ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সৌন্দর্যে অনন্য গোলাপি অলকানন্দা ইবিএলের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলার হুঁশিয়ারি দুদকের সুইস-কানাডা মহারণ, বাঁচা-মরার ম্যাচ বসনিয়া-কাতারের ২৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি মেক্সিকোর চোখ গ্রুপসেরায়, দ.কোরিয়ার সামনে নকআউট নিশ্চিতের সুযোগ অপেক্ষা ফুরাচ্ছে ওচোয়ার! ইংল্যান্ডকে জিততে দিল না ঘানা মায়ের মৃত্যুতে দেশে ফিরে গেলেন ফ্রান্সের কোচ অতঃপর দেম্বেলে… প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডকে রুখে দিল ঘানা বিশ্বকাপে ইরানের সফর নীতি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের ক্যানভাসে চিরযৌবন নেইমারে ভয় নেই স্কটল্যান্ডের মাঠে হেঁটেই সফল মেসি রোনালদোর রেকর্ডের রাতে পর্তুগালের গোল উৎসব ৪১ বছরেও থামেননি রোনালদো, ভাঙলেন মেসির রেকর্ড পর্তুগিজ কিংবদন্তিতে ছাড়িয়ে শীর্ষে রোনালদো রোনালদোর বিশ্বরেকর্ড, প্রথমার্ধে উজবেকিস্তানের জালে ৩ গোল পর্তুগালের গোল করেই ইতিহাস গড়লেন রোনালদো ফ্রান্স ম্যাচ নিয়ে ভাবছেন না হালান্ড তৃণমূল থেকে ফিরহাদ-অরূপসহ ৮ নেতা বহিষ্কার উপদেষ্টা জাহেদের ফেরা ছিল তার নিজের সিদ্ধান্ত: জয়সওয়াল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সিএফমোটো বাংলাদেশের নতুন শোরুম উদ্বোধন পর্তুগালের একাদশে ২ পরিবর্তন ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল রপ্তানির তথ্য দিলেন ট্রাম্প কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই

সিন্ডিকেটে জড়িতদের খোঁজা হচ্ছে, কাউকে ছাড় নয় : অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৪, ১২:৪৯ এএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:২৯ এএম
সিন্ডিকেটে জড়িতদের খোঁজা হচ্ছে, কাউকে ছাড় নয় : অর্থমন্ত্রী
সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আন্তমন্ত্রণালয়ের জরুরি বৈঠক। ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন রমজান মাস সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। রবিবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয়ের জরুরি বৈঠকে বলা হয়েছে, যারা সিন্ডিকেট করে বাজার অস্থির করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত, তাদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

বৈঠকে বলা হয়েছে, বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে পণ্য সরবরাহ রয়েছে। কোনো ধরনের সংকট নেই,  কিন্তু কিছু মহল কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করছে। সরকার তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না। 

প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন অর্থমন্ত্রী। এ সময়  খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহীদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আব্দুর রহমান, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাজারে পণ্যের সংকট নেই। তারপরও কিছু মহল কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। আমরা ওই সব অসাধু ব্যবসায়ীকে ধরব। সেভাবে সরকার কাজ করছে।’ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে নতুন অর্থমন্ত্রী বলেন,  ‘কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কাজেই দুশ্চিন্তার  কিছু নেই। দরকার হলে আইন করে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে।’ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘রমজান আমাদের লক্ষ্য নয়। তবে রমজান যেহেতু আসন্ন, সে জন্য দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’ 

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকার বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। সে জন্য সবাইকে নিয়ে বৈঠক হয়েছে। একটা কিছু করার জন্যই আমরা আলোচনা করেছি। অপেক্ষা করুন এবং দেখুন কী হয়, ওয়েট অ্যান্ড সি।’ 

চালের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে মাহমুদ আলী বলেন, দাম কিছুটা কমেছে। আরও কমবে। তিনি বলেন, চালের দাম নিয়ে বেশি আলোচনা চলছে। সে জন্য চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

এখন আলুর ভরা মৗসুম। তারপরও ৭০ টাকা কেজি কেন? এর জবাব দেননি অর্থমন্ত্রী। শুধু বলেছেন, আলুচাষিরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সিন্ডিকেটকারীদের খুঁজছি কঠোর অ্যাকশন নেওয়ার জন্য।’ কবে নাগাদ জিনিসপত্রের দাম স্বাভাবিক হবে, এ প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘এটা  বলা  সম্ভব নয়। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। আশা করছি, একটা ভালো ফলাফল পাব।’ 

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

এদিকে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, কিছু মহল কারসাজি করে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। এটা যাতে আর না হয় সে জন্য বৈঠকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এ মুহূর্তে বাজারে পর্যাপ্ত পণ্যের সরবরাহ রয়েছে।

কোনো নিত্যপণ্যের ঘাটতি নেই। তা হলে দাম বাড়ছে কেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কিছু মধ্যস্বত্বভোগী, মতলববাজ কারসাজির মাধ্যমে বাজারকে অস্থির করে তুলছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকারকে বিপদে ফেলার চেষ্ট করছে। আমরা জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই, যারা কারসাজির সঙ্গে জড়িত তাদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

১৫ বছর ধরে সিন্ডিকেট ধরতে পারেননি কেন–এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমাদের হাতে কোনো তথ্যপ্রমাণ ছিল না। এখন আমরা শনাক্ত করার কাজ শুরু করেছি। নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার পর তাদের ধরা হবে এবং আইনের আওতায় আনা হবে। দায়ীদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।’ মন্ত্রী বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা, এটা আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।’ 
গর্ভনর

ডলারসংকট নিয়ে করা এক প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, ‘রজমানের যেসব পণ্য আমদানি করা হচ্ছে, গত বছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ৮টি প্রোডাক্টের যত এলসি হয়েছিল, এবার তার থেকে ১০-১৫ শতাংশ বেশি এলসি হয়েছে। পণ্যগুলো সময়মতো দেশে এসে পৌঁছাবে বলে আশা করছি। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী সমস্যা না করলে পণ্যের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। পণ্যের কোনো ঘাটতি হবে না।’

এমএ/

২৩ জুন: পাউন্ড ছাড়া সব মুদ্রার দাম কমেছে

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:৪০ এএম
২৩ জুন: পাউন্ড ছাড়া সব মুদ্রার দাম কমেছে
ছবি: সংগৃহীত

দিন দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ ছাড়াও পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনে বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে আমাদের দেশের মুদ্রা বিনিময় করতে হয়।

একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। আমরা প্রতিদিন সর্বশেষ বিনিময় হার তুলে ধরছি। আরও বিস্তারিত জানতে স্থানীয় ব্যাংক বা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাদের ওয়েবসাইট পরিদর্শন করা যেতে পারে।

মুদ্রা ক্রয় (টাকা) বিক্রয় (টাকা) বাড়ল/কমল
ইউএস ডলার     122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) 122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) --
ইউরো     140.26 140.30 -0.49
ব্রিটেন পাউন্ড     162.60 162.68 +0.22
অস্ট্রেলিয়ান ডলার     85.91 85.97 -0.14
জাপানি ইয়েন 0.7596 0.7599 -0.0012
কানাডিয়ান ডলার 86.68 86.71 -0.03
সুইস ক্রোনা 12.75 12.77 -0.07
সিঙ্গাপুর ডলার 94.87 94.94 -0.2
চায়না ইউয়ান     18.10 18.11 -0.01
ইন্ডিয়ান রুপি     1.2964 1.2965 -0.0049
সৌদি রিয়াল 33.29 33.58 --
আরব আমিরাত দিরহাম 32.56 32.87 --

সূত্র: (বাংলাদেশ ব্যাংক)

রিফাত/

বাজেট ঘোষণার পর ঊর্ধ্বমুখী রডের বাজার

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
বাজেট ঘোষণার পর ঊর্ধ্বমুখী রডের বাজার
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় বাজেট ঘোষণার (প্রস্তাবিত) পর থেকেই ঊর্ধ্বমুখী রডের বাজার। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির অজুহাতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রডের দাম টনপ্রতি দেড় থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। কয়েক মাসের ব্যবধানে রডের দাম বেড়ে যাওয়ায় নির্মাণ খাতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। সাধারণ ভোক্তারা বাজেটের অতিরিক্ত বোঝা নিয়ে পড়েছেন দুশ্চিন্তায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উৎপাদক পর্যায়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রডে টনপ্রতি দেড় থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কেএসআরএম ৯২ হাজার ৫০০ টাকা, জিপিএইচ ইস্পাত ৯২ হাজার টাকা, বিএসআরএম স্টিল ৯৪ হাজার টাকা ও একেএস স্টিল ৯২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এসব রড গত ফেব্রুয়ারিতে খুচরা পর্যায়ে ৭৮ থেকে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে খুচরায় প্রতিটন কেএসআরএম ৯৪ হাজার টাকা, জিপিএইচ ইস্পাত ৯৪ হাজার টাকা, বিএসআরএম স্টিল ৯৬ হাজার ৫০০ থেকে ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা ও একেএস স্টিল ৯৪ হাজার থেকে ৯৪ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এগুলো ৭৫ গ্রেডের এমএস রড।

অন্যদিকে উৎপাদক পর্যায়ে ৬০ গ্রেডের রডেও টনপ্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকা বেড়ে আল আকসা, ডিএসআরএম ও জেএসআরএম ব্র্যান্ডের রড ৮৮ হাজার থেকে ৮৮ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর প্রভাবও পড়েছে খুচরা বাজারে।

উৎপাদক পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১১ জুন জাতীয় বাজেট সংসদে পেশ করা হয়। বাজেটে রড তৈরির অন্যতম উপাদান স্ক্র্যাপ, বিলেটসহ রড উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপে নির্দিষ্ট ভ্যাট বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন ধাপে ভ্যাট ২ হাজার ৭০০ থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার ৪০০ টাকা করার প্রস্তাব বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও কেমিক্যালের দাম বৃদ্ধি, কাঁচামালের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক এবং বন্দরের ট্যারিফ বৃদ্ধির কারণেও রডের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। তাই এর প্রভাব পড়েছে রডের দামে।

এদিকে বাজেটের আগে গত ৮ জুন জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইস্পাত খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহারের দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘ইস্পাত খাতের কারখানাগুলো গ্রিড থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ নিয়ে থাকে। ফলে কোনো সিস্টেম লস, ট্রান্সমিশন বা ডিস্ট্রিবিউশন লস নেই। তারপরও ডিমান্ড চার্জ, পাওয়ার ফ্যাক্টর চার্জ, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও অন্যান্য মাশুলের মাধ্যমে শিল্প খাতের ওপর ক্রমাগত অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানো হচ্ছে।’ চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দুই সপ্তাহ পার হলেও এ বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। বরং উৎপাদন খরচ বাড়ার কারণে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিক্রিতেও কিছুটা ভাটা পড়েছে।

চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ এলাকার মোহাম্মদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আসলাম বলেন, ‘তিন মাস আগেও রডের বাজার ভালো ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে কোম্পানিগুলো এক দফা দাম বাড়িয়েছিল। এখন বাজেট ঘোষণার পর মিলগেটে (উৎপাদক পর্যায়) দাম বেড়েছে। আর এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়েছে। এ কারণে বিক্রি তেমন নেই বললেই চলে। অনেকে এসে দাম দেখে চলে যাচ্ছেন।’

ফইল্যাতলী এলাকার বাসিন্দা জানে আলম বলেন, ‘বর্ষাকালে কাজ করা কঠিন। তবু জরুরি হওয়ায় বাড়ির সীমানাপ্রাচীরের কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু দোকানে গিয়ে রডের দাম শুনে চোখ কপালে উঠে গেল। কয়েক মাস আগেও প্রতিটন রডের দাম ছিল ৮০ থেকে ৮২ হাজার টাকা। এখন ৯০ হাজার পার হয়ে গেছে। আমার নির্ধারিত বাজেটের চাইতে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তাই এখন কাজ করব কি না, সেটাই ভাবছি।’

দাম বাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসআরএমের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) তপন সেনগুপ্ত বলেন, ‘ভ্যাট, কাঁচামাল, বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। তাই দামটাও বেড়েছে। এ কারণে বিক্রিতে কিছুটা ভাটা পড়েছে। এ ছাড়া রডের চাহিদা বর্তমানে কিছুটা কম। কারণ আমাদের উন্নয়ন বা নির্মাণকাজগুলো ধীরগতিতে চলছে।’

শেয়ারবাজারে ঢালাও দরপতন

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
শেয়ারবাজারে ঢালাও দরপতন
ছবি: খবরের কাগজ

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের মতো দ্বিতীয় কার্যদিবস গতকাল সোমবারও প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ঢালাও দরপতন হয়েছে। কমেছে প্রধান সূচক। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। বাজারটিতে ১৪ কার্যদিবস পর হাজার কোটি টাকার কম লেনদেন হয়েছে।

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম বাড়ার তুলনায় দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। ফলে এ বাজারটিতেও মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। বড় দরপতন হলেও সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মেলে। কিন্তু লেনদেনের সময় ১০ মিনিট হওয়ার আগেই দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান। এতে সূচকও ঋণাত্মক হয়ে পড়ে।

লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দরপতনের মাত্রাও বাড়তে থাকে। লেনদেনের শেষ দেড় ঘণ্টায় বাজারে ঢালাও দরপতন হয়। এতে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সব কটি মূল্যসূচকের বড় পতন দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে মাত্র ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। দাম কমেছে ৩১৯টির এবং ৩৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৬টির শেয়ার দাম বেড়েছে। ১৭১টির দাম কমেছে এবং ৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৪টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৬৯টির এবং ২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৬টির শেয়ার দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৭৯টির এবং ২৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ২৮টির দাম কমেছে এবং ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়েনি।

দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স তার আগের দিনের তুলনায় ৮৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১২৯ পয়েন্টে নেমে গেছে। বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক তার আগের দিনের তুলনায় ৩৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

মূল্যসূচকের বড় পতন হওয়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৮৭৬ কোটি ৬ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। লেনদেন কমেছে ১২৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে গত ২ জুনের পর ডিএসইতে এই প্রথম হাজার কোটি টাকার কম লেনদেন হলো।

লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার। কোম্পানিটির ৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সামিট এলায়েন্স পোর্টের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকার। ২৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ন্যাশনাল ফিড মিলস।

এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- বিডি থাই অ্যালুমেনিয়াম, রবি, ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, এনসিসি ব্যাংক এবং অ্যাপেক্স স্পিনিং।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর তার আগের কার্যদিবসের তুলনায় বেড়েছে ৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
 

তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৪ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে থাকা জেএমআই লিমিটেডের শেয়ারদর বেড়েছে ৩ দশমিক ০৪ শতাংশ।

এ ছাড়া ডিএসইতে দাম বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো— প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, মনোস্পুল পেপার ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ন্যাশনাল ফিড মিলস লিমিটেড, ফু-ওয়াং সিরামিক ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড, সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালস লিমিটেড।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৬৭ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৯টির দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ১৭৪টির এবং ২৬টির অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩০ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে তরুণদের জন্য সবকিছুই থাকছে

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:২৭ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
প্রস্তাবিত বাজেটে তরুণদের জন্য সবকিছুই থাকছে
ছবি: খবরের কাগজ

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তরুণদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন, অনলাইন ব্যবসা ও সৃজনশীল অর্থনীতিকে উৎসাহ দিতে কর-সুবিধা ও নীতিগত-সহায়তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি সেবাকে পুরোপুরি ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে নাগরিকরা ঘরে বসেই অধিকাংশ সরকারি সেবা নিতে পারেন।

গতকাল সোমবার রাজধানীর ফার্মগেটে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) ও ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের যৌথ আয়োজনে ‘সংখ্যার বাহিরে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়া’ শীর্ষক ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সিজিএসের সভাপতি সাংবাদিক জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে এম মুজিবুল হক, অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান, বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ড. মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, ট্রান্সকম লিমিটেডের সিইও সিমিন রহমানসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের বিজনেস স্কুলের ডিন অধ্যাপক এম এ বাকী খলিলী।  

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে নতুন কাঠামোয় এগিয়ে নিতে সরকার ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বা সৃজনশীল অর্থনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। গ্রামীণ কারুশিল্প, কুটিরশিল্প, চিত্রকলা, সংগীত, নাটক, চলচ্চিত্র ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করা হবে। এসব খাতে কর্মরতদের জন্য আর্থিক সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও বিপণন সুবিধা দেওয়া হবে, যাতে তারা আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিযোগিতা করতে পারেন।

তিনি জানান, সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে এ বরাদ্দ আরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি পূর্বাচলে একটি বৃহৎ সাংস্কৃতিক থিয়েটার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে সিনেমা, নাটক, সংগীত, শিল্পকলা ও স্ট্রিট ফুডসহ নানা আয়োজন থাকবে। এর মাধ্যমে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও সম্প্রসারিত হবে।

ডিজিটাল সেবার প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, সব সরকারি সেবা ধাপে ধাপে অনলাইনে নিয়ে আসা হবে। এতে কর ফাঁকি ও দুর্নীতি কমবে, নাগরিকদের সময় ও ভোগান্তি হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে শক্তিশালী ইন্টারনেট অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে অনলাইন ব্যবসা, ফ্রিল্যান্সিং ও কল সেন্টার খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে স্টার্টআপ উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য কর-সুবিধা রাখা হয়েছে। বিদেশ থেকে আয় দেশে আনার প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত আয় দেশে আনতে কোনো জটিলতা থাকবে না। আন্তর্জাতিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলোও বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করছে, যা তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি কঠিন সময় অতিক্রম করছে। অতীতের ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজারের অনিয়ম, অর্থ পাচার এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব এখনো অর্থনীতিতে বিদ্যমান। তাই অর্থনীতিকে ভঙ্গুর অবস্থা থেকে স্থিতিশীল পর্যায়ে আনতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে।

তিনি বলেন, ‘আমি যদি বলি আগামীকাল সকালেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, তাহলে সেটি বাস্তবসম্মত হবে না। অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে দুই বছর সময় প্রয়োজন। তৃতীয় বছর থেকে প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক ফল দেখা যাবে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বাধীন ও পেশাদার কমিশনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইন ও সংস্কার কার্যক্রম চলছে। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং আগামী দুই বছরের মধ্যে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে। কারণ পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থায় যোগ্যতার ভিত্তিতে লোক নিয়োগ করা হয়েছে। বড় বড় বিদেশি কোম্পানি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে চাচ্ছে। বড় বড় কোম্পানি আসা শুরু করেছে, তাদের ফান্ড ম্যানেজাররা আসা শুরু করেছে। জেপি মরগান আমার সঙ্গে দেখা করেছেন। তারা বিনিয়োগ করতে চায়। দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে। সবার জন্য বড় ধরনের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্যে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে সরকার ডিরেগুলেশনের পথে এগোচ্ছে। ব্যবসা সহজ করতে লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সরল করা এবং আমদানিতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের সংস্কারে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। দেশ হিসেবে আমরা অনেক সাফার করেছি। সত্যি বলতে বাংলাদেশের মানুষ এখন মুক্ত জীবন চায়।’

সভায় ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে এম মুজিবুল হক বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের করপোরেট করহার কমাতে হবে। মুনাফাবিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিদ্যমান করহার পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান বলেন, ‘বাজেট বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে মানুষ। আমরা সংখ্যার কথা বলব, আমরা উপাত্তের কথা বলব, আমরা অর্থ বরাদ্দের কথা বলব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা দেখতে চাইব– এগুলো মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কতখানি সাহায্য করেছে।’

মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক এম এ বাকী খলিলী ব্যক্তিশ্রেণির নতুন করকাঠামোর সমালোচনা করে বলেন, এতে সীমিত আয়ের মানুষের ওপর করের চাপ বাড়বে। তাদের সঞ্চয় প্রবণতা কমে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হবে না।

২২ জুন: কমেছে পাউন্ড ইউরোর দাম, বেড়েছে রিয়াল দেরহামের

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
২২ জুন: কমেছে পাউন্ড ইউরোর দাম, বেড়েছে রিয়াল দেরহামের
ছবি: সংগৃহীত

দিন দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ ছাড়াও পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনে বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে আমাদের দেশের মুদ্রা বিনিময় করতে হয়।

একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। আমরা প্রতিদিন সর্বশেষ বিনিময় হার তুলে ধরছি। আরও বিস্তারিত জানতে স্থানীয় ব্যাংক বা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাদের ওয়েবসাইট পরিদর্শন করা যেতে পারে।

মুদ্রা ক্রয় (টাকা) বিক্রয় (টাকা) বাড়ল/কমল
ইউএস ডলার     122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) 122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) --
ইউরো     140.77 140.79 --
ব্রিটেন পাউন্ড     162.42 162.46 --
অস্ট্রেলিয়ান ডলার     86.06 86.11 --
জাপানি ইয়েন 0.7609 0.7611 --
কানাডিয়ান ডলার 86.71 86.74 --
সুইস ক্রোনা 12.78 12.84 --
সিঙ্গাপুর ডলার 94.95 95.14 --
চায়না ইউয়ান     18.09 18.10 --
ইন্ডিয়ান রুপি     1.3013 1.3014 --
সৌদি রিয়াল 33.29 33.58 --
আরব আমিরাত দিরহাম 32.56 32.87 --

সূত্র: (বাংলাদেশ ব্যাংক)

অমিয়/