আচ্ছা তোমরা কি কাঠবিড়ালী চিনো? যারা গাছে গাছে লাফিয়ে বেড়ায়। তবে আজকে তোমাদের কাঠবিড়ালী সম্পর্কে বলব না। আজ জানাব ‘প্যাঙ্গোলিন’ বা বনরুই নামের এক সুন্দর প্রাণী সম্পর্কে।
এই প্রাণী কাঠবিড়ালীর মতো গাছে গাছে ঘুরে বেড়ায়। এদের শরীরের জন্যই এরা বেশি জনপ্রিয়। কেননা প্যাঙ্গোলিনের শরীরে মাছের আঁশের মতো বড় বড় আঁশ দিয়ে আচ্ছাদিত থাকে। শত্রু কিংবা বিপদের ঘ্রাণ ফেলেই এরা শরীর গুটিয়ে ফেলে। শক্ত বলের মতো কুঁকড়ে যায়। চলো প্যাঙ্গোলিনের শারীরিক গঠন সম্পর্কে আরেকটু বিস্তারিত জানা যাক।
প্যাঙ্গোলিন স্তন্যপায়ী প্রাণী। এদের চারটি পা, একটি লেজ আছে। পায়ে আছে পাঁচটি করে আঙুল। এদের মাথা সরু ও ছোট। প্যাঙ্গোলিনের কোনো দাঁত নেই। তবে তাদের আঠাল জিভ আছে, যা দিয়ে তারা খাবার ধরে খেতে পারে।
কিছু কিছু প্যাঙ্গোলিনের ইয়া বড় জিভ থাকে। এটা দিয়ে তারা শিকার করতে পারে। তা ছাড়া তারা শিকার করতে নখও ব্যবহার করে। এদের প্রধান খাদ্য পিঁপড়া, উইপোকা ইত্যাদি। প্যাঙ্গোলিন জনপ্রিয় তার শরীরের আঁশের কারণে। এদের শরীরের আঁশগুলো অনেকটা রুই মাছের মতো সাজানো থাকে। তাই একে বনরুইও বলা হয়। এই আঁশগুলো অনেকটা আমাদের নখের মতো। কারণ এই আঁশগুলো কেরাটিন নামক এক ধরনের পদার্থ দিয়ে তৈরি। কেরাটিন দিয়ে মানুষের নখ এবং চুলও তৈরি। এরা বিপদের আঁচ পেলেই বলের মতো করে শরীর গুটিয়ে ফেলে। তাদের এই অবস্থাকে মালয় ভাষায় বলা হয় ‘পেঙ্গুলিন’। সেখান থেকে তাদের নাম ইংরেজিতে হয়েছে প্যাঙ্গোলিন।
প্যাঙ্গোলিন দেখলে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। এরা শান্ত মেজাজের এবং খুব লাজুক স্বভাবের হয়ে থাকে। মানুষকে আক্রমণ করে না। মানুষ দেখলে এরা লুকিয়ে যায়।
প্যাঙ্গোলিন খুব ভালো সাঁতার কাটতে পারে এবং গাছে চড়তে পারে। এরা মাটিতে গর্ত খুঁড়ে বাস করে। এদের কোনো কোনো প্রজাতি গাছে বসবাস করে। শিকারি থেকে বাঁচতে গাছের ফাঁপা অংশে ঘুমায়। এরা বেশির ভাগই দিনে ঘুমায়, রাতে জেগে থাকে। অর্থাৎ এরা নিশাচর প্রাণী।
প্যাঙ্গোলিন এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। পৃথিবীতে সাত প্রজাতির বনরুই রয়েছে, এদের মধ্যে এশিয়ায় আছে চার প্রজাতির বনরুই বা প্যাঙ্গোলিন। আবার তিন প্রজাতির প্যাঙ্গোলিন বাংলাদেশে দেখা যায়। দুঃখের বিষয় হলো, এই ছোট্ট সুন্দর প্রাণীটি বিলুপ্তির পথে। মানে পৃথিবী থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে তারা। শিকারিরা অবৈধভাবে তাদের পাচার করার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে। তবে কেউ কেউ প্যাঙ্গোলিন সংরক্ষণে ব্যবস্থাও নিচ্ছে।