চট্টগ্রামে পাইকারি বাজারে কমেছে পাম অয়েলের দাম। মাসের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির লিটারে ৮ টাকা কমেছে। তবে এর প্রভাব পড়েনি খুচরা বাজারে। এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ও প্রতি ডজন ফার্মের লাল ডিমের দাম ১০ টাকা কমেছে।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে পাইকারি দরে বিক্রি হয় পাম অয়েল। এখানে মণ হিসাবে বিক্রি হয় পণ্যটি। মাসখানেক আগে প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) পাম অয়েল বিক্রি হয়েছিল ৬ হাজার ১০০ টাকায়। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৭৭০ টাকায়। সে হিসাবে প্রতি মণে কমেছে ৩৩০ টাকা। লিটার হিসাবে পাইকারি বাজারটিতে মাসখানেক আগে প্রতি লিটার পাম অয়েল ১৪৭ টাকা ১০ পয়সায় বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৩৯ টাকা ১৪ পয়সা। সে হিসাবে পাইকারিতে পণ্যটি লিটারে ৮ টাকা কমেছে।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে পাম অয়েলের বুকিং দর কমে এসেছে। বিশ্ববাজারে চলতি বছরের আগস্টে প্রতি টন অপরিশোধিত পাম অয়েলের বুকিং দর ছিল ১ হাজার ২৬ ডলার। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৭ ডলারে। অক্টোবরে আরও বেড়ে পণ্যটির বুকিং দর গিয়ে ঠেকে ১ হাজার ৪৫ ডলারে। তবে নভেম্বরে এসে বুকিং দর কমে ৯৫০ থেকে ৯৮০ ডলারে দাঁড়ায়।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের আইনবিষয়ক সম্পাদক ও চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, খাতুনগঞ্জে পাম অয়েলসহ অধিকাংশ ভোগ্যপণ্যের দাম নিম্নমুখী। পাশাপাশি ভোগ্যপণ্যের সরবরাহও বেশ ভালো। এদিকে পাইকারিতে দাম কমলেও খুচরায় পণ্যটির দামে কোনো প্রভাব পড়েনি। লিটারপ্রতি বিক্রি হচ্ছে আগের ১৫২ টাকায়।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘মুনাফার জন্যই একজন ব্যবসায়ী ব্যবসা পরিচালনা করবেন- এটা স্বাভাবিক। তাই বলে অতি মুনাফা করাটাও অন্যায়। আমাদের ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন সংস্থাগুলোকে বাজার তদারকির ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।’
এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১০ টাকা কমে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৯০০ টাকা ও খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তা ছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজনে ১০ টাকা কমে ফার্মের লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারটিতে প্রতি কেজি ফুলকপি, বাঁধাকপি, কাঁকরোল, পটোল ও করলা ৪০ থেকে ৬০ টাকা, শসা, বেগুন ও কাঁচা টমেটো ৬০, মুলা ৪০ থেকে ৫০, মিষ্টিকুমড়া ৫০, কাঁচা পেঁপে ৩০ থেকে ৪০, শালগম ৮০, ঢ্যাঁড়স, চিচিঙ্গা, কচুরলতি, কচুরমুখী ও লাউ ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তা ছাড়া প্রতি কেজি আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা ও কাঁচা মরিচ ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে প্রতি কেজি কোরাল ৭০০ টাকা, আইড় মাছ ৬০০, বাগদা চিংড়ি ৮৫০ থেকে ৯০০, রুই ও কাতলা ৩৫০ থেকে ৪৫০, লইট্যা ২০০, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০, রূপচাঁদা ৮৫০, শিং ৪০০ থেকে ৪৫০, পোয়া ২৫০ থেকে ৩০০, তেলাপিয়া ও সিলভার কার্প ২৫০, টেংরা ৬০০, নাইলোটিকা ২২০ ও পুঁটি মাছ ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তা ছাড়া প্রতি কেজি মসুর ডাল (মোটা) ৯০ টাকা, খেসারি ডাল ৯০, ছোলা ১১০, মুগ ডাল (বড়) ১২০, মুগ ডাল (ছোট) ১৪৫ ও মাষকলাই ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি কেজি খোলা চিনি ৯৫ টাকা, প্যাকেটজাত চিনি ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তা ছাড়া প্যাকেট আটা (দুই কেজি) ১১০ টাকা ও প্যাকেট ময়দা (দুই কেজি) ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।