবের কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হন টুটুল। এর পর টিটন ঢাকায় পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপনে থাকেন।
টিটনের বাড়ি যশোর শহরের খড়কি এলাকার আপন মোড়ে। তারা সাত ভাই ও পাঁচ বোন। অল্প বয়সেই বড় ভাই টুটুলের ছত্রচ্ছায়ায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন টিটন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, চাঁদাবাজি, জমি দখল, আধিপত্য বিস্তার, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধে তাদের দাপট ছিল। ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজেদুল ইসলাম ইমন ছিলেন টিটনের ভগ্নিপতি। তার মাধ্যমে টিটন বড় অপরাধীচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।
স্থানীয় ও পুলিশসূত্রে জানা গেছে, টিটনের বাবা ফখরুদ্দিন খুলনার একটি জুটমিলে পদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। তার দুই স্ত্রী ছিল। বড় দুই ভাই রিপন ও তপন যশোরে থাকেন। অন্যরা দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করেন। পরিবার জানিয়েছে, টিটন অবিবাহিত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৯ সালে জোড়া হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকায় পালিয়ে গিয়ে তিনি গড়ে তোলেন শক্তিশালী অপরাধ নেটওয়ার্ক এবং জড়িয়ে পড়েন অস্ত্র ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে। ২০২১ সালে সরকারের ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় ২ নম্বরে স্থান করে নেন তিনি। ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় ঘাঁটি গড়ে তুলেছিলেন টিটন। সেখান থেকে তিনি শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, অস্ত্র চোরাচালানের জন্য যশোর-ঢাকা রুটে তার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ছিল। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় অস্ত্র যশোর হয়ে ঢাকায় আনা হতো। সেখান থেকে তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ত। পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সঙ্গেও তার গভীর সম্পৃক্ততা ছিল।
টিটন একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা থাকলেও প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় বারবার রেহাই পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। মুক্তির পর আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠেন অপরাধজগতে।
২৮ এপ্রিল রাত পৌনে ৮টার দিকে রাজধানীর নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন টিটন। ধারণা করা হচ্ছে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পূর্বশত্রুতার জেরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মাসুম খান বলেন, শুনেছি ঢাকায় নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসীর বাড়ি যশোরে। তবে আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি, এখানের সব তথ্য এখনো আপডেট করতে পারিনি। টিটনের নামে যশোরে কোনো মামলা আছে কি না, তা যাচাই করে জানানো হবে।