কিছু নিয়ম মেনে এবং পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে ডায়াবেটিসের রোগীরাও রোজা রাখতে পারবেন। সেজন্য রমজান শুরুর কমপক্ষে ২ থেকে ৩ মাস আগে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে লাইফ স্টাইল রুটিন ঠিক করতে হবে। রমজান সামনে রেখে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে (এসেডবি) ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রিনোলজিস্ট অ্যান্ড ডায়াবেটোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ একথা জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, রোজা রাখা অবস্থায় রক্ত পরীক্ষা করা যায় এবং প্রয়োজন হলে ইনসুলিন ইনজেকশন নেয়া যেতে পারে। আলিমগণের কাছ থেকে আমরা জেনেছি, এতে রোজার কোনো ক্ষতি হয়না। নিয়ম মেনে ডায়াবেটিস রোগী রোজা রাখতে পারবেন। সন্দেহ থাকলে অভিজ্ঞ দ্বীনদার ডাক্তার কিংবা হাক্কানী আলিমদের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে পারেন।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, রোজা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম। তাই রোজা রাখা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানদের জন্য অবশ্যই করণীয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের প্রায় ৮০ ভাগ ডায়াবেটিস রোগীরা রোজা রেখে থাকেন। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সারা বিশ্বের প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডায়াবেটিস রোগী রোজা রাখেন, কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে যারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া রোজা রাখেন তারা বেশ কিছু জটিলতার সম্মুখীন হন, বিশেষ করে (১) রক্তে সুগারের স্বল্পতা (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) (২) রক্তে সুগারের আধিক্য (হাইপারগ্লাইসেমিয়া) (৩) ডায়াবেটিস কিটোএসিডোসিস এবং (৪) পানি শুন্যতা বা ডিহাইড্রেসনে ভোগেন।
এসেডবি (অ্যাসোসিয়েশন অফ ক্লিনিকাল এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট এন্ড ডায়াবেটোলজিস্ট অফ বাংলাদেশ) জানায়, ডায়াবেটিস রোগী রোজা রাখতে পারবেন। যাদের সামর্থ্য আছে তাদের ডায়াবেটিস এমন কোন বাধা নয়। প্রয়োজন পূর্ব প্রস্তুতি। ডায়াবেটিস রোগীরা রমজানের কমপক্ষে ২-৩ মাস (রজব) পূর্বে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রস্তুতি নেবেন। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে রমজানের পূর্বে প্রস্তুতি নিয়ে যারা রোজা রাখেন তাদের হাইপোগ্লাইসেমিয়া সহ অন্যান্য জটিলতা রমজানের পূর্বের চেয়েও অনেক কম হয়। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি সহজে এবং নিরাপদে রোজা রাখার সুযোগ করে দিয়েছে। রোজা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত।
