পাঁচ ইসলামি ব্যাংককে একীভূত করে একটি ব্যাংক গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংককে অধিগ্রহণ করবে নবগঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’। এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত স্কিম বা নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনে এই নীতিমালার বিস্তারিত জানিয়েছে। পাশাপাশি নতুন ব্যাংকের লোগোও উন্মোচিত করেছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, ৫ ব্যাংকের আমানতকারীরা এখন টাকা তুলতে পারবেন। এতে বলা হয়েছে, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং একীভূত কার্যকর তারিখ থেকে যে কোনো সময় তোলা যাবে। এর মানে আগামী কার্যদিবস অর্থাৎ নতুন বছরের ১ তারিখ বৃহস্পতিবার থেকেই তারা টাকা তুলতে পারবেন। তবে ২ লাখ টাকার বেশি আমানতের জন্য ২৪ মাস পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে উত্তোলন করা যাবে। সাধারণ আমানতকারীদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের ক্ষেত্রে পরবরর্তী এক লাখ টাকা পর্যন্ত স্কিম কার্যকর হওয়ার তিন মাস পর তোলা যাবে। এরপর ১ লাখ টাকা করে স্কিম কার্যকরের পরের ৬ মাস ৯ মাস, ১২ মাস, ১৫ মাস, ১৮ মাস, ২১ মাস পর তোলা যাবে। বাকি পুরো অর্থ তোলা যাবে ২৪ মাস পর। এদিকে প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের চলতি, সঞ্চয়ী আমানতের ক্ষেত্রেও একই সূচি প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি সাধারণ আমানতকারীদের মেয়াদি ও স্থায়ী আমানতের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব আমানতকারীরা তাদের স্থায়ী আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ বা ঋণসুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। তিন মাস মেয়াদি স্থায়ী আমানত স্কিম কার্যকর হওয়ার পর তিনবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে। ৩-৬ মাস মেয়াদি আমানত ২ বার, ৬-১২ মাস মেয়াদি আমানত ২ বার স্কিম কার্যকর হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে। এ ছাড়া এক-দুই বছর মেয়াদি আমানত তিন বছর মেয়াদি আমানতে রূপান্তরিত হবে। দুই-তিন বছর মেয়াদি আমানত চার বছর মেয়াদি এবং তিন-চার বছর মেয়াদি আমানত পাঁচ বছর মেয়াদি আমানতে রূপান্তরিত হবে। এছাড়া চার বছরের বেশি মেয়াদি আমানত মেয়াদপূর্তি শেষে পরিশোধযোগ্য হবে। এতে বলা হয়েছে, ব্যাংকটি পরিচালনার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ৭ সদস্যের একটি পর্ষদ থাকবে, যার মধ্যে অন্তত ৫০ শতাংশ সদস্য হবেন স্বতন্ত্র পরিচালক।
কমবে কর্মকর্তাদের সুযোগ–সুবিধা
নীতিমালা অনুযায়ী, হস্তান্তরকারী (পুরোনো পাঁচটি) ব্যাংকে কর্মরত যেসব কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা বিভাগীয় অভিযোগ নেই, তারা নির্ধারিত দিনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কর্মী হিসেবে গণ্য হবেন। তবে তাদের চাকরির ক্ষেত্রে কিছু কঠোর শর্তারোপ করা হয়েছে— বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে নতুন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কর্মকর্তাদের চাকরির বিদ্যমান শর্তাবলি পুনর্নির্ধারণ করতে পারবে। যদি শর্ত পরিবর্তনের ফলে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর প্রাপ্ত সুযোগ–সুবিধা বা বেতন–ভাতা আগের তুলনায় কমে যায়, তাহলে ওই কর্মী এ নিয়ে আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক আপত্তি তুলতে পারবেন না। হস্তান্তরকারী ব্যাংকের কোনো কর্মী যদি নতুন ব্যাংকে চাকরি করতে অনিচ্ছুক হন, তাহলে তাকে লিখিতভাবে তা জানাতে হবে। সে ক্ষেত্রে তিনি নতুন ব্যাংকের কর্মচারী হিসেবে গণ্য হবেন না।
নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যদি ব্যাংকের স্বার্থে প্রয়োজনীয় মনে করে কিংবা কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক বা চাকরিবিধি পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পায়, তাহলে তাকে যে কোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই বরখাস্ত করতে পারবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, নতুন ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। সরকার ইতিমধ্যে মূলধন বাবদ ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে, যা রেজল্যুশন স্কিমে ক-শ্রেণির শেয়ার ধারক হিসেবে বিবেচিত হবে। পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থায়ী আমানতের অংশ হতে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা শেয়ারে রূপান্তরিত হবে, যা রেজল্যুশন স্কিমে খ-শ্রেণির শেয়ার ধারক হিসেবে বিবেচিত হবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের স্থায়ী আমানতের অংশ হতে আরও সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা শেয়ারে রূপান্তরিত হবে, যা রেজল্যুশন স্কিমে গ-শ্রেণির শেয়ার ধারক হিসেবে বিবেচিত হবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং গ্র্যাচুইটি, জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি, বহুজাতিক কোম্পানি, রেজল্যুশনের আওতাভুক্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোম্পানি এবং বিদেশি দূতাবাসসমূহের ক্ষেত্রে ওই বিধান প্রযোজ্য হবে না। শেয়ার ধারণ প্রসঙ্গে পরিবর্তিত কোনো অবস্থার উদ্ভব হলে সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
নাঈম/