দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সবগুলো মূল্যসূচকের সামান্য উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। লেনদেনে যে কয়টি সিকিউরিটিজের দর কমেছে, তার চেয়ে দ্বিগুণের বেশি সংখ্যকের দর বেড়েছে। তবে এক্সচেঞ্জটির সার্বিক লেনদেন তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩৪৭ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস বেড়েছে ২ পয়েন্ট, হয়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৫২ পয়েন্টে। নির্বাচিত ৩০ কোম্পানির শেয়ার নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৭৩ পয়েন্টে নেমেছে।
গত মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ডিএসই ব্রড ইনডেক্স তার আগের দিনের চেয়ে ৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৩৪৪ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক শূন্য দশমিক ৬৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৫০ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক শূন্য দশমিক ৫২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৭১ পয়েন্টে। এ সময় লেনদেন হওয়া ৩৭৮টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২১৩টির, দর কমেছে ৭৭টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৮৮টির। এ সময় টাকার অঙ্কে লেনদেন হয়েছে ১২৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই আগের দিনের চেয়ে ৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১৫ হাজার ৮২ পয়েন্টে। এ সময় লেনদেন হওয়া ৬৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৩টির, দর কমেছে ৩০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪টির। আলোচিত সময়ে লেনদেন হয়েছে ৮৩ লাখ টাকা।
দিনশেষে ডিএসইতে ৩৯৫টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২৩৩টির, কমেছে ১০১টির, অপরিবর্তিত ছিল ৬১টির। লেনদেনের অঙ্কও সীমিত থেকে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৪৬৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার, যা গত ২৫ জুনের পর সর্বনিম্ন। তার আগের দিন সোমবার লেনদেন হয়েছিল ৫৪৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
মোট বাজার মূলধন কমেছে ১ হাজার ২৫০ কোটি ২২ লাখ টাকা। বড় মূলধনি কোম্পানি যেমন গ্রামীণফোন ও স্কয়ার ফার্মার শেয়ারের দর কমার কারণে এই হ্রাস ঘটেছে। আগের চার কার্যদিবসে বাজার মূলধন কমেছিল ৮ হাজার ৫২৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ টানা পাঁচ দিনে বিনিয়োগকারীদের মোট ক্ষতি হয়েছে ৯ হাজার ৭৭৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকার বেশি।
লেনদেনের তালিকায় শীর্ষে ছিল সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড। কোম্পানিটির ২০ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। আগের দিন শীর্ষে থাকা ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিছিয়ে গেছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) চিত্রটি ভিন্ন। সার্বিক সূচক সিএসপিআই ৫৩ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ২৫ পয়েন্টে নেমেছে। সিএসসিএক্স সূচক ৩০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ২৪৩ পয়েন্টে। সিএসইতে ২১০টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৯০টির, কমেছে ৯৯টির, অপরিবর্তিত ছিল ২১টির। এক্সচেঞ্জের লেনদেন দিনশেষে ১২ কোটি ৭১ লাখ টাকায়, আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা কম।
গত মঙ্গলবার ব্লক মার্কেটে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ফাইন ফুডস লিমিটেড। এদিন কোম্পানিটির ৮ কোটি ৯৪ লাখ ২৩ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা এটিকে লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় প্রথম স্থানে নিয়ে এসেছে লেনদেনের দ্বিতীয় স্থানে উঠে
এসেছে লাভেলো। কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ৫২ হাজার টাকার। ১ কোটি ৬ লাখ ১৬ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন করে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি।
ব্লক মার্কেটে বড় লেনদেন করা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি ১ কোটি ৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড ৮১ লাখ ৫১ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গতকালের সূচক বৃদ্ধির মাত্রা ছিল সীমিত। যে পরিমাণ পুঁজি বিনিয়োগকারীরা হারিয়েছেন, তা পূরণ করতে হলে বাজারকে কয়েকদিন ধরে উত্থান ধরে রাখতে হবে। জুন ক্লোজিং হওয়া কোম্পানিগুলো আগামী মাসে ডিভিডেন্ড ঘোষণা করবে, যা বাজারকে পুনরুজ্জীবিত করার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। বিনিয়োগকারীদের উচিত ধৈর্য ধরে শেয়ার বিক্রি থেকে বিরত থাকা।