চীনে বিষাক্ত রাসায়নিক বহন করা জ্বালানি ট্যাঙ্কার ঠিকভাবে পরিষ্কার না করেই ভোজ্যতেল পরিবহন করা হয়েছে দিনের পর দিন। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা দেশ। প্রশ্ন উঠেছে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও।
এরই মধ্যে এ অভিযোগের তদন্তে নামার আশ্বাস দিয়েছে চীন সরকার। ভোজ্যতেলবিষয়ক আলোচনা নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে চীনা অনলাইন সাইটগুলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা সম্ভাব্য খাদ্যদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম বেইজিং নিউজ বলছে, জ্বালানি পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ট্যাঙ্কারগুলোতে ভোজ্যতেল ও সিরাপের মতো খাদ্যপণ্য পরিবহন করতে দেখা গেছে। সেসব ট্যাঙ্কার ভালোভাবে পরিষ্কার করা হয়নি।
বেইজিং নিউজে এক ট্যাঙ্কারচালকের বরাত দিয়ে বলা হয়, দূষিত জ্বালানি বহনকারী ট্র্যাকগুলোতে ভোজ্যতেল পরিবহন করার রীতি বহুল প্রচলিত ছিল। একে অনেকটা ‘ওপেন সিক্রেট’ হিসেবেই বিবেচনা করা হতো।
চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবোতে এ বিষয় নিয়ে এরই মধ্যে কয়েক হাজার পোস্ট করা হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ সেসব পোস্ট দেখেছেন। নানা ধরনের মন্তব্যও আসছে বিভিন্ন পোস্টে। এ রকমই এক মন্তব্যে একজন লিখেছেন, একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকাটাই এক বিস্ময়কর বিষয়।
চীনে ট্যাঙ্কারে পরিবহনের জন্য নির্দিষ্ট পণ্যের তালিকা নেই। ফলে এ সংক্রান্ত তেমন শক্ত কোনো নিয়মও নেই। সেদিক থেকে বিচার করলে, কয়লাভিত্তিক তেল পরিবহনের পরপরই ওই ট্যাঙ্কারে সরাসরি খাদ্য পরিবহন করতে বাধা নেই।
গুঞ্জন রটেছে, এই ভোজ্যতেল কেলেঙ্কারির সঙ্গে চীনের একাধিক বড় বড় প্রতিষ্ঠানও জড়িত। এদের মধ্যে রয়েছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সিনোগ্রেইনের সহায়ক সংস্থা এবং হোপফুল গ্রেইন অ্যান্ড অয়েল গ্রুপ। সিনোগ্রেইনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খাদ্য নিরাপত্তাবিধি সঠিকভাবে মানা হচ্ছে কি-না, তা খতিয়ে দেখছে তারা। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভির খবরে বলা হয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে এবং সহ্য করা হবে না। সূত্র: বিবিসি