ধানমন্ডি লেক রাজধানীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখাই শুধু নয়, নাগরিকদের স্বস্তির জায়গাও। কিন্তু কিছুদিন ধরে লক্ষ করা যাচ্ছে, লেকটি ক্রমেই দূষিত হয়ে পড়ছে, যা খুবই উদ্বেগজনক। প্রতিদিন সকাল, বিকেল, সন্ধ্যায় শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ হাঁটাহাঁটি করেন। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকেই ঘুরতে আসেন। সবুজ গাছপালার নিচে বসে শরীর-মন শান্ত করেন। শুধু তা-ই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে লেকটি দেখতে আসেন। সবুজ প্রকৃতির মাঝে কিছু সময় কাটান। পরিতাপের বিষয়, সময়ের পথপরিক্রমায় এ লেকের সবুজ শীতল চিত্র পাল্টে যাচ্ছে। পরিবেশবিষয়ক সংগঠন চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের উদ্যোগে প্রকাশিত গবেষণায় ধানমন্ডি লেক-সংশ্লিষ্ট এলাকা কলাবাগানকে ‘হট স্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত জনঘনত্ব, তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি, এলাকায় গাছপালা ও সবুজ আচ্ছাদনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের নিচে নেমে এসেছে। ধানমন্ডি লেক বিনোদন কেন্দ্রটি আজ আর আগের অবস্থায় নেই। কচুরিপানা, বর্জ্য এবং পয়োবর্জ্যের মাধ্যমে লেকটিকে যেভাবে দূষিত করা হয়েছে, তাতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে অচিরেই এটি অসাধুদের দখলে চলে যাবে।
খবরের কাগজের সরেজমিন প্রতিবেদনের তথ্যমতে, লেকের আশপাশের গাছপালার অবস্থা শোচনীয়। অনেক গাছ ভেঙে পড়েছে, কিছু কাটা অবস্থায় রয়েছে, আবার অনেক গাছ হেলে পড়েছে। যথার্থ পরিচর্যার অভাবে গাছগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে, যা এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য আরও নাজুক করে তুলেছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির চিত্র উদ্বেগজনক। লেকের ভেতর ও পাড়ে হকারের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। সেখানে দিনরাত অবাধে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সন্ধ্যার পর এই পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। অবকাঠামোগত সমস্যাও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। লেকের পাশে মসজিদ-উত-তাকওয়া এলাকায় সড়ক দীর্ঘদিন ধরে খোঁড়া অবস্থায় পড়ে আছে। এতে ধুলাবালি ছড়িয়ে এলাকার পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে। প্রায় এক বছর ধরে এ অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ পরিস্থিতিতে যারা নিয়মিত লেকে হাঁটাহাঁটি বা দৌড়াতে আসেন, তারা এখন বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখি হচ্ছেন।
ধানমন্ডি লেকটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন। সংস্থাটি সূত্রে জানা গেছে, লেকের পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং গাছপালার দায়িত্ব আলাদা বিভাগের অধীনে থাকায় সমন্বয়ের অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং অবহেলা আরও বাড়ছে।
রাজধানীর ধানমন্ডি লেকটি এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। লেকের পানি পচে গেছে, কচুরিপানা ও বর্জ্যে ঢেকে যাচ্ছে। দূষণের ছোবলে বাড়ছে মশা ও দুর্গন্ধ। রাজধানীর মানুষ যখন একটু স্বস্তির জন্য ধানমন্ডি লেকে ঘুরতে যান, তখন বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। লেকে ভিক্ষুকের সংখ্যাও অনেক বেড়েছে। অথচ একটা সময় লেকটি ভিক্ষুকমুক্ত ছিল। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি থেকে লেকটি বাঁচাতে কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে।