ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
নদী-খাল কিছু নেই তবুও নির্মাণ হচ্ছে ব্রিজ শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কেটে নিলেন পৌর বিএনপির নেতা বানিয়াচংয়ে দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ, আহত ৫০ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কবর খুঁড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু ২ প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র নর্ডিক দেশসমূহ: প্রকৃতি, সমৃদ্ধি ও মানবিক উন্নয়নের অনন্য দৃষ্টান্ত জনবল নেবে ব্যাংক এশিয়া টুঙ্গিপাড়ায় বিদ্যালয়ের ফ্যান, জানালা, বই-খাতা বিক্রির অভিযোগ শাবনূরকে নিয়ে যা বললেন পূর্ণিমা হাম-উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু নওগাঁয় পানিতে ডুবে ১৩ মাসের শিশুর মৃত্যু টুঙ্গিপাড়ায় এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিবর্তনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ পুশইন বন্ধে ভারতকে ১০-১২টি চিঠি দিয়েছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফলাফলের তারিখ ঘোষণা সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু ভাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু সরিষাবাড়ীতে চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা, এলাকাবাসীর তৎপরতায় রক্ষা বিল-ঝিলে পদ্ম ও শাপলার মায়াবী রূপ শরীয়তপুরে মাটি গরম হয়ে ধোঁয়া ওঠা স্থানে গ্যাস নেই: বাপেক্স শার্শায় আওয়ামী লীগ নেতা টিংকু গ্রেপ্তার শক্তিশালী ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চান নেতানিয়াহু! মানিকগঞ্জে বাবার মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্ত ছেলে ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃত্যু ১৯, আহত ১৩০ ড. ইউনূসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ প্রতিদিন ১০০ কোটি লিটার পানি ঢাকায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে : মির্জা ফখরুল মাঠের ফুটবল যখন জীবনের ব্যাধি হয়ে দাঁড়ায় ইসরায়েলের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় ইরানের হামলা
Nagad desktop

ই-ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়াল এনবিআর

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
ই-ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়াল এনবিআর
ছবি: সংগৃহীত

আগামী জুলাই থেকে বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্যবসায়ীদের পূর্বের দাখিল করা কাগজভিত্তিক (হার্ড কপি) ভ্যাট রিটার্নগুলো ইলেকট্রনিক ভ্যাট (ই-ভ্যাট) সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করার সময়সীমা আগামী ৩০ জুন-২০২৬ পর্যন্ত বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রবিবার (৭ জুন) এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগে হার্ড কপিতে জমা দেওয়া মাসিক ভ্যাট রিটার্নগুলো ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ ও অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত করার সুবিধার্থে ই-ভ্যাট ব্যবস্থায় ‘হার্ড কপি রিটার্ন এন্ট্রি’ নামে একটি নতুন সাব-মডিউল সংযোজন করা হয়েছে।

এনবিআর জানায়, এ সাব-মডিউল ব্যবহারের পদ্ধতি নির্ধারণ করে গত ৫ জানুয়ারি-২০২৬ একটি পরিপত্র জারি করা হয় এবং সব হার্ড কপি রিটার্ন অনলাইন সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ৩১ মার্চ-২০২৬ পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে ই-ভ্যাট প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, এখনো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কাগজভিত্তিক রিটার্ন অনলাইন সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

আগামী জুলাই থেকে অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার জন্য অতিরিক্ত সময় দিয়ে আগামী ৩০ জুন-২০২৬ পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর।

এনবিআর সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সংশোধিত সময়সীমার মধ্যে তাদের কাগজের রিটার্নগুলো ই-ভ্যাট সিস্টেমে এন্ট্রি করতে ব্যর্থ হবে, তারা বিধিনিষেধের সম্মুখীন হবে।

এ ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত তাদের সমাপনী স্থিতি (ক্লোজিং ব্যালেন্স) স্থগিত (ফ্রিজ) করে দেওয়া হবে। ফলে ভবিষ্যতে ওই স্থিতির বিপরীতে কোনো সমন্বয় করা যাবে না।

রাজস্ব বোর্ড আরও জানায়, ভ্যাট ফেরতের (রিফান্ড) আবেদন নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট সব ভ্যাট রিটার্ন অনলাইন সিস্টেমে থাকা বাধ্যতামূলক। ফলে যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তাদের পূর্ববর্তী সব ভ্যাট রিটার্ন ই-ভ্যাট প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্ত করবে না, তারা রিফান্ডের আবেদন করতে পারবে না।

দেশের রাজস্ব ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং রাজস্ব কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্যে চলমান উদ্যোগে করদাতাদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছে এনবিআর।

আজকের মুদ্রার বাজার: ৮ জুন, ২০২৬

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১২:২০ পিএম
আজকের মুদ্রার বাজার: ৮ জুন, ২০২৬
প্রতীকী ছবি

দিন দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ ছাড়াও পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনে বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে আমাদের দেশের মুদ্রা বিনিময় করতে হয়।

একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। আমরা প্রতিদিন সর্বশেষ বিনিময় হার তুলে ধরছি। আরও বিস্তারিত জানতে স্থানীয় ব্যাংক বা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাদের ওয়েবসাইট পরিদর্শন করা যেতে পারে।

মুদ্রা ক্রয় (টাকা) বিক্রয় (টাকা) বাড়ল/কমল
ইউএস ডলার     122.7500 (ব্যাংক নির্ধারিত) 122.75 --
ইউরো     141.40 141.44 --
ব্রিটেন পাউন্ড     163.74 163.79 --
অস্ট্রেলিয়ান ডলার     86.48 86.53 --
জাপানি ইয়েন 0.7656 0.7658 --
কানাডিয়ান ডলার 88.09 88.10 --
সুইস ক্রোনা 12.94 13.00 --
সিঙ্গাপুর ডলার 95.00 95.20 --
চায়না ইউয়ান     18.0751 18.0754 --
ইন্ডিয়ান রুপি     1.2927 1.2929 --
সৌদি রিয়াল 32.53 32.84 --
আরব আমিরাত দিরহাম 33.26 33.55 --

সূত্র: (বাংলাদেশ ব্যাংক)

মুদ্রা কেনাবেচার দর: ৭ জুন, ২০২৬

অমিয়/

বিশ্ববাজারে ফের কমল স্বর্ণের দাম

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ১০:৫৯ এএম
বিশ্ববাজারে ফের কমল স্বর্ণের দাম
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমেছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে দেশের বাজারেও পড়েছে। সবশেষ সমন্বয়ে ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। একই সঙ্গে কমেছে রুপার দামও। বিশ্ববাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকায় দেশের বাজারে আবারও দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত শনিবার (৬ জুন) স্বর্ণ ও রুপার নতুন দাম ঘোষণা করে, যা বর্তমানে কার্যকর রয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকায়। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকায়।

একই সঙ্গে ভরিতে ৪০৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ২০৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমেছে। সোমবার (৮ জুন) স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৩২১ দশমিক ৪৯ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারও কমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা এবং শক্তিশালী কর্মসংস্থান তথ্যের কারণে স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের নতুন উত্তেজনার কারণে তেলের দাম বাড়লেও তা মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, যা স্বর্ণবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বাজুস সূত্র বলছে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমলে সাধারণত তার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ে। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমান নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম আবার কমানো হতে পারে।

অন্তরা/

সৌরবিদ্যুৎ খাতে বাড়তি কর চাপানো ঠিক হবে না

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
সৌরবিদ্যুৎ খাতে বাড়তি কর চাপানো ঠিক হবে না
ছবি: সংগৃহীত

নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমপরিমাণ কর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ওপর আরোপ করা হলে সরকার বছরে ১ হাজার ৫৯ কোটি থেকে ১ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করতে পারত। যেখানে জীবাশ্ব জ্বালানির ওপর মোট করের হার ৯ দশমিক ৫ শতাংশ সেখানে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ খাতের সরঞ্জামের ওপর মোট করের হার প্রায় ৩১ শতাংশ বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

রবিবার (৭ জুন) রাজধানীতে সিপিডি আয়োজিত ‘ফসিল ফুয়েল এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে বিদ্যমান রাজস্ব বৈষম্য: জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় বিকল্প সমাধান’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বর্তমানে আমদানি করা এলএনজিকে বাজারে তুলনামূলক সস্তা ও প্রতিযোগিতামূলক রাখতে ভ্যাট অব্যাহতি দিয়ে রেখেছে। ফলে এলএনজির ওপর মোট করের হার মাত্র ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। বিপরীতে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ খাতের সরঞ্জামের ওপর মোট করের হার প্রায় ৩১ শতাংশ এবং বায়ুবিদ্যুৎ খাতে তা ২৯ শতাংশ।

গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এলএনজি আমদানির ওপর সৌরবিদ্যুতের সমপরিমাণ কর আরোপ করা হলে সরকারের অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হতো ১ হাজার ২৯৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। একইভাবে বায়ুবিদ্যুতের সমপরিমাণ কর আরোপ করলে অতিরিক্ত রাজস্ব আসত ১ হাজার ৫৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ জীবাশ্ম জ্বালানিকে কর সুবিধা দিতে গিয়ে সরকার বছরে সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ২৯৩ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কয়লা আমদানির ওপর সৌরবিদ্যুতের সমপরিমাণ কর আরোপ করা হলে সরকারের অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হতো ৬৬৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা। তবে তেল খাতে সৌরবিদ্যুতের সমপরিমাণ কর-কাঠামো প্রয়োগ করলে সরকারের রাজস্ব আয় উল্টো ৪ হাজার ৯৫১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা কমে যেতে পারে।

সিপিডি জানায়, দেশের টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের অন্যতম প্রধান বাধা হলো জীবাশ্ম ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে বিদ্যমান শুল্ককর বৈষম্য। একদিকে এলএনজি আমদানিতে ভ্যাটশূন্য এবং অগ্রিম আয়কর মাত্র ২ শতাংশ রাখা হয়েছে, অন্যদিকে সোলার প্যানেলসহ গুরুত্বপূর্ণ নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামের ওপর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অগ্রিম কর এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপ করা হয়েছে। ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ কৃত্রিমভাবে ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।

এই বৈষম্য দূর করতে এবং রাজস্ব ক্ষতি কমাতে সিপিডি বেশ কয়েকটি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে এলএনজি আমদানির ওপর বিদ্যমান শূন্য ভ্যাট সুবিধা প্রত্যাহার করে সাধারণ জ্বালানির মতো ১৫ শতাংশ ভ্যাট পুনর্বহাল করা, সোলার ও উইন্ড সরঞ্জামের ওপর থেকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অগ্রিম কর বাতিল করা এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্মার্ট গ্রিড ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য বিশেষ ‘সবুজ ভর্তুকি’ ও অনুদান বরাদ্দ রাখা।

সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি দাবি করে, বর্তমান কর ও বাজেট-কাঠামো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ্বালানিকে পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কয়লা ও এলএনজির শুল্ক সুবিধা যৌক্তিকীকরণ এবং তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি পেমেন্ট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।

‘ঢলন’ প্রথায় শতকোটি টাকা হারাচ্ছেন রাজশাহীর আমচাষিরা

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:১৭ এএম
‘ঢলন’ প্রথায় শতকোটি টাকা হারাচ্ছেন রাজশাহীর আমচাষিরা
রাজশাহীর আমের বাজার পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর হাট থেকে তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

রাজশাহী বিভাগের আমের বাজারে এখনো বহাল রয়েছে বহু পুরোনো ‘ঢলন’ প্রথা। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেজিভিত্তিক বেচাকেনা চালুর কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক পাইকারি বাজারে কৃষকদের ৪০ কেজির (এক মণ) পরিবর্তে ৫২ থেকে ৫৪ কেজি আম দিতে হচ্ছে। অথচ মূল্য পরিশোধ করা হচ্ছে মাত্র ৪০ কেজিরই। ফলে প্রতি মৌসুমে শত শত কোটি টাকার আম বিনামূল্যে চলে যাচ্ছে ব্যবসায়ীদের হাতে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোর–এ চার জেলায় প্রায় ১২ লাখ ৫৫ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোরের বিভিন্ন আমের মোকাম ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমের ভরা সময়ে আম বিক্রির জন্য তাদের প্রায় পুরোপুরি নির্ভর করতে হয় পাইকার ও আড়তদারদের ওপর। বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় কৃষকদের দর-কষাকষির সুযোগও কম থাকে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এখনো অধিকাংশ বাজারে ‘ঢলন’ নামে পরিচিত অতিরিক্ত ওজন দেওয়ার প্রথা চালু রয়েছে।

দেশের অন্যতম বৃহৎ আমের পাইকারি বাজার চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে প্রতিদিন হাজার হাজার টন আমের বেচাকেনা হয়। কৃষকদের দাবি, এই বাজারেই ঢলন প্রথার প্রভাব সবচেয়ে বেশি। একসময় পরিবহন ও সংরক্ষণজনিত ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এক থেকে দুই কেজি অতিরিক্ত আম দেওয়ার প্রচলন থাকলেও সময়ের সঙ্গে তা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এখন অনেক ক্ষেত্রে ৪০ কেজির মূল্যে ৫৪ কেজি পর্যন্ত আম নিতে দেখা যায়।

এর ফলে কৃষক কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তার হিসাবও সহজ। যদি প্রতি মণ আমের দাম ২ হাজার টাকা হয়, তাহলে কাগজে-কলমে প্রতি কেজির মূল্য দাঁড়ায় ৫০ টাকা। কিন্তু ৫৪ কেজি আম দিয়ে একই টাকা পাওয়ায় কৃষক বাস্তবে প্রতি কেজিতে পান প্রায় ৩৭ টাকা। অর্থাৎ উৎপাদিত পণ্যের প্রায় ২৬ শতাংশ মূল্য তিনি হারাচ্ছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার আমচাষি আলম সরকার বলেন, ‘আমরা ৫২ থেকে ৫৪ কেজি আম দিচ্ছি, কিন্তু দাম পাচ্ছি মাত্র ৪০ কেজির। দিতে না চাইলে অনেক ব্যবসায়ী আম কিনতেই চান না। বাধ্য হয়েই লোকসান মেনে বিক্রি করতে হয়।’

একই সুরে কথা বলেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার আমচাষি মো. শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর ধরে ঢলনের কারণে ক্ষতির শিকার হচ্ছি। বাজারে আম নিয়ে গেলে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত ওজন ছাড়া কিনতে চান না। ফলে বাধ্য হয়েই কম দামে বেশি আম দিতে হয়। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে কার্যকর হলে কৃষকরা উপকৃত হবে এবং আমচাষে আরও উৎসাহ পাবে।’

শিবগঞ্জ আমচাষি সমবায় সমিতির সম্পাদক ইসমাইল খান শামীম বলেন, ‘রাজশাহী বিভাগের চারটি প্রধান আম উৎপাদনকারী জেলায় যে পরিমাণ আম উৎপাদন হয়, তাতে অতিরিক্ত ওজন হিসেবে নেওয়া আমের মূল্য প্রতি মৌসুমে ৫০০ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে। এটি কৃষকদের জন্য বিশাল ক্ষতি।’

চাষিদের অভিযোগ, শুধু অতিরিক্ত ওজনেই শেষ নয়। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা আমের মান, আকার বা পরিবহনজনিত ক্ষতির অজুহাত দেখিয়ে আরও দুই থেকে তিন কেজি আম বেশি দাবি করেন। এতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।

তবে ব্যবসায়ীদের বক্তব্য ভিন্ন। রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বর আমের হাটের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আম সংগ্রহের পর পরিবহন, বাছাই, পচন ও বাজারজাতকরণের সময় বিভিন্ন ধাপে ক্ষতি হয় ও ওজন কমে যায়। এসব কারণে অতিরিক্ত ওজন নেওয়ার প্রচলন তৈরি হয়েছে।

কৃষক ও ব্যবসায়ীদের এই বিরোধ মেটাতে গত বছরের ১১ জুন রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আমচাষি, ব্যবসায়ী, আড়তদার, ইজারাদার ও প্রশাসনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে ঢলনপ্রথা বাতিল করে কেজিভিত্তিক আম বেচাকেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে আড়তদারদের কমিশন প্রতি কেজিতে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।

কিন্তু কৃষকদের অভিযোগ, সিদ্ধান্তটি কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। মাঠপর্যায়ে এর কার্যকর প্রয়োগ দেখা যায়নি। অনেক বাজারে আগের নিয়মেই বেচাকেনা চলছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিষয়টি শুধু আমের বাজারের সমস্যা নয়, এটি দেশের কৃষিপণ্য বিপণন ব্যবস্থার একটি বড় দুর্বলতার প্রতিফলন। উৎপাদনকারী কৃষক ন্যায্য মূল্য না পেলে কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়ন ব্যাহত হবে।

অর্থনীতিবিদ মো. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা একদিকে কম দামে আম কিনছেন, অন্যদিকে অতিরিক্ত ওজনও নিচ্ছেন। ফলে কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের প্রকৃত মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এই সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি আহমেদ শফি উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের আম অর্থনীতির আকার প্রতিবছরই বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় উৎপাদিত আম এখন দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। অথচ উৎপাদনের মূল কেন্দ্রের কৃষকরাই যদি বাজারব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন, তাহলে সেই সাফল্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। তাই আমের বাজারে ‘ঢলন’ প্রথা বন্ধ করে কেজিভিত্তিক স্বচ্ছ বেচাকেনা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এতে যেমন কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন, তেমনি দেশের কৃষি অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি বাজারে বাধ্যতামূলকভাবে ইলেকট্রনিক ওজন যন্ত্র ব্যবহার, ডিজিটাল রসিদ চালু, নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং কৃষক সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করা গেলে এ ধরনের অনিয়ম অনেকটাই কমানো সম্ভব। পাশাপাশি প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার এ এন এম বজলুর রশিদ বলেন, ‘বাড়তি ওজনে আম কেনার কোনো সুযোগ নেই। কেজিভিত্তিক আম বেচাকেনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হবে।’

মূল্যস্ফীতি বেড়েছে : চাপে সাধারণ মানুষ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম
মূল্যস্ফীতি বেড়েছে : চাপে সাধারণ মানুষ
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে মে মাসে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে গত মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পর সর্বোচ্চ। এ ছাড়া টানা দুই মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি আছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মূল্যস্ফীতির ওপর পড়তে শুরু করেছে। এতে সীমিত আয়ের মানুষ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়েছে। গতকাল রবিবার বিবিএস মে মাসের মূল্যস্ফীতির চিত্র প্রকাশ করেছে।

চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে দুই দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়। গত ১৯ এপ্রিল সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করে। সে সময় প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং পেট্রলের দাম ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকায় উন্নীত করা হয়। পরে ৩১ মে আরও এক দফা মূল্য সমন্বয় করা হলেও তা মে মাসের মূল্যস্ফীতির হিসাবে প্রতিফলিত হয়নি।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশে। গ্রাম ও শহর উভয় এলাকাতেই সার্বিক মূল্যস্ফীতি বর্তমানে ৯ শতাংশের বেশি রয়েছে। গত সপ্তাহে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে চলতি জুন মাসে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলে। জীবনযাত্রার খরচ বাড়িয়ে দেয়। পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়ায়। ফলে ভোক্তাদের আগের চেয়ে বেশি দামে পণ্য কিনতে হয়।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেছেন, মূল্যস্ফীতি বাড়লে সীমিত ও মধ্য আয়ের মানুষের কষ্ট বাড়ে। আয় না বাড়লে তাদের সংসার চালানোর খরচ বেড়ে যায়।

অর্থনীতির এই বিশ্লেষক বলেন, মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়াতে হবে। সম্প্রসারণ করতে হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। উৎপাদন বাড়িয়ে পণ্যের সরবরাহ বাড়াতে হবে। রাজস্ব প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা বাড়াতে হবে। বর্তমানে ব্যাংকের সুদের হার বেশি। এত বেশি সুদে উৎপাদন খরচ কমবে না। তাই সুদের হার কমাতে হবে। বেসরকারি খাতে ঋণ ৪ শতাংশে নেমে গেছে। এটা খুবই নেতিবাচক। তা বাড়াতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়েছে। ফলে বাজারে শাকসবজি, মাছ-মাংসের দাম বেড়েছে। চালের দামও কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে।

গত মে মাসে জাতীয় গড় মজুরি হার হয়েছে ৮ দশমিক ২১ শতাংশ। এর মানে হলো যত মূল্যস্ফীতি হয়েছে, এর চেয়ে মজুরি কম বেড়েছে। ফলে বাজার থেকে পণ্য কিনতে ভোগান্তি বাড়ছে। মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধি বা আয় বৃদ্ধি কম হলে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ে। প্রকৃত আয় কমে যায়। মূল্যস্ফীতির তুলনায় আয় না বাড়লে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয় কিংবা খাবার, কাপড়চোপড়, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে কাটছাঁট করতে হয়।

মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি নিয়ে দেশীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদনেও সাধারণ মানুষের ওপর এই ক্রমবর্ধমান চাপের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

সিপিডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধারাবাহিকভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে। নির্দিষ্ট আয়ের ও প্রান্তিক মানুষ আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য করতে না পেরে তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংসার চালাতে গিয়ে সাধারণ মানুষ সঞ্চয় ভেঙে ফেলছেন ও ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, টাকার মান কমেছে। এতে আগে যে অর্থে পরিবারের মৌলিক চাহিদা (চাল, ডাল, তেল ইত্যাদি) পূরণ হতো, তা দিয়ে এখন সম্ভব হচ্ছে না। চাকরিজীবী ও নির্দিষ্ট বেতনের মানুষের আয় না বাড়লেও দৈনন্দিন খরচ হু-হু করে বাড়ছে। খরচ মেটাতে সাধারণ মানুষকে তাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হচ্ছে এবং স্বাস্থ্য বা শিক্ষার মতো অপরিহার্য খাত থেকে ব্যয় কমাতে বাধ্য হচ্ছে। জীবনযাত্রার খরচ সামাল দিতে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জমানো সঞ্চয় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ও ইফাদ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান তাসকীন আহমেদ বলেছেন, ‘ব্যাংক খাতে সুদের হার খুবই বেশি। এত বেশি সুদে ব্যবসা করা কঠিন। বিনিয়োগ বাড়বে না। তাই সুদের হার কমাতে সরকারি হস্তক্ষেপ জরুরি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। তাই মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে বাজেটে ব্যাংক সুদের হার কমাতে হবে। পণ্যের সরবরাহ বাড়াতে হবে। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে। বাজেটের ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকিং খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে করজালের আওতা বাড়াতে হবে। এতে রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।’

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) বর্তমান সভাপতি সাবেক সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান খবরের কাগজকে বলেন, ‘টিসিবির পণ্যের জন্য লাইন দেখলেই বোঝা যায় মূল্যস্ফীতির চাপে আছেন সাধারণ মানুষ। নতুন করে অনেকে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছেন। মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ এখন টিকে থাকতে ডিম, মাছ, মাংস খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে অপুষ্টিও দেখা দিচ্ছে।’